26 C
Kolkata
February 12, 2026
দেশ বাংলাদেশ

৪,০০০ কিলোমিটারের উদ্বেগ: কেন বাংলাদেশের নির্বাচন ভারতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ

দিল্লি, ১২ ফেব্রুয়ারি: বহু প্রতীক্ষিত বাংলাদেশের নির্বাচন বৃহস্পতিবার শুরু হয়েছে। ভোট চুরি ও হিংসার অভিযোগের মধ্যেই চলছে ভোটগ্রহণ। শেখ হাসিনার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক উল্লেখযোগ্যভাবে শীতল হয়েছে। অন্তর্বর্তী প্রশাসনের প্রধান মুহাম্মদ ইউনুসের সরকার পাকিস্তান ও চিনের দিকে বেশি ঝুঁকেছে বলে দিল্লির কূটনৈতিক মহলের একাংশের মত।

ভারতের অবস্থান স্পষ্ট—বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং দ্রুত নির্বাচনের মাধ্যমে একটি নির্বাচিত সরকার গঠন জরুরি। নির্বাচনকে ঘিরে দিল্লি নিবিড়ভাবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে।

ভারতের জন্য এই নির্বাচনের তাৎপর্য মূলত নিরাপত্তা ও কৌশলগত কারণে। ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত প্রায় ৪,০০০ কিলোমিটার দীর্ঘ, যা ভারতের দীর্ঘতম আন্তর্জাতিক স্থলসীমান্ত। সীমান্তের বহু অংশ এখনও সম্পূর্ণভাবে বেড়াবেষ্টিত নয়। এই এলাকাগুলি দিয়ে অবৈধ অনুপ্রবেশ, গবাদি পশু পাচার, মাদক ও জাল মুদ্রার চোরাচালান হয়ে থাকে বলে নিরাপত্তা সংস্থার আশঙ্কা।

একজন কর্মকর্তা জানান, বাংলাদেশের স্থিতিশীলতা ভারতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শক্তিশালী ও স্থিতিশীল সরকার থাকলে সীমান্ত ব্যবস্থাপনা ও নিরাপত্তা সহযোগিতা আরও কার্যকর হতে পারে। সন্ত্রাসবাদ দমনও দুই দেশের সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ ছিল। শেখ হাসিনার আমলে ভারত ও বাংলাদেশ যৌথভাবে সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা করেছে। দিল্লি চাইবে, এই সহযোগিতা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকুক।

অর্থনৈতিক সম্পর্কও কম গুরুত্বপূর্ণ নয়। ভারত ও বাংলাদেশ দীর্ঘদিনের বাণিজ্যিক অংশীদার। বাংলাদেশের স্থিতিশীলতা ভারতের ‘অ্যাক্ট ইস্ট’ নীতির ক্ষেত্রেও তাৎপর্যপূর্ণ। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সহযোগিতাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুই দেশের সম্পর্ক বিস্তৃত হয়েছে গত কয়েক বছরে।

তবে বিশ্লেষকদের মতে, এই সমস্ত ক্ষেত্রেই অগ্রগতি নির্ভর করবে বাংলাদেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার ওপর। অস্থিরতা তৈরি হলে দুই দেশের বহু বছরের সহযোগিতার প্রচেষ্টা ব্যাহত হতে পারে। ভারত রাজনৈতিক পরিস্থিতির দিকেও নজর রাখছে। বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী—দুই প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী দলের মধ্যেকার সমীকরণও গুরুত্বপূর্ণ। অতীতে জোট সরকারের সময় দিল্লি উভয় দলের সঙ্গেই কাজ করেছে। তবে বর্তমান প্রেক্ষাপট ভিন্ন, কারণ দুই দল এখন প্রতিদ্বন্দ্বী।

কূটনৈতিক মহলের মতে, যে-ই সরকার গঠন করুক না কেন, ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক পুরোপুরি ছিন্ন করা সম্ভব নয়। আঞ্চলিক বাস্তবতা এবং পারস্পরিক নির্ভরশীলতার কারণে দুই দেশকেই একসঙ্গে কাজ করতে হবে। আরেক কর্মকর্তা জানান, নির্বাচনের মাধ্যমে একটি গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকার প্রতিষ্ঠিত হলে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক পুনর্গঠনের পথ সুগম হতে পারে। বাংলাদেশের এই নির্বাচন শুধু দেশের ভবিষ্যৎ নয়, দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।

Related posts

Leave a Comment