লন্ডন, ১১ ফেব্রুয়ারি: বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত হতে চলা বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচন রাজনৈতিক ক্ষমতার পালাবদল ঘটাতে পারে, তবে দেশের সামগ্রিক রাজনৈতিক কাঠামোতে বড় পরিবর্তনের সম্ভাবনা কম— এমনই দাবি করেছে একটি আন্তর্জাতিক বিশ্লেষণধর্মী প্রতিবেদন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ক্ষমতার কেন্দ্রে আসতে পারে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল। পাশাপাশি জামায়াতে ইসলামীও উল্লেখযোগ্যভাবে শক্তি বৃদ্ধি করতে পারে এবং ছাত্র রাজনীতি থেকে উঠে আসা কয়েকজন প্রার্থী সংসদে প্রবেশ করতে পারেন। তবে শাসনব্যবস্থার দীর্ঘদিনের কাঠামোগত সমস্যাগুলি অপরিবর্তিত থাকার আশঙ্কাই বেশি।
প্রায় ১২ কোটি ৮০ লক্ষ ভোটার এ বার ভোটদানে অংশ নিতে পারেন বলে অনুমান করা হচ্ছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ভোটার আগে কখনও সম্পূর্ণ অবাধ ও নিরপেক্ষ ভোটের অভিজ্ঞতা পাননি বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। প্রায় ১৫০টি রাজনৈতিক দল নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে, ফলে ব্যালট পত্র দীর্ঘ হওয়ার সম্ভাবনাও উল্লেখ করা হয়েছে।
বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, সম্ভাব্যভাবে এগিয়ে রয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল, যারা ৫০ শতাংশের বেশি সমর্থন পেতে পারে বলে ধারণা। বর্তমানে দলের নেতৃত্বে রয়েছেন তারেক রহমান, যিনি দীর্ঘ সময় বিদেশে থাকার পর গত বছর দেশে ফিরে আসেন। তাঁর মা খালেদা জিয়া অতীতে দেশের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। তবে অতীত শাসনামলে দুর্নীতির অভিযোগ ঘিরে দলটির ভাবমূর্তি প্রশ্নের মুখে পড়েছিল— এমন কথাও প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে।
অন্যদিকে, প্রধান চ্যালেঞ্জার হিসেবে উঠে এসেছে জামায়াতে ইসলামী। শফিকুর রহমানের নেতৃত্বে দলটি নতুন করে সংগঠিত হয়েছে এবং প্রায় ৩০ শতাংশ সমর্থন পেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। যদিও দলটি দাবি করছে যে তারা নিজেদের অবস্থানে সংস্কার এনেছে, তবু বিশেষ করে নারী প্রতিনিধিত্বের প্রশ্নে তাদের অবস্থান নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। উল্লেখযোগ্য বিষয়, এ বারও দলটি কোনও নারী প্রার্থী দেয়নি।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, সাধারণ মানুষের মধ্যে নির্বাচনের প্রতি বিশেষ উচ্ছ্বাস দেখা যাচ্ছে না। অনেকেই এটিকে বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রদর্শনী হিসেবে দেখছেন, যেখানে প্রকৃত পরিবর্তনের সম্ভাবনা সীমিত। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ক্ষমতার হাতবদল হলেও রাষ্ট্রের প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতা, অর্থনৈতিক বৈষম্য ও রাজনৈতিক সংস্কৃতির মৌলিক সমস্যাগুলি সমাধান না হলে দেশের রাজনৈতিক বাস্তবতায় বড় রদবদল আসবে না।
