মঙ্গলবার জম্মু ও কাশ্মীর বিধানসভায় তীব্র হট্টগোলের পরিস্থিতি সৃষ্টি হয় মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লার কিছু মন্তব্যকে ঘিরে। বিজেপি বিধায়কেরা তাঁর বক্তব্যে আপত্তি জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর কাছ থেকে প্রকাশ্য ক্ষমা দাবি করেন। বিধানসভায় কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের বাজেট নিয়ে আলোচনার জবাবে ওমর আবদুল্লা বাজেটের পক্ষে সওয়াল করেন এবং একই সঙ্গে ভারত-আমেরিকা বাণিজ্য চুক্তির সমালোচনা করেন।
মুখ্যমন্ত্রীর কিছু মন্তব্যকে বিজেপি সদস্যরা “অসংসদীয়” বলে আখ্যা দেন এবং স্লোগান তুলে প্রতিবাদ শুরু করেন। বিধানসভার স্পিকার আবদুল রহিম রাথার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে বিজেপি সদস্যদের আসনে বসতে অনুরোধ করেন এবং জানিয়ে দেন, এই প্রতিবাদ কার্যবিবরণীতে নথিভুক্ত করা হবে না।
ভারত-আমেরিকা বাণিজ্য চুক্তি প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, এই চুক্তি জম্মু ও কাশ্মীরের উদ্যানচাষিদের স্বার্থের পরিপন্থী। আমেরিকা থেকে শুল্কমুক্ত কৃষিপণ্য আমদানি হলে বাদাম, আপেল, কেশর, কিউই-সহ বিভিন্ন ফসলের উপর নির্ভরশীল স্থানীয় চাষিদের ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়তে হবে।
ওমর আবদুল্লার বক্তব্য, যারা এই বাণিজ্য চুক্তিকে সমর্থন করছেন, তাদের ব্যাখ্যা করা উচিত—এতে জম্মু ও কাশ্মীরের কী লাভ হবে। তিনি বলেন, “শুল্কমুক্তভাবে গাছজাত বাদাম, শুকনো ফল, তাজা ফল ও দুগ্ধজাত পণ্য আমদানি হলে আমাদের কী থাকবে? জম্মু ও কাশ্মীরের অর্থনীতি এই পণ্যগুলির উপরই নির্ভরশীল।”
মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, এই চুক্তি দেশের অন্য অংশে লাভজনক হতে পারে, কিন্তু জম্মু ও কাশ্মীরের ক্ষেত্রে তা শুধুই ক্ষতির কারণ হবে। স্থানীয় উদ্যান শিল্পকে চাঙ্গা করার সময়েই এই চুক্তি এসেছে, যার ফলে কিউই চাষি ও মৌচাষিরাও বড় ধাক্কার মুখে পড়বেন বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
বিধানসভার বাইরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ওমর আবদুল্লা স্পষ্ট জানিয়ে দেন, বিজেপি সদস্যদের কাছে ক্ষমা চাওয়ার কোনও প্রশ্নই ওঠে না। তাঁর অভিযোগ, বিরোধীরা তাঁকে কথা বলতে দেয়নি এবং বারবার বক্তব্যে বাধা দিয়েছে।
এদিন পাকিস্তানের তরফে ভারত-পাকিস্তান টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ম্যাচ বয়কটের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার নিয়েও মন্তব্য করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, “যদি হুমকি টিকিয়ে রাখতে না পারে, তাহলে হুমকি দেওয়া উচিত নয়। তারা ভয় পেয়ে সিদ্ধান্ত বদলেছে।”
অন্যদিকে, বিধানসভার কার্যক্রম নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন বিরোধী দলনেতা সুনীল শর্মা। তাঁর দাবি, এই দিনটি জম্মু ও কাশ্মীর বিধানসভার ইতিহাসে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে কলঙ্কিত করার দিন হিসেবে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। তাঁর অভিযোগ, মুখ্যমন্ত্রী শালীনতার সব সীমা অতিক্রম করেছেন, যা কোনও মুখ্যমন্ত্রীর কাছেই প্রত্যাশিত নয়।
