Abhishek Banerjee জাতীয় নির্বাচন কমিশন ও মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুললেন। মঙ্গলবার কলকাতার Metro Channel-এ অবস্থান মঞ্চ থেকে তিনি অভিযোগ করেন, কমিশনের আচরণ নিরপেক্ষতার প্রশ্ন তুলছে।
অভিষেকের দাবি, কলকাতায় প্রায় পাঁচ হাজার হোটেল থাকা সত্ত্বেও Election Commission of India-এর ফুল বেঞ্চ কেন নিউটাউনের সেই হোটেলে উঠেছে, যেখানে দিল্লি থেকে আসা বিজেপি নেতারা সাধারণত থাকেন। তাঁর বক্তব্য, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী Amit Shah, বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি কিংবা বিজেপি শাসিত রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীরা কলকাতায় এলে যে হোটেলে থাকেন, নির্বাচন কমিশনের সদস্যরাও সেই একই হোটেলে উঠেছেন।
ডায়মন্ড হারবারের সাংসদের অভিযোগ, “এটা নিছক কাকতালীয় হতে পারে না। যাঁদের অঙ্গুলিহেলনে বাংলার মানুষের উপর অত্যাচার হয়েছে, তাঁদের ব্যবহৃত হোটেলেই কমিশনার কেন উঠবেন?”
অভিষেক আরও দাবি করেন, বিজেপির নির্দেশেই নাকি বাংলার প্রায় ৬০ লক্ষ ৭ হাজার ভোটারের নাম ‘আন্ডার অ্যাডজুডিকেশন’-এ রাখা হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, এর ফলে আসন্ন নির্বাচনে বহু মানুষ ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন না। তাঁর কথায়, এই নির্বাচন কমিশন নিরপেক্ষ নয় এবং গণতন্ত্রকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।
তাঁর দাবি, যে ৬০ লক্ষ ভোটারের নাম নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে, তাঁদের মধ্যে ৮০ শতাংশের বেশি মানুষ ‘ম্যাপড’। অর্থাৎ ২০০২ সালের তথ্য অনুযায়ী তাঁদের পরিবার ও নাগরিকত্বের তথ্য আগে থেকেই নথিভুক্ত রয়েছে।
এছাড়াও তিনি অভিযোগ করেন, গরিব মানুষের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের টাকা আত্মসাৎ করার একটি বৃহত্তর চক্রান্ত চলছে। তাঁর দাবি, ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়ার পরে সাধারণ মানুষ যখন ব্যাঙ্কে কেওয়াইসি আপডেট করতে যাবেন, তখন ভোটার কার্ড চাওয়া হতে পারে। তা দেখাতে না পারলে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করে দেওয়া হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।
এদিন বক্তব্য রাখতে গিয়ে অমিত শাহের ‘পরিবারতন্ত্র’ মন্তব্যেরও পাল্টা দেন অভিষেক। তিনি বলেন, “আমি একাধিক নির্বাচনে জিতে সাংসদ হয়েছি। কিন্তু আপনার ছেলে Jay Shah কোন অগ্নিপরীক্ষা দিয়ে বিসিসিআই সচিব ও আইসিসি চেয়ারম্যান হলেন, তা মানুষকে বুঝিয়ে বলুন।”
অভিষেক চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে বলেন, সংসদে যদি এমন বিল আনা হয় যেখানে এক পরিবার থেকে একজনই রাজনীতি করতে পারবেন বলা হবে, তবে তিনি সেই বিলের পক্ষে ভোট দিয়ে রাজনীতি ছেড়ে দেবেন।
