সংবাদ কলকাতা, ১ মার্চ: ২০২৪ সালের ১৩ নভেম্বর উত্তর ২৪ পরগনার জগদ্দল থানার কাছে এক চায়ের দোকানে দুষ্কৃতিদের গুলিতে নিহত হন ভাটপাড়ার তৃণমূল নেতা অশোক সাউ। ঘটনার পরপরই তদন্তে নামে জগদ্দল থানার পুলিশ এবং সাতজনকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তাঁদের মধ্যে দু’জন জামিনে মুক্তি পান।
তবে শুরু থেকেই পুলিশি তদন্তে আস্থা হারায় নিহত নেতার পরিবার। তাঁদের অভিযোগ ছিল, প্রকৃত মূলচক্রীদের গ্রেফতার করা হয়নি। সেই কারণেই তাঁরা হাইকোর্টে এনআইএ তদন্তের দাবি জানিয়ে আবেদন করেন।
পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে কলকাতা হাইকোর্ট এই খুনের মামলার তদন্তভার কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা National Investigation Agency-এর হাতে তুলে দেয়। আদালতের এই নির্দেশের পরই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তীব্র বাকযুদ্ধ।
বিজেপির তরফে ব্যারাকপুরের প্রাক্তন সাংসদ Arjun Singh দাবি করেন, “ঘটনাস্থলে বোমা ব্যবহারের প্রমাণ রয়েছে বলেই আদালত এনআইএ তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে।” তাঁর বক্তব্য, রাজ্যে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতির দিকেই যাচ্ছে।
অন্যদিকে, তৃণমূল কংগ্রেসের জগদ্দল বিধায়ক Somnath Shyam পাল্টা অভিযোগ তুলে বলেন, “এই খুনের ঘটনায় বিজেপিরই যোগ রয়েছে। রাজনৈতিকভাবে তৃণমূল কর্মীদের ফাঁসাতেই এনআইএ তদন্তের দাবি তোলা হয়েছিল।”
উত্তর ২৪ পরগনার শিল্পাঞ্চল ভাটপাড়া-জগদ্দল অঞ্চল দীর্ঘদিন ধরেই রাজনৈতিক সংঘর্ষের জন্য সংবেদনশীল বলে পরিচিত। এই হত্যাকাণ্ডের তদন্ত এখন এনআইএ-র হাতে যাওয়ায় মামলা নতুন মোড় নিল বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
এনআইএ এখন পর্যন্ত কী কী পদক্ষেপ নিয়েছে, সে বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি। তবে কেন্দ্রীয় সংস্থার তদন্ত শুরু হলে পূর্ববর্তী পুলিশি তদন্তের নথি, গ্রেফতার অভিযুক্তদের জিজ্ঞাসাবাদ এবং ফরেনসিক রিপোর্ট খতিয়ে দেখা হবে বলেই সূত্রের খবর।
এই মামলার পরবর্তী অগ্রগতি এবং রাজনৈতিক প্রভাব এখন রাজ্য রাজনীতিতে বড় প্রশ্ন হয়ে উঠেছে।
