শিলচর: আসামের কাছাড় জেলায় দেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী Jawaharlal Nehru-র পূর্ণাবয়ব মূর্তি ভাঙচুরের ঘটনাকে ঘিরে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে বরাক উপত্যকায়। লক্ষ্মীপুর থানার অন্তর্গত পাইলাপুল বাজার এলাকায় স্থাপিত মূর্তিটি পরিকল্পিতভাবে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসতেই রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে নিন্দার ঝড় উঠেছে। অনেকেই এই ঘটনাকে কেবল ভাঙচুর নয়, ঐতিহাসিক স্মৃতি মুছে দেওয়ার বিপজ্জনক প্রবণতা হিসেবে দেখছেন।
মঙ্গলবার ভোরে পাইলাপুল এলাকায় নেহরু কলেজের সামনে থাকা মূর্তিটিকে ভাঙা অবস্থায় মাটিতে পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয় বাসিন্দারা। ২০০০ সালে স্থাপিত এই মূর্তিটি দীর্ঘদিন ধরেই এলাকার একটি গুরুত্বপূর্ণ স্মারক হিসেবে পরিচিত ছিল। স্থানীয়দের একাংশ জানান, সকালে বাজারে এসে তাঁরা প্রথম ভাঙচুরের চিহ্ন দেখতে পান এবং সঙ্গে সঙ্গে পুলিশকে খবর দেন।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিশ। প্রাথমিকভাবে অনুমান করা হয়েছিল, পুরনো কাঠামো হওয়ায় হয়তো মূর্তিটি নিজে থেকেই ভেঙে পড়ে থাকতে পারে। তবে পরে এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে সম্পূর্ণ ভিন্ন ছবি সামনে আসে। ফুটেজে দেখা যায়, গভীর রাতে একদল দুষ্কৃতী একটি বুলডোজার এনে মূর্তিটি গুঁড়িয়ে দেয়। এরপর দ্রুত সেখান থেকে সরে পড়ে তারা।
ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই শিলচরে পৌঁছন কংগ্রেস নেতৃত্ব। স্থানীয় থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়। জেলা কংগ্রেস সভাপতি সজল আচার্য দাবি করেন, ‘নির্বাচনের আগে জনগণের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি করতেই এই ঘটনা ঘটানো হয়েছে।’ তাঁর অভিযোগ, এটি বিচ্ছিন্ন ভাঙচুর নয়, পরিকল্পিত রাজনৈতিক পদক্ষেপ।
কংগ্রেসের আরও অভিযোগ, এই ঘটনার পিছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য রয়েছে। দলের নেতাদের বক্তব্য, মতাদর্শগত মতভেদ থাকতেই পারে, কিন্তু দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের অন্যতম স্থপতির স্মারক ধ্বংস করা গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির পরিপন্থী।
এ দিকে, এই ঘটনায় আসামের মুখ্যমন্ত্রী Himanta Biswa Sarma-র ঘনিষ্ঠ এক বিজেপি বিধায়কের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছে কংগ্রেস। যদিও অভিযোগের প্রেক্ষিতে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও প্রতিক্রিয়া জানায়নি Bharatiya Janata Party।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, সিসিটিভি ফুটেজের ভিত্তিতে অভিযুক্তদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে যাতে নতুন করে উত্তেজনা না ছড়ায়। ঘটনাকে কেন্দ্র করে কাছাড় জেলা জুড়ে চাপা উত্তেজনা রয়েছে। প্রশাসনের তরফে শান্তি বজায় রাখার আবেদন জানানো হয়েছে। তদন্তের অগ্রগতি এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়, সেদিকেই এখন নজর রয়েছে সকলের।
previous post
