February 14, 2026
দেশ

‘সবার আগে বাংলাদেশ’— বিদেশ নীতিতে জাতীয় স্বার্থই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার তারেক রহমানের

ঢাকা, ১৪ ফেব্রুয়ারি: বাংলাদেশের বিদেশ নীতির ক্ষেত্রে জাতীয় স্বার্থ এবং জনগণের কল্যাণকেই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন তারেক রহমান। সাধারণ নির্বাচনে নির্ণায়ক জয়ের পর দেশবাসীর উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে তিনি বলেন, ‘সবার আগে বাংলাদেশ’— এই নীতির ভিত্তিতেই ভবিষ্যতে দেশের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক পরিচালিত হবে।

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল–এর চেয়ারম্যান হিসেবে তাঁর এই মন্তব্যকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। তিনি জানান, দেশের সার্বভৌমত্ব, অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং জনগণের জীবনমান উন্নয়নকে সামনে রেখেই বিদেশ নীতির প্রতিটি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশের জনগণ দীর্ঘদিন ধরে একটি শক্তিশালী, আত্মনির্ভরশীল এবং মর্যাদাপূর্ণ রাষ্ট্র হিসেবে দেশের অবস্থান দেখতে চেয়েছেন। সেই লক্ষ্য পূরণে আন্তর্জাতিক স্তরে এমন সম্পর্ক গড়ে তোলা হবে, যা দেশের উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করবে এবং জাতীয় স্বার্থকে সুরক্ষিত রাখবে।

তিনি আরও স্পষ্ট করে বলেন, কোনও আন্তর্জাতিক চুক্তি বা সম্পর্ক তখনই গ্রহণযোগ্য হবে, যখন তা দেশের জনগণের বাস্তব উপকারে আসবে। দেশের অর্থনীতি, কর্মসংস্থান, বাণিজ্য এবং নিরাপত্তার বিষয়গুলি বিদেশ নীতির মূল কেন্দ্রে থাকবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর রাজধানী ঢাকা–য় দলীয় নেতা ও কর্মীদের উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে তিনি বলেন, ‘এই জয় কোনও একটি দলের নয়, এটি বাংলাদেশের মানুষের জয়। আমরা সবাইকে সঙ্গে নিয়ে একটি ঐক্যবদ্ধ, শক্তিশালী এবং উন্নত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চাই।’

তিনি জনগণের দেওয়া সমর্থনকে দায়িত্ব এবং বিশ্বাসের প্রতীক হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, ‘মানুষ আমাদের উপর যে আস্থা রেখেছেন, তা রক্ষা করা আমাদের প্রধান কর্তব্য। দেশের প্রতিটি নাগরিকের অধিকার ও সম্মান নিশ্চিত করতে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’

ভাষণে তিনি যুবসমাজ, শ্রমজীবী মানুষ এবং সাধারণ নাগরিকদের অবদানের কথাও বিশেষভাবে তুলে ধরেন। তাঁর মতে, দেশের উন্নয়ন এবং গণতন্ত্রকে আরও শক্তিশালী করতে সমাজের সব স্তরের মানুষের সক্রিয় অংশগ্রহণ প্রয়োজন।

একই সঙ্গে তিনি প্রতিহিংসার রাজনীতি থেকে দূরে থাকার বার্তা দিয়ে বলেন, উন্নয়ন, স্থিতিশীলতা এবং জনগণের কল্যাণই হবে ভবিষ্যৎ পথচলার মূল লক্ষ্য। ‘আমরা বিভাজনের রাজনীতি নয়, ঐক্যের রাজনীতি করতে চাই। দেশের প্রতিটি মানুষ যেন নিরাপদ এবং মর্যাদাসম্পন্ন জীবন পায়, সেই লক্ষ্যেই আমরা কাজ করব,’ বলেন তিনি।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তারেক রহমানের এই বার্তা বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ আন্তর্জাতিক সম্পর্ক এবং অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার দিক নির্দেশ করছে। দীর্ঘ সময়ের রাজনৈতিক সংঘাতের পর এই আহ্বান দেশের নতুন রাজনৈতিক অধ্যায়ের সূচনা করতে পারে বলেও মনে করা হচ্ছে।

এই ঐতিহাসিক জয়ের মাধ্যমে তাঁর নেতৃত্বাধীন দল নতুন করে দেশের শাসনভার গ্রহণের পথে এগোচ্ছে, এবং জাতীয় স্বার্থ ও ঐক্যের উপর জোর দেওয়ার এই বার্তা ভবিষ্যতে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক অবস্থানকে গুরুত্বপূর্ণভাবে প্রভাবিত করতে পারে।

Related posts

Leave a Comment