পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন ২০২৬-এ একাধিক আসনে চূড়ান্ত ফল নির্ধারিত হয়েছে খুবই অল্প ব্যবধানে, যা এই নির্বাচনের প্রতিদ্বন্দ্বিতার তীব্রতাকেই সামনে এনে দিয়েছে। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, অন্তত ১৮টি কেন্দ্রে জয়ের ব্যবধান ৫ হাজার ভোটেরও কম, যা মোট ভোটারের তুলনায় প্রায় ২ শতাংশের মতো।
এই হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে এগিয়ে রয়েছে বিজেপি, যারা ১৮টির মধ্যে ১১টি আসনে জয় পেয়েছে। অন্যদিকে তৃণমূল কংগ্রেস ৬টি এবং কংগ্রেস ১টি আসনে জয়লাভ করেছে। এছাড়াও প্রায় ২০টি কেন্দ্রে জয়ের ব্যবধান ৫ হাজার থেকে ১০ হাজার ভোটের মধ্যে থাকায় গোটা নির্বাচনে টানটান উত্তেজনা ছিল বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
সবচেয়ে কম ব্যবধানে জয় হয়েছে রাজারহাট নিউ টাউনে, যেখানে বিজেপি প্রার্থী Pijush Kanodia মাত্র ৩১৬ ভোটে তৃণমূলের Tapas Chatterjee-কে পরাজিত করেন। এছাড়াও ইন্দাস, জাঙ্গিপাড়া, রায়না ও সাতগাছিয়া—এই চার কেন্দ্রে জয়ের ব্যবধান ১ হাজারেরও কম ছিল।
ইন্দাসে বিজেপির Nirmal Kumar Dhara ৯০০ ভোটে জয় পান, জাঙ্গিপাড়ায় Prasenjit Bag জেতেন ৮৬২ ভোটে। রায়নায় Subhashis Patra ৮৩৪ ভোটে এবং সাতগাছিয়ায় Agnishwar Naskar মাত্র ৪০১ ভোটে জয়ী হন।
অন্যদিকে একাধিক কেন্দ্রে ২-৪ হাজার ভোটের ব্যবধানেও ফল নির্ধারিত হয়েছে। আমডাঙা, আমতা, চাঁপদানি, হরিপাল, কাশীপুর-বেলগাছিয়া, লাবপুর, মধ্যমগ্রাম, মন্দিরবাজার—সব জায়গাতেই হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হয়েছে।
উলুবেড়িয়া উত্তরে বিজেপির Chiran Bera ২,১৭৭ ভোটে জয় পান। অন্যদিকে রানিনগরে কংগ্রেস প্রার্থী Julfikar Ali ২,৭০১ ভোটে জয়ী হয়ে এই তালিকায় একমাত্র কংগ্রেসের সাফল্য এনে দেন।
কিছু ক্ষেত্রে ব্যবধান ৫ হাজারের একটু বেশি হলেও রাজনৈতিক গুরুত্ব ছিল যথেষ্ট। হিঙ্গলগঞ্জে বিজেপির Rekha Patra ৫,৪২১ ভোটে জয় পান। আবার কামারহাটিতে তৃণমূলের Madan Mitra ৫,৬৪৬ ভোটে নিজের আসন ধরে রাখতে সক্ষম হন।
রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ফলাফল স্পষ্ট করে দিচ্ছে যে, অল্প ভোটের ওঠানামাই শেষ পর্যন্ত বড় জনাদেশ নির্ধারণ করেছে। ফলে ভবিষ্যতের নির্বাচনে প্রতিটি ভোট কতটা গুরুত্বপূর্ণ, তা আবারও প্রমাণিত হল।
