February 27, 2026
দেশ বিদেশ

রক্তাক্ত সীমান্ত, গভীরতর হচ্ছে আফগানিস্তান–পাকিস্তান দ্বন্দ্ব

Afghanistan ও Pakistan-এর মধ্যে সম্পর্ক এক বিপজ্জনক মোড়ে পৌঁছেছে। পূর্ব আফগানিস্তানের নানগরহার ও পাকতিকা প্রদেশে পাকিস্তানি বিমান হামলার পর বেসামরিক হতাহতের খবর সামনে আসতেই ক্ষোভ ছড়িয়েছে। নারী ও শিশুসহ সাধারণ মানুষের মৃত্যু নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলেও উদ্বেগ বাড়ছে।

মানবাধিকার সংস্থা ও রাষ্ট্রসংঘের বিভিন্ন সংস্থা সতর্কবার্তা দিয়ে জানিয়েছে, সীমান্ত পেরিয়ে পাকিস্তানের সামরিক কৌশল অতিরিক্ত আগ্রাসী এবং তা অযোদ্ধা নাগরিকদের উপর অসামঞ্জস্যপূর্ণ প্রভাব ফেলছে।

তালিবান-ঘনিষ্ঠ স্থানীয় সূত্রের দাবি, নানগরহারের বেহসুদ জেলায় এক বিমান হামলায় একটি পরিবারের ১৮ জন সদস্য নিহত হন। ২৪ জনের ওই পরিবারের মাত্র চারজন বেঁচে যান বলে জানা গেছে। মৃতদের মধ্যে পরিবারের কর্তা শাহাবুদ্দিনও ছিলেন। নিহতদের মধ্যে অন্তত ১১ জন শিশু ছিল বলে অভিযোগ। পাঁচজন এখনও নিখোঁজ।

নানগরহারের খোগিয়ানি, ঘানি খিল ও বেহসুদ জেলার পাশাপাশি পাকতিকার বারমাল জেলাতেও হামলার খবর মিলেছে। একটি মাদ্রাসায় বোমা পড়ে আট ছাত্রের মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি, যাদের মধ্যে তিনজন মেয়ে। এছাড়া গবাদি পশু চরাতে গিয়ে কয়েকজন শিশুও আহত হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

United Nations Assistance Mission in Afghanistan (ইউএনএএমএ) নিশ্চিত করেছে যে সাম্প্রতিক হামলায় বেসামরিক হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। তাদের তথ্য অনুযায়ী, শুধু বেহসুদ জেলাতেই অন্তত ১৩ জন সাধারণ নাগরিক নিহত হয়েছেন। ইউএনএএমএ উভয় পক্ষকে অবিলম্বে উত্তেজনা কমানো এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন—বিশেষ করে পার্থক্য নির্ধারণ, সামঞ্জস্য ও সতর্কতার নীতিমালা—মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে।

Amnesty International-ও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে নিরপেক্ষ, স্বাধীন ও পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি তুলেছে।

এই ঘটনা একক নয়। ২০২৫ সালের অক্টোবর থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে সীমান্ত সংঘর্ষ তীব্র হলে ইউএনএএমএ জানায়, পাকিস্তানি সামরিক অভিযানে ৭০ জন বেসামরিকের মৃত্যু এবং ৪৭৮ জন আহত হন। ধারাবাহিকভাবে সাধারণ মানুষই এই সংঘর্ষের বলি হচ্ছেন—এমন ধারণা আফগান সমাজে আরও জোরদার হচ্ছে।

সাম্প্রতিক হামলা কাবুল ও ইসলামাবাদের সম্পর্ককে আরও নড়বড়ে করে দিয়েছে। আফগানিস্তান সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলছে, আর পাকিস্তান বলছে তারা নিরাপত্তাজনিত কারণেই পদক্ষেপ নিচ্ছে। তবে বাড়তে থাকা বেসামরিক হতাহতের ঘটনা সামরিক পদক্ষেপের সামঞ্জস্য ও উদ্দেশ্য নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলছে।

আফগান পর্যবেক্ষকদের একাংশের মতে, পাকিস্তানের আগ্রাসী অবস্থানের পেছনে আঞ্চলিক ভূ-রাজনীতি ও বৃহত্তর কৌশলগত সমীকরণও ভূমিকা রাখতে পারে। যদিও ইসলামাবাদ একে সন্ত্রাসবিরোধী পদক্ষেপ বলেই ব্যাখ্যা করছে।

নানগরহারে যখন একের পর এক দাফন অনুষ্ঠান চলছে এবং পরিবারগুলি নিখোঁজ স্বজনদের খুঁজছে, তখন এই সংঘাতের মানবিক মূল্য আরও স্পষ্ট হয়ে উঠছে। আন্তর্জাতিক মহল জবাবদিহি, স্বচ্ছতা এবং বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করেছে।

অর্থবহ সংযম ও প্রকৃত কূটনৈতিক উদ্যোগ না এলে আফগানিস্তান–পাকিস্তান সম্পর্ক দীর্ঘস্থায়ী বৈরিতার দিকে এগোতে পারে—যেখানে সবচেয়ে বেশি মূল্য দিতে হবে সাধারণ মানুষকেই।

Related posts

Leave a Comment