আইসিসি পুরুষদের টি-২০ বিশ্বকাপ ২০২৬-এ এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় অঘটন ঘটাল জিম্বাবোয়ে। শুক্রবার কলম্বোয় প্রাক্তন চ্যাম্পিয়ন অস্ট্রেলিয়াকে ২৩ রানে হারিয়ে ক্রিকেট দুনিয়াকে চমকে দিল আফ্রিকার দলটি। ২০০৭ সালের বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়াকে হারানোর স্মৃতিও যেন ফিরিয়ে আনল তারা।
এই জয়ের ফলে গ্রুপ বি-তে অপরাজিত জিম্বাবোয়ে উঠে এল দ্বিতীয় স্থানে, আর অস্ট্রেলিয়া নেমে গেল তৃতীয় স্থানে। প্রতিটি গ্রুপ থেকে শীর্ষ দুই দলই সুপার ৮-এ উঠবে। টস জিতে আগে বল করার সিদ্ধান্ত অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে যায়। জিম্বাবোয়ে ব্যাট করে ২০ ওভারে ১৬৯/২ তোলে, যা টি-২০ আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে তাদের সর্বোচ্চ স্কোর।
পাওয়ারপ্লেতেই তারা ৪৭/০ তুলে মজবুত ভিত গড়ে। তাদিওয়ানাশে মারুমানি (৩৫) ও ব্রায়ান বেনেট ৬১ রানের উদ্বোধনী জুটি গড়েন। পরে বেনেট (অপরাজিত ৬৪, ৫৬ বল) রায়ান বার্লের (৩৫) সঙ্গে ৭০ রানের গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়ে দলকে বড় সংগ্রহের দিকে নিয়ে যান। অধিনায়ক সিকান্দার রাজা শেষদিকে ১৩ বলে ২৫ রান করে ইনিংসে গতি আনেন এবং শেষ বলটি ছক্কায় পরিণত করেন। জবাবে অস্ট্রেলিয়া শুরুতেই ধাক্কা খেয়ে ৫ ওভারের মধ্যে ২৯/৪ হয়ে পড়ে। গ্লেন ম্যাক্সওয়েল (৩১) ও ম্যাট রেনশ (৬৫) পঞ্চম উইকেটে ৭৭ রানের জুটি গড়ে লড়াইয়ের চেষ্টা করেন।
তবে রায়ান বার্লের বলে ম্যাক্সওয়েলের বোল্ড হওয়া ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। এরপর ১০৬/৫ থেকে অস্ট্রেলিয়া গুটিয়ে যায় ১৪৬ রানে। ব্লেসিং মুজারাবানি ৪/১৭ নিয়ে পুরুষদের টি-২০ বিশ্বকাপে জিম্বাবোয়ের সেরা বোলিং পারফরম্যান্স গড়েন এবং পূর্ণ সদস্য দেশের বিরুদ্ধে এটিই তাদের সেরা স্পেল। ব্র্যাড ইভান্স ৩/২৩ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা দেন। ফিল্ডিংয়েও জিম্বাবোয়ে নজর কাড়ে, টনি মুনিয়ঙ্গার দুর্দান্ত ডাইভিং ক্যাচে বেন ডুয়ারশুইস আউট হন।
অস্ট্রেলিয়ার হয়ে মার্কাস স্টয়নিস ও ক্যামেরন গ্রিন একটি করে উইকেট নেন, তবে বাকি বোলাররা কার্যত ব্যর্থ হন। চোট ও ফিটনেস সমস্যায় জর্জরিত অস্ট্রেলিয়ার জন্য এই হার বড় ধাক্কা হয়ে এল। এদিকে চোট পাওয়া ব্রেন্ডন টেলরের পরিবর্তে বেন কারানকে দলে অন্তর্ভুক্তির অনুমোদন দিয়েছে টুর্নামেন্টের ইভেন্ট টেকনিক্যাল কমিটি, ওমানের বিরুদ্ধে ম্যাচে ডান হ্যামস্ট্রিংয়ে চোট পাওয়ায় টেলর ছিটকে গিয়েছেন। নিয়ম অনুযায়ী বদলি খেলোয়াড় নেওয়ার ক্ষেত্রে কমিটির অনুমোদন বাধ্যতামূলক।
previous post
