February 15, 2026
দেশ বিদেশ

ভারত–আমেরিকা বাণিজ্য চুক্তি ঘিরে বিতর্ক: কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন ও শুল্ক ইস্যুতে চাপে নয়াদিল্লি

নয়াদিল্লি, ১৪ ফেব্রুয়ারি: ভারত ও আমেরিকার মধ্যে ঘোষিত প্রথম দফার বাণিজ্য কাঠামো চুক্তি ঘিরে দেশের রাজনৈতিক মহলে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে। বিরোধী দলগুলির অভিযোগ, এই চুক্তির ফলে ভারতের কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন দুর্বল হতে পারে এবং দেশীয় শিল্প ও কৃষিখাত ক্ষতির মুখে পড়তে পারে। সরকার অবশ্য এই আশঙ্কা উড়িয়ে দিয়েছে।

চুক্তি ঘোষণার পর আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন, ভারত রাশিয়া থেকে জ্বালানি আমদানি বন্ধে সম্মত হয়েছে। এই মন্তব্য ঘিরেই রাজনৈতিক অঙ্গনে প্রশ্ন ওঠে। বিরোধীদের বক্তব্য, যদি এমন সিদ্ধান্ত হয়ে থাকে, তবে তা দেশের স্বাধীন পররাষ্ট্র ও জ্বালানি নীতির পরিপন্থী।

এ বিষয়ে বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর স্পষ্ট করে জানান, ভারতের জ্বালানি ক্রয়ের সিদ্ধান্ত সর্বদা দেশের মানুষের স্বার্থ বিবেচনায় নেওয়া হয়। তিনি বলেন, কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন ভারতের ঐতিহাসিক নীতির অংশ এবং তা বজায় থাকবে। জ্বালানি বাজার জটিল—প্রাপ্যতা, মূল্য ও ঝুঁকি বিবেচনায় নিয়েই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

অন্যদিকে বিরোধীদের আরেকটি বড় অভিযোগ, ভারত নাকি পাঁচ বছরে পাঁচশো বিলিয়ন ডলারের পণ্য আমদানির আশ্বাস দিয়েছে এবং বহু আমেরিকান পণ্যে শুল্ক প্রায় শূন্যে নামাতে সম্মত হয়েছে, যখন ভারতীয় রপ্তানিতে ১৮ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপিত থাকবে। কংগ্রেসের শশী থারুর ও রাহুল গান্ধী এই ইস্যুতে সরকারের তীব্র সমালোচনা করেছেন। রাহুল গান্ধীর দাবি, এতে তুলো চাষি ও বস্ত্র রপ্তানিকারকেরা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন।

তবে ভারতীয় জনতা পার্টি জানিয়েছে, পাঁচশো বিলিয়ন ডলারের আমদানি কোনও বাধ্যতামূলক প্রতিশ্রুতি নয়, বরং সম্ভাব্য উদ্দেশ্য হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। দলটির নেতা অনিল বালুনি বলেন, কৃষি ও দুগ্ধ খাত বিদেশি প্রতিযোগিতার জন্য উন্মুক্ত করা হচ্ছে না।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই চুক্তি ভারতের অর্থনীতি, কৃষি ও কৌশলগত নীতির উপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে। ফলে বিষয়টি শুধু বাণিজ্যিক নয়, রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক ক্ষেত্রেও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

Related posts

Leave a Comment