কোচি, ২০ ফেব্রুয়ারি : বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে বড় ধাক্কা খেল কেরল সরকার। শুক্রবার Kerala High Court রাজ্য সরকারের সেই সিদ্ধান্তে স্থগিতাদেশ জারি করেছে, যার মাধ্যমে এক দশকের বেশি সময় ধরে দৈনিক মজুরি ও চুক্তিভিত্তিক কর্মরত কর্মীদের সরকারি নিয়ন্ত্রিত পাবলিক সেক্টর সংস্থা, স্বশাসিত প্রতিষ্ঠান এবং কেরল কালামণ্ডলমে স্থায়ীকরণ করা হচ্ছিল। এই রায়কে মুখ্যমন্ত্রী Pinarayi Vijayan-এর নেতৃত্বাধীন সরকারের জন্য বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে। গত ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত স্থানীয় সংস্থার নির্বাচনে শাসক বামফ্রন্টের ভরাডুবির পর সরকারের ভাবমূর্তি তলানিতে ঠেকেছে বলে রাজনৈতিক মহলের মত। এর মধ্যেই ১৭ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্ট জনমত যাচাইয়ের জন্য চলা একটি সমীক্ষাতেও স্থগিতাদেশ দিয়েছিল। আদালত নির্দেশ দিয়েছে, সেপ্টেম্বর ২০২৫-এর পর কোনও অস্থায়ী কর্মীকে স্থায়ী করা যাবে না। সরকারের এই পদক্ষেপ আগের এক আদালতের নির্দেশ লঙ্ঘন করেছে—এমন অভিযোগে দায়ের হওয়া একটি মামলার শুনানিতে এই নির্দেশ দেয় আদালত। ২০২১ সালে প্রথম বিজয়ন সরকার ক্ষমতা ছাড়ার আগে বৃহৎ আকারে অস্থায়ী কর্মীদের স্থায়ীকরণের সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে। তখন হাইকোর্ট রায় দিয়েছিল, কেবল অনুমোদিত শূন্যপদে নিয়োগপ্রাপ্তদেরই স্থায়ী করা যাবে এবং এর বাইরে আর কোনও স্থায়ীকরণ করা যাবে না। বর্তমান আবেদনে দাবি করা হয়েছে, সরকারের নতুন সিদ্ধান্ত আদালত অবমাননার শামিল। দু’সপ্তাহ আগে এ বিষয়ে মুখ্যসচিবকে হলফনামা দাখিলের নির্দেশ দিয়েছিল আদালত। নিয়মিতকরণের প্রস্তাবে গ্রাম পঞ্চায়েত, পৌরসভা, সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান, পঞ্চায়েত লাইব্রেরি, বালমন্দির ও নার্সারি স্কুলের কর্মীদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল। সম্মানীর ভিত্তিতে বা দৈনিক মজুরিতে কর্মরত লাইব্রেরিয়ান, নার্সারি শিক্ষক ও আয়া-সহ যাঁদের টানা ১০ বছর বা তার বেশি পরিষেবা রয়েছে, তাঁদের খণ্ডকালীন কনটিনজেন্ট কর্মী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা ছিল। পাশাপাশি, এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জের মাধ্যমে প্রথমে খণ্ডকালীন নিয়োগ পেয়ে পরে দৈনিক মজুরিতে স্থানান্তরিত হওয়া কর্মীদেরও স্থায়ী মর্যাদা দেওয়ার প্রস্তাবে মন্ত্রিসভা ছাড়পত্র দিয়েছিল। তবে এই সিদ্ধান্তকে ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে এবং অভিযোগ উঠেছে, সম্ভাব্য সুবিধাভোগীদের মধ্যে শাসক দলের সমর্থক বা আত্মীয়স্বজন রয়েছেন।
