February 20, 2026
দেশ বাংলাদেশ

ঢাকায় বিরোধী দলনেতার সঙ্গে বিদেশ সচিবের সাক্ষাৎ, নতুন সমীকরণে কূটনৈতিক তৎপরতা

প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র

বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পালাবদলের আবহে কূটনৈতিক স্তরে সক্রিয়তা বাড়াল ভারত। ঢাকায় গিয়ে বাংলাদেশের নতুন বিরোধী দলনেতা শফিকুর রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করলেন ভারতের বিদেশ সচিব Vikram Misri।

প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার পাশাপাশি কূটনৈতিক বৈঠকের অংশ হিসেবেই এই সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। ঢাকায় অবস্থিত ভারতের হাই কমিশনের তরফে জানানো হয়েছে, বৈঠকটি ছিল আন্তরিক ও গঠনমূলক। বিদেশ সচিব নতুন দায়িত্ব গ্রহণের জন্য শফিকুর রহমানকে অভিনন্দন জানান এবং দুই দেশের ঐতিহাসিক সম্পর্ক আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে ভারতের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন।

ভারতের পক্ষ থেকে জানানো হয়, বাংলাদেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও উন্নয়ন ভারতের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। দুই দেশের জনগণের কল্যাণে অর্থনীতি, বাণিজ্য, নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক সহযোগিতার ক্ষেত্র আরও প্রসারিত করার আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়েছে।

অন্যদিকে শফিকুর রহমান ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ককে ঐতিহাসিক ও বহুমাত্রিক বলে উল্লেখ করেন। তাঁর মতে, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহযোগিতার ভিত্তিতে এই সম্পর্ক ভবিষ্যতে আরও শক্তিশালী হতে পারে। সংসদে বিরোধী দল হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে ইতিবাচক সম্পর্ক বজায় রাখার ইঙ্গিতও দেন তিনি।

প্রসঙ্গত, সাম্প্রতিক জাতীয় নির্বাচনের পর বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বড় পরিবর্তন এসেছে। Jamaat-e-Islami Bangladesh নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট সংসদে উল্লেখযোগ্য শক্তি অর্জন করেছে এবং শফিকুর রহমান আনুষ্ঠানিক ভাবে বিরোধী দলনেতার দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন।

শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে ভারতের প্রতিনিধি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন Om Birla। তিনি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর শুভেচ্ছাবার্তা পৌঁছে দেন এবং বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান।

কূটনৈতিক মহলের মতে, দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সীমান্ত নিরাপত্তা, বাণিজ্য, সংযোগ ব্যবস্থা, জলবণ্টন ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার মতো নানা বিষয়ে দুই দেশের সহযোগিতা অপরিহার্য। নতুন রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে সরকার ও বিরোধী— উভয় পক্ষের সঙ্গেই সমান্তরাল যোগাযোগ বজায় রেখে ভবিষ্যৎ কৌশল নির্ধারণ করছে ভারত।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে আস্থা বাড়াতে সহায়ক এবং ভবিষ্যতে সম্পর্ককে আরও স্থিতিশীল ও সুদৃঢ় করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে।

Related posts

Leave a Comment