লন্ডন ও ঢাকা: বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জীবন আরও কঠিন হয়ে উঠছে। খাদ্য সহায়তা কমে যাওয়ায় ইতিমধ্যেই বিপন্ন পরিস্থিতির মধ্যে থাকা লক্ষাধিক মানুষের সামনে এখন নতুন করে অনাহারের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
একটি সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, বাংলাদেশে থাকা প্রায় ১২ লক্ষ রোহিঙ্গা শরণার্থী প্রতি মাসে মাথাপিছু যে সামান্য খাদ্য সহায়তা পেতেন, তা আরও কমে গিয়েছে। এতদিন যে অর্থে কোনওমতে দিন চলত, এখন সেই পরিমাণও অনেকের ক্ষেত্রে কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। ফলে পরিবারগুলির নিত্যদিনের খাবার জোগাড় করাই কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
২০১৭ সালে মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর অত্যাচার থেকে বাঁচতে প্রাণ হাতে করে বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছিলেন এই রোহিঙ্গারা। কিন্তু এখানে এসেও তাঁদের অধিকাংশের কাজ করার অধিকার নেই। ফলে সম্পূর্ণভাবেই তাঁরা নির্ভরশীল বাইরের সাহায্যের উপর।
নতুন ব্যবস্থায় পরিবারভিত্তিক সহায়তা নির্ধারণ করা হচ্ছে। এতে অনেকের প্রাপ্য কমে গিয়ে এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে, যা দিয়ে একটি পরিবারের মৌলিক খাদ্য চাহিদাও মেটানো সম্ভব নয়। শিবিরের বাসিন্দাদের একাংশ জানিয়েছেন, আগেও কষ্টে দিন কাটত, কিন্তু এখন পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠছে।
বিশেষ করে শিশুদের ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। পর্যাপ্ত খাদ্য না পেলে অপুষ্টি, অসুস্থতা এবং মৃত্যুর ঝুঁকি বাড়ছে। একইসঙ্গে শিবিরে নিরাপত্তাহীনতাও বাড়ছে বলে অভিযোগ। স্কুল বন্ধ হয়ে যাওয়ার ফলে শিশুদের অপহরণ, অল্প বয়সে বিয়ে এবং শ্রমে ঠেলে দেওয়ার ঘটনা বেড়েছে।
এই পরিস্থিতিতে শিবিরে ক্ষোভও বাড়ছে। খাদ্য সহায়তা কমানোর প্রতিবাদে অনেক রোহিঙ্গা বিক্ষোভ দেখিয়েছেন। তাঁদের দাবি, খাদ্য পাওয়া কোনও দয়া নয়, এটি তাঁদের অধিকার। বিশেষজ্ঞদের মতে, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে এই সংকট আরও গভীর হবে এবং মানবিক বিপর্যয়ের আশঙ্কা বাড়বে।
previous post
