আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে। দীর্ঘ টানাপড়েনের পর শনিবার সরাসরি ইরানের ভূখণ্ডে যৌথ হামলা চালিয়েছে আমেরিকা ও ইজরায়েল। নিহত হয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই। এই যুদ্ধপরিস্থিতির আবহেই দেশে একলাফে অনেকটা বেড়ে গেল রান্নার গ্যাসের দাম, বিশেষত বাণিজ্যিক এলপিজি সিলিন্ডারের ক্ষেত্রে।
মাসের শুরুতে গ্যাসের দাম সংশোধন করার প্রচলিত নিয়ম মেনেই ১ মার্চ নতুন মূল্য ঘোষণা করা হয়েছে। ১৯ কেজির বাণিজ্যিক এলপিজি সিলিন্ডারের দাম এক ধাক্কায় ৩১ টাকা বেড়েছে। ফলে কলকাতায় এই সিলিন্ডারের নতুন দাম দাঁড়িয়েছে ১৮৭৫ টাকা ৫০ পয়সা। রবিবার থেকেই কার্যকর হচ্ছে এই নতুন দর। শুধু কলকাতাই নয়, দেশের অন্যান্য মেট্রো শহরেও একইভাবে মূল্যবৃদ্ধি হয়েছে।
উল্লেখ্য, ১৯ কেজির সিলিন্ডার মূলত হোটেল, রেস্তরাঁ এবং বিভিন্ন বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে ব্যবহৃত হয়। গত কয়েক মাস ধরেই বাণিজ্যিক গ্যাসের দামে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। চলতি বছরের ১ জানুয়ারি ২০২৬-এ ১১১ টাকা এবং ১ ফেব্রুয়ারিতে আরও ৪৯ টাকা বেড়েছিল এই সিলিন্ডারের দাম। মার্চ মাসেও সেই ধারাবাহিকতা বজায় রইল। টানা মূল্যবৃদ্ধির জেরে পরিষেবা খাতে খরচ বাড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে, যার প্রভাব পড়তে পারে সাধারণ গ্রাহকদের উপরও।
তবে আপাতত স্বস্তি রয়েছে গৃহস্থালি গ্রাহকদের জন্য। ১৪ কেজির গৃহস্থালি এলপিজি সিলিন্ডারের দামে কোনও পরিবর্তন হয়নি। বহু মাস ধরেই এর দাম ৮৭৯ টাকায় স্থির রয়েছে।
বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দামের ওঠানামার উপর নির্ভর করেই দেশের তেল বিপণন সংস্থাগুলি গ্যাসের মূল্য নির্ধারণ করে। বর্তমান আমেরিকা–ইজরায়েল–ইরান সংঘাতের জেরে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম আরও বাড়তে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। সে ক্ষেত্রে আগামী দিনে পেট্রোল ও গ্যাসের দাম আরও বাড়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
