19 C
Kolkata
February 20, 2026
দেশ

উত্তরাখণ্ড জাতীয় সড়ক দুর্নীতিতে ১৩.৮৯ কোটি টাকার সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত, ইডির বড় পদক্ষেপ

দেরাদুন: উত্তরাখণ্ডে জাতীয় সড়ক সম্প্রসারণ প্রকল্পে জমি অধিগ্রহণ সংক্রান্ত দুর্নীতির মামলায় বড়সড় পদক্ষেপ নিল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট বা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। তদন্তকারী সংস্থা বুধবার জানিয়েছে, অর্থপাচার বিরোধী আইনের আওতায় ১৩ কোটি ৮৯ লক্ষ টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি অস্থায়ীভাবে বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।

ইডি সূত্রে জানা গিয়েছে, এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে প্রিভেনশন অফ মানি লন্ডারিং অ্যাক্ট, ২০০২–এর অধীনে। অভিযোগ, জাতীয় সড়ক–৭৪ সম্প্রসারণের জন্য জমি অধিগ্রহণের সময় ভুয়ো নথি তৈরি করে বেআইনিভাবে অতিরিক্ত ক্ষতিপূরণ আদায় করা হয়েছিল।

কীভাবে হয়েছে দুর্নীতি
এই মামলার তদন্ত শুরু হয় উত্তরাখণ্ডের উদ্যম সিং নগর জেলার পান্তনগর থানায় দায়ের হওয়া একটি এফআইআর-এর ভিত্তিতে। তদন্তে উঠে আসে, অভিযুক্তরা—দিলবাগ সিং, জর্ণাইল সিং, বলজিৎ কৌর এবং দলবিন্দর সিং—জমির শ্রেণিবিভাগ পরিবর্তনের জন্য পুরনো তারিখে জাল আদেশ সংগ্রহ করেন।

অভিযোগ, রাজস্ব দপ্তরের কিছু অসাধু কর্মী ও দালালের সঙ্গে যোগসাজশ করে এই জাল আদেশ সরকারি নথিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এর ফলে কৃষিজমিকে বেআইনিভাবে অ-কৃষি জমি হিসেবে দেখানো হয়। এর ভিত্তিতে জমির মালিকরা কৃষিজমির তুলনায় অনেক বেশি ক্ষতিপূরণ পান।

ইডির তদন্তে জানা যায়, এই পদ্ধতিতে অভিযুক্তরা প্রায় ২৬ লক্ষ টাকার অতিরিক্ত ক্ষতিপূরণ বেআইনিভাবে পেয়েছেন। এই অর্থ পরে তাঁদের নিজেদের নামে বা আত্মীয়দের ব্যাঙ্ক হিসাবে স্থানান্তর করা হয়, যাতে বেআইনি অর্থের উৎস গোপন রাখা যায়।

১৩.৮৯ কোটি টাকার সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত
তদন্তে অভিযুক্তদের সঙ্গে যুক্ত একাধিক সম্পত্তির হদিশ পায় ইডি। এর মধ্যে রয়েছে জমি, বাড়ি এবং অন্যান্য আর্থিক সম্পদ। এরপরই সংস্থা একটি অস্থায়ী সংযুক্তি আদেশ জারি করে মোট ১৩.৮৯ কোটি টাকার সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে।

ইডি জানিয়েছে, এই মামলায় এটি চতুর্থবার সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার পদক্ষেপ। এর আগে তিনবার একই মামলায় সম্পত্তি সংযুক্ত করা হয়েছিল। পাশাপাশি, বিশেষ আদালতে ইতিমধ্যেই সাতটি চার্জশিট বা প্রসিকিউশন অভিযোগপত্র জমা দিয়েছে তদন্তকারী সংস্থা।

তদন্ত চলবে, আরও অভিযুক্তের খোঁজ
ইডি জানিয়েছে, এই দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত আরও ব্যক্তি এবং বেআইনি সম্পদের খোঁজে তদন্ত চালানো হচ্ছে। তদন্তকারী আধিকারিকদের মতে, জমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়ায় বড়সড় দুর্নীতির চক্র সক্রিয় ছিল এবং এর মাধ্যমে সরকারি কোষাগারের বড় ক্ষতি হয়েছে।

এই ঘটনায় নতুন করে প্রশাসনিক স্বচ্ছতা এবং জমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়ায় নজরদারি বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা সামনে এসেছে। তদন্ত শেষ হলে আরও বড় পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছে ইডি।

Related posts

Leave a Comment