২৩ অভিযুক্তকেই অব্যাহতি দিল আদালত
দিল্লির Rouse Avenue Court-এর বিশেষ আদালত আবগারি নীতি মামলায় প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী Arvind Kejriwal, তাঁর প্রাক্তন উপমুখ্যমন্ত্রী Manish Sisodia-সহ মোট ২৩ জন অভিযুক্তকেই অব্যাহতি দেওয়ার পর আবেগঘন প্রতিক্রিয়া দেন কেজরিওয়াল। আদালতের বাইরে সাংবাদিকদের সামনে তিনি ভেঙে পড়েন এবং বলেন, “আমি দুর্নীতিগ্রস্ত নই।”
আম আদমি পার্টির জাতীয় আহ্বায়ক কেজরিওয়াল বলেন, “আদালত বলেছে কেজরিওয়াল ও মনীশ সিসোদিয়া সৎ।” তিনি জানান, তাঁর বিচারব্যবস্থার উপর পূর্ণ আস্থা ছিল এবং তিনি সবসময় বিশ্বাস করেছেন যে সত্যেরই জয় হয়।
‘মোদী-শাহর চক্রান্ত’ অভিযোগ
কেজরিওয়াল প্রধানমন্ত্রী Narendra Modi এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী Amit Shah-এর বিরুদ্ধে রাজনৈতিক চক্রান্তের অভিযোগ তোলেন। তাঁর দাবি, আম আদমি পার্টিকে শেষ করে দিতে এবং দলের শীর্ষ নেতৃত্বকে জেলে পাঠাতেই এই মামলা ব্যবহার করা হয়েছে।
তিনি বলেন, “মোদীজি ও অমিত শাহ মিলে আম আদমি পার্টিকে শেষ করার সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র করেছিলেন। পাঁচজন বড় নেতাকে জেলে পাঠানো হয়। একজন কার্যরত মুখ্যমন্ত্রীকে বাড়ি থেকে টেনে হিঁচড়ে জেলে নিয়ে যাওয়া হয়।”
আদালতের পর্যবেক্ষণ
এই মামলাটি দায়ের করেছিল Central Bureau of Investigation (সিবিআই)। বিশেষ বিচারক (পিসি অ্যাক্ট) জিতেন্দর সিং রায়ে বলেন, আবগারি নীতি প্রণয়নে কোনও বৃহত্তর ষড়যন্ত্র বা অপরাধমূলক অভিপ্রায়ের প্রমাণ মেলেনি। প্রসিকিউশনের অভিযোগ বিচারিক পর্যবেক্ষণে টেকেনি এবং কেবল অনুমাননির্ভর ছিল।
আদালত জানায়, ২৩ জনের বিরুদ্ধে প্রাথমিকভাবে (prima facie) অভিযোগ গঠনের মতো কোনও উপাদান নেই। ফলে সকলকেই অব্যাহতি দেওয়া হয়।
সিবিআইয়ের তদন্তে প্রশ্ন, বিভাগীয় তদন্তের ইঙ্গিত
আদালত সিবিআইয়ের তদন্ত পদ্ধতি নিয়েও কড়া মন্তব্য করে। বিশেষ করে কোনও অভিযুক্তকে ক্ষমা দিয়ে ‘অ্যাপ্রুভার’ বানিয়ে তাঁর বয়ানের মাধ্যমে তদন্তের ফাঁক পূরণের চেষ্টা সংবিধানসম্মত নয় বলে মন্তব্য করা হয়।
এছাড়াও, জনসেবক কুলদীপ সিংকে প্রধান অভিযুক্ত (অভিযুক্ত নম্বর এক) করার সিদ্ধান্ত নিয়ে সংশ্লিষ্ট সিবিআই আধিকারিকদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্তের সুপারিশ করা হবে বলেও আদালত ইঙ্গিত দেয়।
আবগারি নীতিতে কী অভিযোগ ছিল?
২০২১-২২ সালের দিল্লি আবগারি নীতি তৎকালীন Aam Aadmi Party (আপ) সরকার চালু করেছিল। পরে দুর্নীতির অভিযোগে তা প্রত্যাহার করা হয়।
সিবিআইয়ের দাবি ছিল, লাইসেন্স ফি কমানো ও মুনাফার হার নির্দিষ্ট করে কিছু বেসরকারি সংস্থাকে সুবিধা দেওয়া হয়েছিল, যার ফলে ঘুষ লেনদেন হয়েছে এবং দিল্লি সরকারের আর্থিক ক্ষতি হয়েছে।
২০২২ সালের আগস্টে দিল্লির লেফটেন্যান্ট গভর্নর VK Saxena-র অভিযোগের ভিত্তিতে এফআইআর দায়ের করা হয়।
‘মানি লন্ডারিং মামলাও স্বয়ংক্রিয়ভাবে শেষ’
তেলঙ্গানা জাগৃতি নেত্রী কে কবিতার আইনজীবী নীতেশ রানা জানান, মূল নির্ধারিত অপরাধ (predicate offence) খারিজ হয়ে যাওয়ায় মানি লন্ডারিং মামলাও আর টেকসই নয়। কারণ সেই মামলা মূল অভিযোগের উপরই নির্ভরশীল ছিল।
