নিজের অপ্রকাশিত স্মৃতিকথা ফোর স্টারস অব ডেস্টিনি ঘিরে তীব্র বিতর্কের মধ্যে প্রথমবার প্রকাশ্যে প্রতিক্রিয়া দিলেন প্রাক্তন সেনাপ্রধান জেনারেল এম এম নারাভানে। তিনি বইটির প্রকাশ-সংক্রান্ত অবস্থান ব্যাখ্যা করে প্রকাশক পেঙ্গুইন র্যান্ডম হাউস ইন্ডিয়া (PRHI)-র বিবৃতি সামাজিক মাধ্যম এক্সে শেয়ার করেছেন।
লোকসভায় রাষ্ট্রপতির ভাষণের উপর ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী তাঁর বই থেকে উদ্ধৃতি দেওয়ার চেষ্টা করার পর থেকেই বিতর্ক শুরু হয়। সেই ঘটনার পর এই প্রথম মুখ খুলে নারাভানে লেখেন, “এটাই বইটির বর্তমান অবস্থান,”—PRHI-র বিবৃতি শেয়ার করে।
প্রকাশকের বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, ফোর স্টারস অব ডেস্টিনি এখনও প্রকাশিত হয়নি। শুধুমাত্র প্রি-অর্ডার ঘোষণা হওয়ার অর্থ বই প্রকাশ হয়ে গেছে—এমনটা নয়। PRHI আরও স্পষ্ট করেছে যে, প্রাক্তন সেনাপ্রধান মনোজ মুকুন্দ নারাভানের এই স্মৃতিকথার একমাত্র প্রকাশস্বত্ব তাদের কাছেই রয়েছে এবং বইটির যে কোনও অংশ প্রচার বা বিতরণ করা হলে তা কপিরাইট লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য হবে।
এই বিবৃতি আসে দিল্লি পুলিশ একটি মামলা দায়ের করার পর। অভিযোগ ওঠে, সরকারি অনুমোদন ছাড়াই বইটির একটি প্রি-প্রিন্ট কপি অনলাইনে ছড়িয়ে পড়েছে। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ দেখতে পায়, পেঙ্গুইন র্যান্ডম হাউস ইন্ডিয়া প্রাইভেট লিমিটেডের নামে টাইপসেট করা একটি পিডিএফ কপি কিছু ওয়েবসাইটে উপলব্ধ ছিল।
এরপর রাহুল গান্ধী প্রকাশ্যে বলেন, তিনি প্রকাশকের তুলনায় প্রাক্তন সেনাপ্রধানের কথায় বেশি ভরসা করেন। তাঁর দাবি, বইটি অ্যামাজনে পাওয়া যাচ্ছে এবং নারাভানে ২০২৩ সালে নিজেই বই কেনার আহ্বান জানিয়ে টুইট করেছিলেন। রাহুলের অভিযোগ, বইয়ে এমন কিছু তথ্য রয়েছে যা ভারত সরকার ও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর পক্ষে অস্বস্তিকর, তাই এই বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
প্রসঙ্গত, গত সপ্তাহে এই বিতর্ক তীব্র আকার নেয়, যখন রাহুল গান্ধী নারাভানের বই সংক্রান্ত একটি ম্যাগাজিন প্রতিবেদনের উল্লেখ করে দাবি করেন, ২০২০ সালের লাদাখ সংঘর্ষের সময় চিনা ট্যাঙ্ক ভারতীয় ভূখণ্ডে প্রবেশ করেছিল। তবে সরকার পক্ষ থেকে জানানো হয়, বইটি এখনও প্রকাশিত হয়নি, তাই সংসদে তা উদ্ধৃত করা যায় না।
