February 20, 2026
বাংলাদেশ

বাংলাদেশে জামাত-ই-ইসলামির উত্থানে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ

ঢাকা: দীর্ঘদিন রাজনৈতিক প্রান্তিক অবস্থায় থাকার পর ফের বাংলাদেশের মূল রাজনৈতিক মঞ্চে শক্তিশালী উপস্থিতি জানাল বাংলাদেশ জামাত-ই-ইসলামি। সদ্যসমাপ্ত জাতীয় নির্বাচনে উল্লেখযোগ্য আসন ও ভোট শতাংশ অর্জন করে দলটি এখন দেশের প্রধান বিরোধী শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। এই উত্থান ঘিরে দেশের রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর বিতর্ক ও নতুন সমীকরণের আলোচনা।

গত বছরের জুন মাসে প্রায় এক দশকের বেশি সময় পর জামাত-ই-ইসলামির রাজনৈতিক নিবন্ধন পুনর্বহাল করা হয়। এর আগে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকারের আমলে দলটির উপর নিষেধাজ্ঞা জারি ছিল। সেই নিষেধাজ্ঞা উঠে যাওয়ার পর থেকেই জামাত নতুন করে সংগঠন শক্তিশালী করতে উদ্যোগী হয় এবং নির্বাচনে সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে নিজেদের প্রভাব পুনর্গঠন শুরু করে।

বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তন এবং গণআন্দোলনের পর তৈরি হওয়া পরিস্থিতিতে জামাত নতুন সুযোগ পেয়েছে। বিশেষ করে মুহাম্মদ ইউনূস নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী প্রশাসনের প্রস্তাবিত ‘জুলাই সনদ’ অনুযায়ী সংবিধান সংস্কারের দাবিতে জামাত সরব হয়েছে। দলটির দাবি, সংসদকে সংবিধান সভায় রূপান্তর করে দেশের প্রশাসনিক কাঠামো, বিচারব্যবস্থা এবং নির্বাচন ব্যবস্থায় ব্যাপক পরিবর্তন আনা প্রয়োজন।

অন্যদিকে, বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট পার্টি বা বিএনপি এই প্রস্তাব নিয়ে সতর্ক অবস্থান নিয়েছে। বিএনপি নেতৃত্বের বক্তব্য, সংবিধানে ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’ গঠনের কোনও বিধান নেই এবং সাংবিধানিক কাঠামো মেনেই পরিবর্তন আনতে হবে। বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার ইতিমধ্যেই সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছে।

সাম্প্রতিক নির্বাচনের ফলাফল অনুযায়ী, জামাত-ই-ইসলামি তাদের ইতিহাসে সর্বোচ্চ সাফল্য অর্জন করেছে। দলটি মোট ভোটের প্রায় ৩১.৭৬ শতাংশ পেয়ে ৬৮টি আসনে জয়লাভ করেছে। এর ফলে সংসদে তারা প্রধান বিরোধী শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠা পেয়েছে। এর আগে ১৯৯১ সালে দলটি এককভাবে ১৮টি আসন পেয়েছিল এবং ভোটের হার ছিল প্রায় ১২ শতাংশ। কিন্তু পরবর্তী নির্বাচনে সেই সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, ভারতের সীমান্তবর্তী অঞ্চল, বিশেষ করে খুলনা, রাজশাহী এবং রংপুর বিভাগে জামাত তাদের প্রভাব উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করেছে। আগে এই এলাকাগুলিতে আওয়ামী লীগের শক্তিশালী প্রভাব থাকলেও বর্তমান পরিস্থিতিতে জামাত নতুন করে সংগঠন বিস্তার করতে সক্ষম হয়েছে।

অন্যদিকে, বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট মোট ২১২টি আসনে জয়লাভ করেছে। জামাত-সমর্থিত জোট পেয়েছে ৭৭টি আসন। এছাড়া নতুন রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করা ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টিও কয়েকটি আসনে জয়লাভ করেছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জামাত-ই-ইসলামির এই উত্থান বাংলাদেশের রাজনীতিতে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে। দলটি সরাসরি সরকার গঠন করতে না পারলেও সংসদে তাদের শক্তিশালী উপস্থিতি ভবিষ্যতের নীতিনির্ধারণ এবং রাজনৈতিক ভারসাম্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। একইসঙ্গে, সংবিধান সংস্কারসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে তারা প্রভাব বিস্তার করতে পারে বলেও মনে করা হচ্ছে।

Related posts

Leave a Comment