রাজ্যে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় খাদ্য নিরাপত্তা ব্যবস্থার অত্যন্ত দুর্বল পরিকাঠামো নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করল ওড়িশা হাইকোর্ট। পর্যাপ্ত প্রাতিষ্ঠানিক পদক্ষেপের অভাবের অভিযোগে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ দফতরের সচিব এবং খাদ্য সরবরাহ ও ভোক্তা কল্যাণ দফতরের সচিবকে ব্যক্তিগতভাবে হাজিরার নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
বিচারপতি সঞ্জীব কুমার পাণিগ্রাহীর একক বেঞ্চ গতকাল প্রদত্ত নির্দেশে উল্লেখ করেন, গোটা রাজ্যে মাত্র একটি খাদ্য পরীক্ষাগার রয়েছে, যেখানে একজন প্রধান খাদ্য বিশ্লেষক ও অল্পসংখ্যক বিশ্লেষণাত্মক রসায়নবিদ কর্মরত। এই একমাত্র পরীক্ষাগারই প্রায় ৪.৭০ কোটি মানুষের প্রয়োজন মেটাচ্ছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
আদালত পর্যবেক্ষণে জানায়, খাদ্য সুরক্ষা ও জনস্বাস্থ্য রক্ষার যে আইনগত দায়বদ্ধতা প্রশাসনের উপর ন্যস্ত, বর্তমান পরিকাঠামো তার সঙ্গে কোনওভাবেই সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। কার্যকর প্রয়োগ, সময়মতো নমুনা বিশ্লেষণ ও গুণমান নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে বিদ্যমান ব্যবস্থা একেবারেই অপর্যাপ্ত।
আদালত মনে করেছে, বিষয়টি সরকারিভাবে জরুরি ভিত্তিতে গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করা প্রয়োজন। প্রতিটি জেলায় আধুনিক পরিকাঠামোসমৃদ্ধ খাদ্য পরীক্ষাগার গড়ে তোলা এবং পর্যাপ্ত সংখ্যক দক্ষ প্রযুক্তিগত কর্মী নিয়োগের মাধ্যমে খাদ্য নিরাপত্তা আইন কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
আদেশে আরও বলা হয়েছে, আগামী ২৪ ফেব্রুয়ারি দুপুর ২টায় ভার্চুয়াল মাধ্যমে আদালতে হাজির হয়ে রাজ্যের বর্তমান খাদ্য নিরাপত্তা পরিস্থিতি, পরিকাঠামোগত ঘাটতির কারণ এবং প্রশাসনিক উদাসীনতার ব্যাখ্যা দিতে হবে সংশ্লিষ্ট দুই সচিবকে। ওই দিনই মামলার পরবর্তী শুনানি হবে।
