নয়াদিল্লি, ২১ ফেব্রুয়ারি : ভারত ও ব্রাজিলের ‘উইন-উইন পার্টনারশিপ’ গোটা গ্লোবাল সাউথের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে মন্তব্য করলেন প্রধানমন্ত্রী Narendra Modi। হায়দরাবাদ হাউসে ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট Luiz Inacio Lula da Silva-র সঙ্গে প্রতিনিধিস্তরের বৈঠকের পর যৌথ সাংবাদিক বৈঠকে তিনি জানান, আগামী দশ বছরে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ২০ বিলিয়ন ডলারের উপরে নিয়ে যেতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ দুই দেশ।
লাতিন আমেরিকায় ব্রাজিলই ভারতের বৃহত্তম বাণিজ্যিক অংশীদার বলেও উল্লেখ করেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে দুই দেশের সহযোগিতা শুধু ভারত ও ব্রাজিলের জন্য নয়, সমগ্র গ্লোবাল সাউথের জন্য তাৎপর্যপূর্ণ। ব্রাজিলে ডিজিটাল পাবলিক ইনফ্রাস্ট্রাকচারের সেন্টার অব এক্সেলেন্স গড়ে তোলার কাজ চলছে বলে জানান তিনি। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সুপারকম্পিউটার, সেমিকন্ডাক্টর ও ব্লকচেইনের মতো ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর জোর দেন মোদী।
জ্বালানি সহযোগিতাকে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ‘শক্তিশালী স্তম্ভ’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, হাইড্রোকার্বনের পাশাপাশি নবায়নযোগ্য শক্তি, ইথানল মিশ্রণ ও টেকসই বিমান জ্বালানির ক্ষেত্রেও কাজ এগোচ্ছে। গ্লোবাল বায়োফুয়েল অ্যালায়েন্সে ব্রাজিলের সক্রিয় অংশগ্রহণ সবুজ ভবিষ্যতের প্রতি যৌথ অঙ্গীকারের প্রতিফলন বলে মন্তব্য করেন তিনি। পাশাপাশি, দুর্যোগ সহনশীল অবকাঠামো জোটে ব্রাজিলের যোগদানের প্রস্তাব এবং গুরুত্বপূর্ণ খনিজ ও বিরল মৃত্তিকা উপাদান নিয়ে চুক্তিকে স্থিতিশীল সাপ্লাই চেন গড়ার বড় পদক্ষেপ বলে ব্যাখ্যা করেন প্রধানমন্ত্রী।
প্রতিরক্ষা, কৃষি, পশুপালন, খাদ্য সুরক্ষা, স্বাস্থ্য ও ফার্মা ক্ষেত্রেও সহযোগিতা বাড়ানোর কথা জানান তিনি এবং সাশ্রয়ী ও মানসম্পন্ন ওষুধ সরবরাহ অব্যাহত রাখার আশ্বাস দেন। আন্তর্জাতিক মঞ্চে ভারত ও ব্রাজিল গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের ভিত্তিতে গ্লোবাল সাউথের অগ্রাধিকার তুলে ধরবে বলেও উল্লেখ করেন মোদী। সন্ত্রাসবাদ ও তার মদতদাতাদের বিরুদ্ধে কড়া অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করে তিনি বলেন, সমসাময়িক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বৈশ্বিক প্রতিষ্ঠানগুলির সংস্কার অত্যন্ত জরুরি এবং এই লক্ষ্যে দুই দেশ একসঙ্গে কাজ চালিয়ে যাবে।
