February 27, 2026
রাজ্য

বিধানসভা ভোটের আগে রাজ্যজুড়ে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন

উত্তর ২৪ পরগনায় সর্বাধিক ৩০ কোম্পানি

সংবাদ কলকাতা:আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে নিরাপত্তা ব্যবস্থায় বড় পদক্ষেপ করল নির্বাচন কমিশন। প্রাথমিক পর্যায়ে রাজ্যের কোন জেলায় কত কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হবে, তার খসড়া চূড়ান্ত হয়েছে। আগামী ১ মার্চ থেকেই রাজ্যজুড়ে ধাপে ধাপে এই বাহিনী নামানো শুরু হবে বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে।

সবচেয়ে বেশি বাহিনী মোতায়েন করা হচ্ছে উত্তর ২৪ পরগনায়। তিনটি পুলিশ জেলা ও দু’টি কমিশনারেট মিলিয়ে সেখানে মোট ৩০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী রাখা হচ্ছে। নির্বাচন কমিশনের মতে, জনঘনত্ব, অতীতের ভোট-সংক্রান্ত পরিস্থিতি এবং স্পর্শকাতর এলাকার নিরিখে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই জোনের দায়িত্বে থাকবেন শালিনি তুলসন ও সরভানু ঘোষাল।

কলকাতাতেও ১২ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী নামানো হচ্ছে। শহরের বিভিন্ন স্পর্শকাতর এলাকা ও গুরুত্বপূর্ণ বুথ চিহ্নিত করে মোতায়েনের রূপরেখা তৈরি করা হয়েছে। মুর্শিদাবাদের দুই পুলিশ জেলায় মোট ১৬ কোম্পানি বাহিনী রাখা হবে। হাওড়ায় কমিশনারেট ও পুলিশ জেলা মিলিয়ে ১৫ কোম্পানি এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনার তিনটি পুলিশ জেলায় ১৫ কোম্পানি বাহিনী মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

পূর্ব মেদিনীপুর ও হুগলিতে ১৪ কোম্পানি করে বাহিনী পাঠানো হচ্ছে। মালদহ ও নদিয়া, দুই পুলিশ জেলা মিলিয়ে, ১২ কোম্পানি করে বাহিনী পাবে। উত্তর দিনাজপুরে ১১ এবং দক্ষিণ দিনাজপুরে ১০ কোম্পানি মোতায়েন করা হবে।

দার্জিলিঙের পার্বত্য এলাকা ও শিলিগুড়ি মিলিয়ে মোট ৯ কোম্পানি বাহিনী রাখা হচ্ছে। কোচবিহারেও ৯ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। পূর্ব বর্ধমানে থাকবে ৮ কোম্পানি। বাঁকুড়া, বীরভূম, পশ্চিম বর্ধমান, পশ্চিম মেদিনীপুর ও জলপাইগুড়িতে ৭ কোম্পানি করে বাহিনী মোতায়েন করা হবে।

নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, ভোট প্রক্রিয়া নির্বিঘ্ন ও শান্তিপূর্ণ করতে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই মূল লক্ষ্য। স্পর্শকাতর বুথ চিহ্নিতকরণ, রুট মার্চ এবং এলাকায় এলাকায় আস্থা বৃদ্ধির কর্মসূচিও নেওয়া হবে।

প্রশাসনের এক কর্তার কথায়, ‘ভোট যাতে সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ পরিবেশে হয়, তার জন্য আগাম প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। কেন্দ্রীয় বাহিনীর উপস্থিতি ভোটারদের আস্থা বাড়াবে।’ রাজ্যজুড়ে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের এই সিদ্ধান্তকে নির্বাচন প্রস্তুতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। আগামী দিনে বাহিনীর সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলেও ইঙ্গিত মিলেছে।

Related posts

Leave a Comment