February 13, 2026
দেশ বিদেশ

ধর্মীয় বৈচিত্র্য সূচকে শীর্ষ দেশগুলির মধ্যে ভারত, তলানিতে পাকিস্তান ও বাংলাদেশ

পিউ রিসার্চ সেন্টারের নতুন সমীক্ষা অনুযায়ী ধর্মীয় বৈচিত্র্য সূচকে (রিলিজিয়াস ডাইভার্সিটি ইনডেক্স) বিশ্বের শীর্ষ দেশগুলির মধ্যে জায়গা করে নিয়েছে ভারত, অন্যদিকে পাকিস্তান ও বাংলাদেশ তালিকার একেবারে নীচের দিকে অবস্থান করছে। ২০২০ সালের তথ্যের ভিত্তিতে ২০১টি দেশ ও অঞ্চলের ধর্মীয় সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিত্ব কতটা সমভাবে বিস্তৃত, তার ওপর নির্ভর করেই এই সূচক তৈরি হয়েছে।

গবেষকরা খ্রিস্টান, মুসলিম, হিন্দু, বৌদ্ধ, ইহুদি, অন্যান্য ধর্মাবলম্বী ও ধর্মনিরপেক্ষ—এই সাতটি বৃহৎ শ্রেণিতে জনসংখ্যাকে ভাগ করে প্রতিটি দেশকে ০ থেকে ১০-এর মধ্যে নম্বর দিয়েছেন। কোনও দেশে বিভিন্ন ধর্মাবলম্বীর উপস্থিতি যত বেশি ভারসাম্যপূর্ণ, সূচকে তার স্কোর তত বেশি।

বিশ্বের সবচেয়ে ধর্মীয় বৈচিত্র্যময় দেশ হিসেবে শীর্ষে রয়েছে সিঙ্গাপুর, যার স্কোর ৯.৩। সুরিনাম দ্বিতীয় স্থানে। শীর্ষ দশে রয়েছে তাইওয়ান, দক্ষিণ কোরিয়া, অস্ট্রেলিয়া, মরিশাস, গিনি-বিসাউ, টোগো ও বেনিন। ইউরোপ থেকে একমাত্র ফ্রান্স এই তালিকায় জায়গা পেয়েছে।

অন্যদিকে ইয়েমেন, আফগানিস্তান ও সোমালিয়া সবচেয়ে কম বৈচিত্র্যময় দেশের তালিকায় রয়েছে, যেখানে মুসলিম জনসংখ্যা ৯৯ শতাংশ বা তারও বেশি।

বিশ্বের ১০টি সর্বাধিক জনবহুল দেশের মধ্যে ধর্মীয় বৈচিত্র্যে যুক্তরাষ্ট্র সবার উপরে, তার পরে রয়েছে নাইজেরিয়া, রাশিয়া, ভারত ও ব্রাজিল। বৃহৎ জনসংখ্যার দেশগুলির মধ্যে বাংলাদেশ ও পাকিস্তান যথাক্রমে ১৩৩তম ও ১৬৫তম স্থানে রয়েছে। সমীক্ষা অনুযায়ী, বাংলাদেশের প্রায় ৯১ শতাংশ এবং পাকিস্তানের প্রায় ৯৭ শতাংশ মানুষ মুসলিম।

সামগ্রিকভাবে এশিয়া–প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল ধর্মীয় বৈচিত্র্যে শীর্ষে, আর মধ্যপ্রাচ্য–উত্তর আফ্রিকা অঞ্চল সবচেয়ে কম বৈচিত্র্যময়। সমীক্ষায় উল্লেখ করা হয়েছে, অধিকাংশ দেশেই একটি ধর্মীয় গোষ্ঠী সংখ্যাগরিষ্ঠ। খুব অল্প সংখ্যক দেশেই চার বা তার বেশি ধর্মীয় গোষ্ঠীর প্রত্যেকের জনসংখ্যা অন্তত ৫ শতাংশ।

Related posts

Leave a Comment