February 13, 2026
SPORTS

টি-২০ ক্রিকেটে সোনালি অধ্যায়ে ‘মেন ইন ব্লু’

দ্রুতগতি ও অনিশ্চয়তায় ভরা টি-২০ ক্রিকেটের দুনিয়ায় ২০২৪ থেকে ২০২৬—এই সময়কালে ভারত নিজেদের জন্য গড়ে তুলেছে এক অনন্য আধিপত্য। ধারাবাহিকতা, শক্তিশালী ব্যাটিং ও কৌশলগত দক্ষতার মেলবন্ধনে ‘মেন ইন ব্লু’ এখন স্বর্ণযুগে প্রবেশ করেছে বলেই মনে করছেন ক্রিকেট বিশ্লেষকরা।

পুরুষদের টি-২০ বিশ্বকাপে টানা ১০টি জয় শুধু একটি পরিসংখ্যান নয়, বরং বিশ্ব ক্রিকেটে ভারতের কর্তৃত্বের স্পষ্ট ঘোষণা। এই সাফল্যে তারা পেছনে ফেলেছে দক্ষিণ আফ্রিকার ২০২৪ সালের টানা আট জয়ের নজির এবং অস্ট্রেলিয়ার ২০২২ থেকে ২০২৪ পর্যন্ত আট ম্যাচের জয়যাত্রা। বিভিন্ন পরিস্থিতি ও প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে চাপের মুখেও ধারাবাহিক সাফল্য ভারতের মানসিক দৃঢ়তার প্রমাণ দিয়েছে। ২০২৬ সালে দিল্লিতে নামিবিয়ার বিরুদ্ধে ৯৩ রানের জয় ছিল ব্যাটিং আগ্রাসন ও শৃঙ্খলিত বোলিংয়ের নিখুঁত উদাহরণ।

অতীতে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে ২০১২ সালে কলম্বোয় ৯০ রানের জয়, ২০১৪ সালে মিরপুরে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে ৭৩ রানের জয় এবং ২০২২ সালে মেলবোর্নে জিম্বাবোয়ের বিরুদ্ধে ৭১ রানের ব্যবধানে জয়ের নজির এই ধারাবাহিকতারই অংশ। ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সও এই অধ্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে। আফগানিস্তানের রশিদ খানের ২০২৪ বিশ্বকাপে দুটি চার উইকেটের সাফল্য বা ২০২৬ সালে দিল্লিতে ভারতের বিরুদ্ধে নামিবিয়ার গেরহার্ড ইরাসমাসের ৪/২০ স্পেল মনে করিয়ে দেয়, টি-২০ ক্রিকেটে ব্যক্তিগত মেধা মুহূর্তেই ম্যাচের রং বদলে দিতে পারে।

ব্যাটিংয়ের দিক থেকে ভারত কার্যত পাওয়ারহাউস। বিশ্বকাপে ২০০ রানের গণ্ডি পেরোনো এখন প্রায় নিয়মিত ঘটনা—২০০৭ সালে ডারবানে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে ২১৮/৪, ২০২১ সালে আবু ধাবিতে আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে ২১০/২, ২০২৪ সালে গ্রস আইলেটে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে ২০৫/৫ এবং ২০২৬ সালে দিল্লিতে নামিবিয়ার বিরুদ্ধে ২০৯/৯ তার প্রমাণ। সামগ্রিক টি-২০ আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ২০০-র বেশি স্কোর করার নিরিখে ভারত ৪৭ বার এই কৃতিত্ব অর্জন করেছে, যা দক্ষিণ আফ্রিকা (২৯), নিউজিল্যান্ড (২৮), অস্ট্রেলিয়া (২৫) ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের (২৫) চেয়ে অনেক এগিয়ে। ২০২৪ বিশ্বকাপের পর থেকে ভারত ১৪ বার ২০০-র বেশি রান তুলেছে, যা এই সময়কালে অন্য যে কোনও দলের দ্বিগুণেরও বেশি।

পাওয়ারপ্লেতেও ভারত দাপট দেখিয়েছে—২০২৫ সালে মুম্বইয়ে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে ৯৫/১ এবং ২০২৬ সালে গৌহাটিতে নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে ৯৪/২ সর্বোচ্চ উদাহরণ। ২০২৬ বিশ্বকাপে নামিবিয়ার বিরুদ্ধে ৮৬/১ এবং অতীতে স্কটল্যান্ড ও বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ৮২ রানের বেশি সংগ্রহ ভারতের শুরুতেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার মানসিকতার পরিচয় দেয়।

অভিষেক শর্মা তিনবার প্রথম ছয় ওভারের মধ্যেই অর্ধশতরান করেছেন, রোহিত শর্মা ও ঈশান কিষাণ দু’বার করে, আর কেএল রাহুল ও যশস্বী জয়সওয়াল একবার করে এই কৃতিত্ব দেখিয়েছেন। সব মিলিয়ে দলগত দক্ষতা, ব্যক্তিগত নৈপুণ্য ও কৌশলগত প্রজ্ঞার সমন্বয়ে ভারতীয় দল এখন টি-২০ ক্রিকেটে আধিপত্যের নতুন সংজ্ঞা লিখছে। এই সময়কাল নিঃসন্দেহে ভারতের টি-২০ ইতিহাসে এক সোনালি অধ্যায় হিসেবে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

Related posts

Leave a Comment