দিল্লি — জন সুরক্ষা এবং পেনশন প্রকল্পের ১১ বছর পূর্তি উপলক্ষে শনিবার দেশের মানুষের উদ্দেশে বার্তা দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তিনি বলেন, সাধারণ মানুষের জীবনে মর্যাদা, আর্থিক নিরাপত্তা এবং ভবিষ্যতের নিশ্চয়তা এনে দিতেই কেন্দ্রীয় সরকার এই প্রকল্পগুলি চালু করেছিল। গত এক দশকে এই প্রকল্পগুলি দেশের কোটি কোটি মানুষের জীবনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে বলেও দাবি করেন প্রধানমন্ত্রী।
২০১৫ সালের ৯ মে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর হাত ধরেই চালু হয়েছিল প্রধানমন্ত্রী জীবন জ্যোতি বিমা যোজনা, প্রধানমন্ত্রী সুরক্ষা বিমা যোজনা এবং অটল পেনশন যোজনা। মূলত সমাজের আর্থিকভাবে পিছিয়ে থাকা এবং অসংগঠিত ক্ষেত্রের মানুষদের স্বল্প খরচে বিমা ও পেনশনের সুবিধা দেওয়ার লক্ষ্যেই এই প্রকল্পগুলি চালু করা হয়েছিল।
শনিবার সমাজমাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী লেখেন, ‘১১ বছর আগে এনডিএ সরকার গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক নিরাপত্তা এবং পেনশন প্রকল্প চালু করেছিল। এই প্রকল্পগুলি দেশের মানুষের জীবনে মর্যাদা, আশ্বাস এবং আর্থিক নিরাপত্তা পৌঁছে দেওয়ার আমাদের অঙ্গীকারকে তুলে ধরে।’
প্রধানমন্ত্রী আরও জানান, প্রধানমন্ত্রী জীবন জ্যোতি বিমা যোজনা এবং প্রধানমন্ত্রী সুরক্ষা বিমা যোজনা গ্রামাঞ্চল থেকে শহর— সর্বত্র ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। অন্যদিকে অটল পেনশন যোজনার মাধ্যমে বহু মানুষ বৃদ্ধ বয়সে আর্থিক সুরক্ষা পাচ্ছেন।
বিশেষ করে মহিলাদের অংশগ্রহণের প্রসঙ্গ তুলে মোদী বলেন, ‘নারীশক্তি এই প্রকল্প থেকে বিশেষভাবে উপকৃত হয়েছেন দেখে ভালো লাগছে।’
কেন্দ্রীয় সরকারের তথ্য অনুযায়ী, এই তিনটি জন সুরক্ষা প্রকল্পে এখনও পর্যন্ত মোট নথিভুক্তির সংখ্যা ৯৪ কোটিরও বেশি। প্রধানমন্ত্রী জীবন জ্যোতি বিমা যোজনায় ২৭ কোটির বেশি মানুষ যুক্ত হয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী সুরক্ষা বিমা যোজনায় নথিভুক্ত হয়েছেন ৫৮ কোটিরও বেশি মানুষ। অন্যদিকে অটল পেনশন যোজনায় অংশ নিয়েছেন ৯ কোটির বেশি নাগরিক।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী জীবন জ্যোতি বিমা যোজনার মাধ্যমে এখনও পর্যন্ত ১০ লক্ষেরও বেশি পরিবারকে ২১ হাজার ৫০০ কোটির বেশি টাকার দাবি মিটিয়ে দেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী সুরক্ষা বিমা যোজনার অধীনে ১ লক্ষ ৮৪ হাজারের বেশি পরিবারকে ৩ হাজার ৬৬০ কোটির বেশি টাকার আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে।
কেন্দ্রের দাবি, এই প্রকল্পগুলির মাধ্যমে দেশের সাধারণ মানুষের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক সুরক্ষার ভিত্তি আরও শক্তিশালী হয়েছে।
