February 13, 2026
দেশ বিদেশ

সংসদে বিরতি শুরু, বাণিজ্য চুক্তি ও কৃষক ইস্যুতে চাপ বজায় রাখতে পারবে কি বিরোধীরা?

ভারত–মার্কিন বাণিজ্য চুক্তি ও প্রাক্তন সেনাপ্রধান এম এম নারাভানের অপ্রকাশিত স্মৃতিকথা ঘিরে তীব্র বাদানুবাদের মধ্য দিয়ে শুক্রবার শেষ হল বাজেট অধিবেশনের প্রথম পর্ব। অধিবেশন শেষে সংসদ ভবন চত্বরে বিক্ষোভ দেখান কংগ্রেস সাংসদরা। তথাকথিত ‘এপস্টিন ফাইলস’-এ নাম জড়ানোয় কেন্দ্রীয় মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরীর পদত্যাগ দাবি করে সরব হয় বিরোধীরা।

এখন মূল প্রশ্ন, ভারত–মার্কিন বাণিজ্য চুক্তির সঙ্গে পুরীর নাম জড়ানোর বিষয়টি তুলে ধরে বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ সরকারকে কতটা চাপে ফেলতে পারল বিরোধী শিবির এবং সেই চাপ কতদিন বজায় রাখা সম্ভব। একই সঙ্গে রাজনৈতিকভাবে স্পর্শকাতর কৃষক ইস্যুতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে ফের চ্যালেঞ্জ জানাতে পারবে কি তারা, সেটাই দেখার।

লোকসভায় বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বে বিরোধীরা অধিবেশন জুড়ে একাধিক ইস্যুতে সরকারকে কোণঠাসা করার চেষ্টা করে। তবে বিজেপি এই অভিযোগগুলিকে ভিত্তিহীন কুৎসা বলে উড়িয়ে দিয়েছে। শাসকদলের অন্দরে প্রকাশ্যে অস্বস্তির চিহ্ন না থাকলেও রাজনৈতিক চাপ যে তৈরি হয়েছে, তা মানছেন পর্যবেক্ষকদের একাংশ।

রাহুলের অভিযোগের জবাবে একাধিক সাক্ষাৎকারে হরদীপ সিং পুরী বলেন, তিনি কয়েকবার জেফ্রি এপস্টিনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছিলেন, তবে তার সঙ্গে কোনও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সম্পর্ক ছিল না। বিরোধীদের অভিযোগকে তিনি ‘ইঙ্গিতপূর্ণ অপপ্রচার’ বলে আখ্যা দেন।

বিশ্লেষকদের মতে, আসল রাজনৈতিক পরীক্ষা হতে পারে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে কৃষকদের স্বার্থরক্ষার প্রশ্নে। পশ্চিমবঙ্গ, তামিলনাড়ু, অসম, কেরল ও কেন্দ্রশাসিত পুদুচেরিতে নির্বাচন ঘিরে কৃষক ভোট বড় ফ্যাক্টর হয়ে উঠতে পারে। ইতিমধ্যেই চুক্তির বিরোধিতায় দেশজুড়ে ভারত বন্ধ ডেকেছিল কৃষক সংগঠন ও ট্রেড ইউনিয়নগুলি।

কৃষিক্ষেত্র শুধু অর্থনৈতিক নয়, আবেগঘন রাজনৈতিক বিষয়ও। যদিও সরকার সংবেদনশীল কৃষিপণ্যে সুরক্ষার আশ্বাস দিয়েছে এবং কৃষিমন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহান চুক্তিটিকে জাতীয় স্বার্থে সেরা বলে দাবি করেছেন, তবুও বিদেশি প্রতিযোগিতার আশঙ্কা নিয়ে বিরোধীরা প্রচার জোরদার করছে।

রাজনৈতিক মহলের মতে, অর্থনৈতিক যুক্তির পাশাপাশি জনমনে যে ধারণা তৈরি হয়, সেটাই শেষ পর্যন্ত প্রভাব ফেলে। আগের কৃষি আইনের স্মৃতি এখনও তাজা। তবে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে—এই ইস্যুতে দীর্ঘমেয়াদে চাপ ধরে রাখার মতো সাংগঠনিক ও রাজনৈতিক শক্তি কংগ্রেস ও বিরোধীদের হাতে আছে কি না।

Related posts

Leave a Comment