22 C
Kolkata
February 19, 2026
দেশ

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যঙ্গ ভিডিও সরানোর অভিযোগে কেন্দ্রকে নিশানা কংগ্রেসের

দিল্লি, ১৯ ফেব্রুয়ারি: কেন্দ্রীয় সরকার ও বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলির বিরুদ্ধে কড়া অভিযোগ তুলল কংগ্রেস। দলের দাবি, তাদের সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশিত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নির্ভর নয়টি ব্যঙ্গাত্মক ভিডিও সরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। গত ছয় সপ্তাহে ধাপে ধাপে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ।

দিল্লিতে আয়োজিত এক সাংবাদিক বৈঠকে কংগ্রেসের মুখপাত্র তথা দলের সামাজিক মাধ্যম ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের প্রধান সুপ্রিয়া শ্রিনাতে বলেন, ‘যে সময় সরকার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা শীর্ষ সম্মেলনের আয়োজন করছে, ঠিক সেই সময়েই তথ্য প্রযুক্তি আইনের অপব্যবহার করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নির্ভর কনটেন্ট সেন্সর করা হচ্ছে। এটি চরম ভণ্ডামি এবং দ্বিচারিতা।’

তিনি দাবি করেন, যে নয়টি ভিডিও সরানো হয়েছে, সেগুলিতে স্পষ্টভাবে ‘কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দ্বারা নির্মিত ভিডিও’ বলে উল্লেখ ছিল। ভিডিওগুলি রাজনৈতিক ব্যঙ্গ হিসেবে তৈরি করা হয়েছিল এবং সংসদ ও জনমঞ্চে বিরোধীরা যে বিষয়গুলি তুলেছে, সেগুলিকেই নাটকীয় আকারে তুলে ধরা হয়েছিল। তবুও সেগুলি মুছে ফেলা হয়েছে বলে অভিযোগ।

সুপ্রিয়া শ্রিনাতে আরও জানান, বিহার, রাজস্থান, মধ্যপ্রদেশ ও মহারাষ্ট্রের মতো বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলির পুলিশ প্রশাসন অথবা কেন্দ্রীয় ইলেকট্রনিক্স ও তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রক থেকে সরাসরি নির্দেশ পাঠানো হয়েছে। তবে কোন ভিডিও কেন সরানো হচ্ছে, সে বিষয়ে কোনও প্রকাশ্য আদেশ বা স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেওয়া হচ্ছে না। ফলে আইনি চ্যালেঞ্জ জানানোও কঠিন হয়ে পড়ছে বলে তার অভিযোগ।

কংগ্রেসের দাবি, নতুন প্রস্তাবিত অনলাইন নিয়ন্ত্রণ পোর্টাল ‘সহযোগ’-এর মাধ্যমে একাধিক সরকারি আধিকারিককে কনটেন্ট সরানোর ক্ষমতা দেওয়া হচ্ছে। এতে কার্যত ডিজিটাল বক্তব্যের উপর নির্বাহী নিয়ন্ত্রণ আরও বাড়ানো হচ্ছে। শ্রিনাতে কটাক্ষ করে বলেন, ‘এখন আমলারা ঠিক করবেন দেশ কী দেখবে আর কী দেখবে না।’

তিনি চলতি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা শীর্ষ সম্মেলন নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। তার অভিযোগ, সম্মেলনে যন্ত্রপাতি আনা নিয়ে বিধিনিষেধ, ইন্টারনেট সংযোগের ঘাটতি এবং বিভিন্ন ব্যবস্থাপনার ত্রুটি দেখা গিয়েছে। এতে আন্তর্জাতিক অংশগ্রহণকারীদের অসুবিধা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

সাংবাদিক বৈঠকে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরুর অবদানের কথাও তুলে ধরেন কংগ্রেস নেত্রী। তিনি বলেন, ‘আইআইটি ও আইআইএমের মতো প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার ফলে আজ বহু আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রধান ভারতীয় শিক্ষা ব্যবস্থার ফল।’

এদিকে কংগ্রেসের আরও অভিযোগ, দলের তথ্য প্রযুক্তি শাখার সদস্যদের পুলিশি হেনস্থা করা হচ্ছে এবং ভয় দেখানোর চেষ্টা চলছে। যদিও কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে এ বিষয়ে এখনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

Related posts

Leave a Comment