22 C
Kolkata
February 20, 2026
বিদেশ

ভূরাজনৈতিক চাপ ও বিনিয়োগ সংকটে আরও গভীর হতে পারে পাকিস্তানের অর্থনৈতিক সঙ্কট

দিল্লি: ক্রমবর্ধমান ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা, বিদেশি বিনিয়োগে স্থবিরতা এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের উদ্বেগজনক পরিস্থিতির জেরে ২০২৬ সালে পাকিস্তান-এর অর্থনীতি আরও কঠিন সময়ের মুখোমুখি হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা। আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির পরিবর্তন এবং কূটনৈতিক সমীকরণের টানাপোড়েন দেশের আর্থিক স্থিতিশীলতার উপর সরাসরি প্রভাব ফেলছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

Business Recorder-এর এক সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সংযুক্ত আরব আমিরাত-এর সঙ্গে পাকিস্তানের আর্থিক সম্পর্ক আগের তুলনায় দুর্বল হয়েছে। আগে যেখানে দীর্ঘমেয়াদি আমানত নবীকরণের বিষয়ে আশাবাদী ছিল ইসলামাবাদ, সেখানে এখন মাসিক ভিত্তিতে আমানত নবীকরণ করতে হচ্ছে এবং সুদের হার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬.৫ শতাংশে। এতে বৈদেশিক মুদ্রার উপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়েছে।

অন্যদিকে, দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ মিত্র চিন থেকেও নতুন করে কোনও বড় আর্থিক সহায়তার ঘোষণা হয়নি। বহুল আলোচিত চায়না-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডরের দ্বিতীয় পর্যায়ের কাজ কার্যত স্থগিত রয়েছে। বিদ্যুৎ খাতে চিনা সংস্থাগুলির পাওনা এবং বিলম্বজনিত জরিমানা সংক্রান্ত জটিলতায় ঋণ পুনর্গঠনের প্রক্রিয়াও থমকে রয়েছে। ফলে পাকিস্তানের বিদ্যুৎ খাতের আর্থিক সংকট আরও তীব্র আকার ধারণ করছে।

একইসঙ্গে বেলুচিস্তান অঞ্চলে নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি দেশের বড় বিনিয়োগ প্রকল্পগুলিকেও প্রভাবিত করেছে। বিশেষ করে রেকো দিক খনি প্রকল্প, যাকে পাকিস্তানের অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছিল, তার আর্থিক চূড়ান্তকরণ অনির্দিষ্টকালের জন্য পিছিয়ে গিয়েছে। এতে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আস্থা কমেছে।

কূটনৈতিক ক্ষেত্রেও পাকিস্তান কিছুটা পিছিয়ে পড়ছে বলে বিশ্লেষকদের মত। যুক্তরাষ্ট্র সম্প্রতি ভারত-এর সঙ্গে সুবিধাজনক শুল্ক কাঠামোয় বাণিজ্য চুক্তি করেছে। একইভাবে বাংলাদেশ-ও বস্ত্র রপ্তানির ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন বাণিজ্যিক সুবিধা পেয়েছে। ফলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে পাকিস্তানের প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান দুর্বল হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, State Bank of Pakistan-এর বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ২০২৫ সালে দাঁড়িয়েছে মাত্র ৪.৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। একই সময়ে দেশের বৈদেশিক ঋণ ও দায় বেড়েছে প্রায় ৭.২ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ ঋণের বৃদ্ধি রিজার্ভ বৃদ্ধির তুলনায় অনেক বেশি, যা অর্থনীতির জন্য বড় সতর্কবার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বিদেশি প্রত্যক্ষ বিনিয়োগের পরিমাণও অত্যন্ত কম রয়েছে। গত কয়েক বছরে একাধিক দেশের কাছ থেকে বিনিয়োগের আশ্বাস মিললেও বাস্তবে তা কার্যকর হয়নি। ফলে অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের প্রক্রিয়া ধীরগতিতে চলছে।

সব মিলিয়ে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তন, বিনিয়োগের অনিশ্চয়তা এবং বৈদেশিক মুদ্রার সীমিত রিজার্ভ পাকিস্তানের অর্থনীতিকে আগামী দিনে আরও বড় চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলতে পারে বলে মনে করছেন অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।

Related posts

Leave a Comment