দিল্লি: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির ক্ষেত্রে বিশ্বের আস্থার ঘাটতি দূর করতে India গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে বলে মনে করেন ব্রিটেনের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ঋষি সুনক (Rishi Sunak)। তিনি জানিয়েছেন, ‘ভারতের প্রতি বিশ্বজুড়ে বিপুল আশাবাদ ও বিশ্বাস রয়েছে, আর সেই কারণেই এই নতুন প্রযুক্তির ক্ষেত্রে আস্থা তৈরিতে ভারত নেতৃত্ব দিতে পারে।’
দিল্লিতে আয়োজিত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক সম্মেলনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে সুনক বলেন, ‘বর্তমানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তি দ্রুত উন্নতি করছে। কিন্তু এর সঙ্গে সঙ্গে বিশ্বজুড়ে মানুষের মনে নানা প্রশ্ন ও উদ্বেগও তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে প্রয়োজন এমন একটি দেশের, যার প্রতি বিশ্ব আস্থা রাখতে পারে। ভারত সেই জায়গায় রয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘ভারত প্রযুক্তি ক্ষেত্রে দ্রুত উন্নতি করছে এবং একই সঙ্গে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ বজায় রেখেছে। এই দুইয়ের সংমিশ্রণই বিশ্বকে আশ্বস্ত করতে পারে যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মানবকল্যাণে ব্যবহৃত হবে।’
সুনকের মতে, ভারতের তরুণ প্রজন্ম, তথ্যপ্রযুক্তি দক্ষতা এবং দ্রুত বিকাশমান ডিজিটাল পরিকাঠামো দেশটিকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ক্ষেত্রে অগ্রণী শক্তিতে পরিণত করেছে। তিনি বলেন, ‘ভারতের বিপুল সংখ্যক দক্ষ প্রযুক্তিবিদ এবং উদ্ভাবনী শক্তি এই প্রযুক্তিকে নিরাপদ ও কার্যকরভাবে এগিয়ে নিয়ে যেতে সাহায্য করবে।’
প্রাক্তন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে উঠে আসে ভারত ও United Kingdom-এর মধ্যে প্রযুক্তিগত সহযোগিতার প্রসঙ্গও। তিনি বলেন, ‘দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ক্ষেত্রেও এই সহযোগিতা আরও শক্তিশালী হতে পারে।’
বিশেষজ্ঞদের মতে, বিশ্বজুড়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির ব্যবহার দ্রুত বাড়লেও, এর নিরাপত্তা, গোপনীয়তা এবং নৈতিক ব্যবহারের বিষয়ে এখনও স্পষ্ট নীতি প্রয়োজন। এই ক্ষেত্রে ভারতের মতো বৃহৎ গণতান্ত্রিক দেশের নেতৃত্ব আন্তর্জাতিক স্তরে আস্থা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।
সুনকের বক্তব্য আন্তর্জাতিক মহলে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। কারণ, প্রযুক্তি ক্ষেত্রে ভারতের দ্রুত উত্থান ইতিমধ্যেই বিশ্বমঞ্চে দেশটির গুরুত্ব বাড়িয়েছে। আর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তির ক্ষেত্রে ভারতের নেতৃত্ব ভবিষ্যতে আরও শক্তিশালী হতে পারে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
