ঢাকা, ১২ ফেব্রুয়ারি: বাংলাদেশের সংসদীয় নির্বাচনে বৃহস্পতিবার দেশজুড়ে ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন কেন্দ্রের বাইরে সকাল থেকেই দীর্ঘ লাইন দেখা যায়, যেখানে বিপুল সংখ্যক নাগরিক, বিশেষ করে তরুণ ও প্রথমবারের ভোটাররা, নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে ভিড় করেন।
শেখ হাসিনার ১৫ বছরের শাসনের অবসানের প্রায় দেড় বছর পর এটি দেশের প্রথম সাধারণ নির্বাচন। দেশব্যাপী ব্যাপক আন্দোলনের পর রাজনৈতিক পালাবদলের প্রেক্ষাপটে এই নির্বাচনকে ঐতিহাসিক বলে মনে করা হচ্ছে।
ভোর থেকেই ঢাকার বিভিন্ন কেন্দ্রে প্রথমবারের ভোটারদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। অনেকেই দেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদ প্রকাশ করেছেন এবং সংস্কার, স্থিতিশীলতা ও দুর্নীতির অবসান চেয়েছেন।
আইএএনএস-কে এক প্রথমবারের ভোটার বলেন, “আমি খুব খুশি ও উত্তেজিত যে আজ ভোট দিতে পেরেছি। আগে কখনও ভোট দিইনি। আশা করি, আমার ভোট একটি সুস্থ ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশের জন্য কাজে আসবে। যে-ই ক্ষমতায় আসুক, দেশকে নিরাপদ ও সমৃদ্ধ করুক।”
অন্য এক ভোটার বলেন, “এই নির্বাচনের মাধ্যমে আমরা একটি সুন্দর ও দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ দেখতে চাই।”
অনেক তরুণ ভোটার এই নির্বাচনকে দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত হিসেবে বর্ণনা করেছেন। এক প্রথমবারের ভোটার বলেন, “আমি চাই প্রগতিশীল মানসিকতা, নৈতিকতা ও নেতৃত্বগুণসম্পন্ন কেউ ক্ষমতায় আসুন। এটা আমার প্রথম ভোট, তাই আমি খুবই উত্তেজিত। দেশের জন্য একজন দূরদর্শী ও শক্তিশালী নেতা দরকার।”
আরেকজন ভোটার দাবি করেন, অতীতের তুলনায় এবার ভোটদানের পরিবেশ বেশি উন্মুক্ত। তিনি বলেন, “এবার আমরা অনেক বেশি স্বাধীনভাবে ভোট দিতে পারছি বলে মনে হচ্ছে। আগে ভোট দিয়েছিলাম, কিন্তু এমন নির্ভয়ে পারিনি।”
২৭ বছর বয়সি এক ভোটার জানান, আগের শাসনামলে তিনি ভোট দেওয়ার সুযোগ পাননি। “আজ জীবনে প্রথমবার ভোট দিলাম। এত বছর ভোট দেওয়ার সুযোগ ছিল না। অবশেষে প্রতিনিধি বেছে নেওয়ার সুযোগ পেলাম, তাই এসেছি,” বলেন তিনি।
ভোটারদের মধ্যে প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের দাবিও জোরালো ছিল। এক তরুণ ভোটার বলেন, “দেশে সংবিধান, নিয়মকানুন ও সামগ্রিক প্রশাসনিক ব্যবস্থায় সংস্কার খুব জরুরি। দীর্ঘদিন ধরে অপব্যবস্থা ও দুর্নীতি হয়েছে। পরিবর্তন দরকার।”
শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণ নিশ্চিত করতে রাজধানীসহ দেশজুড়ে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ঢাকায় সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তা করতে। বিভিন্ন কেন্দ্রের আশেপাশে ঘোড়সওয়ার পুলিশকেও টহল দিতে দেখা গেছে।
কর্তৃপক্ষ নাগরিকদের শান্তিপূর্ণভাবে ভোটদান ও আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছে। আগামী দিনের রাজনৈতিক দিকনির্দেশ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ এই নির্বাচনে দিনভর ভোটগ্রহণ চলবে।
