দেশের জনগণনার ইতিহাসে বড় পরিবর্তনের পথে কেন্দ্র। ২০২৭ সালের জনগণনা হবে সম্পূর্ণ ডিজিটাল পদ্ধতিতে, যেখানে মোবাইলভিত্তিক তথ্য সংগ্রহের মাধ্যমে আরও নির্ভুল ও বিস্তৃত তথ্য পাওয়া যাবে বলে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় তথ্যপত্র। এই উদ্যোগের লক্ষ্য হল তথ্যভিত্তিক নীতি নির্ধারণকে আরও শক্তিশালী করা এবং সর্বস্তরের উন্নয়ন নিশ্চিত করা।
এই জনগণনায় একাধিক নতুন ব্যবস্থা চালু করা হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে প্রায় তাৎক্ষণিক তথ্য পর্যবেক্ষণের সুবিধা, স্বেচ্ছায় নিজের তথ্য জমা দেওয়ার সুযোগ এবং ভৌগোলিক ভিত্তিতে নির্দিষ্ট এলাকা চিহ্নিত করে তথ্য সংগ্রহ। এর ফলে তথ্য সংগ্রহের প্রক্রিয়া আরও স্বচ্ছ ও কার্যকর হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
কেন্দ্রের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এবার জনগণনায় জাতিভিত্তিক তথ্য সংগ্রহও অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। এর আগে নির্দিষ্টভাবে তফসিলি জাতি ও তফসিলি জনজাতির তথ্যই সংগ্রহ করা হত। ফলে এই সিদ্ধান্তকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।
এই বিশাল কর্মসূচির জন্য বিপুল অর্থ বরাদ্দ করা হয়েছে এবং তথ্য সুরক্ষার ক্ষেত্রেও বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। নিরাপদ তথ্যভান্ডার এবং প্রশিক্ষিত কর্মীবাহিনীর মাধ্যমে সঠিক তথ্য সংগ্রহ নিশ্চিত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
২০২৭ সালের জনগণনা দুটি ধাপে সম্পন্ন হবে, যাতে দেশের প্রতিটি প্রান্ত থেকে সুসংগঠিত ভাবে তথ্য সংগ্রহ করা যায়। খাদ্য, জল, শক্তি ও পরিকাঠামোর মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে পরিকল্পনা গ্রহণে এই তথ্য অত্যন্ত কার্যকর হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ডিজিটাল জনগণনা ভবিষ্যতের নীতি নির্ধারণে নতুন দিশা দেখাবে। দ্রুত বদলে যাওয়া সামাজিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে পরিকল্পনা গ্রহণে এই তথ্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে।
