February 13, 2026
টিভি-ও-সিনেমা

মার্কিন রাজনীতি নিয়ে মুখ খুলতে নারাজ মিশেল ইয়ো, নীরবতা ঘিরে বিতর্ক

বার্লিন চলচ্চিত্র উৎসবে সাংবাদিক বৈঠকে মার্কিন রাজনীতি নিয়ে প্রশ্ন করা হলে সরাসরি মন্তব্য করতে অস্বীকার করলেন আন্তর্জাতিক তারকা মিশেল ইয়ো। তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক পরিস্থিতি সম্পর্কে সম্পূর্ণ অবগত নন এবং সে বিষয়ে মন্তব্য করার মতো অবস্থানে তিনি নিজেকে মনে করেন না। এই মন্তব্যের পর থেকেই শুরু হয়েছে বিতর্ক।

ইয়ো বলেন, তিনি মালয়েশিয়ার নাগরিক এবং মূলত সুইজারল্যান্ডে বসবাস করেন। তাই মার্কিন অভ্যন্তরীণ রাজনীতি নিয়ে মত দেওয়া তাঁর পক্ষে সমীচীন নয়। অজানা বা পুরোপুরি না বোঝা বিষয়ে মন্তব্য করতে তিনি স্বচ্ছন্দ নন বলেও জানান অভিনেত্রী।
তবে সমালোচকদের একাংশের মতে, অস্কারজয়ী ও বিশ্বব্যাপী প্রভাবশালী একজন শিল্পীর নীরবতা নিজেই এক ধরনের বার্তা বহন করে। তাঁদের যুক্তি, বিশ্বমঞ্চে এত বড় প্রভাব থাকা সত্ত্বেও গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক ইস্যুতে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ থাকা প্রশ্নের জন্ম দেয়।

রাজনৈতিক প্রশ্ন এড়িয়ে ইয়ো পরে সিনেমার ভবিষ্যৎ নিয়ে কথা বলেন। তিনি জানান, ডিজিটাল যুগের চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও সিনেমা টিকে থাকবে। প্রেক্ষাগৃহকে তিনি আবেগের যৌথ অভিজ্ঞতার জায়গা হিসেবে বর্ণনা করেন, যেখানে দর্শকরা একসঙ্গে হাসেন, কাঁদেন ও অনুভব করেন।

এশীয় প্রতিনিধিত্ব প্রসঙ্গেও তিনি সরব হন। ‘ক্রেজি রিচ এশিয়ানস’ ও ‘এভরিথিং এভরিহোয়্যার অল অ্যাট ওয়ান্স’-এর উদাহরণ তুলে ধরে তিনি বলেন, শুরুতে সন্দেহ থাকলেও এই ছবিগুলি শিল্পের ধারা বদলে দিয়েছে। তাঁর মতে, সাফল্য এসেছে দীর্ঘ লড়াই, অধ্যবসায় ও পরিবর্তনের জন্য স্থির থাকার মানসিকতা থেকে।

তবে রাজনৈতিক নীরবতা ও প্রতিনিধিত্বের প্রশ্নে তাঁর দৃঢ় অবস্থানের মধ্যে বৈপরীত্য দেখছেন অনেকে। প্রশ্ন উঠছে, বিশ্বমঞ্চের প্রভাবশালী তারকাদের কি কেবল শিল্প নিয়েই সীমাবদ্ধ থাকা উচিত, নাকি বৃহত্তর সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রশ্নেও তাঁদের অবস্থান স্পষ্ট করা প্রয়োজন। এই বিতর্ক এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় বিস্তর আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

Related posts

Leave a Comment