পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে শুক্রবার জুমার নামাজ চলাকালীন ভয়াবহ বিস্ফোরণে অন্তত ৩১ জন নিহত এবং ১৬০ জনের বেশি আহত হয়েছেন বলে সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর। দক্ষিণ-পূর্ব ইসলামাবাদের তারলাই কালান এলাকায় অবস্থিত ইমামবারগাহ খাদিজা আল-কুবরায় এই বিস্ফোরণ ঘটে।
ইসলামাবাদ ক্যাপিটাল টেরিটরি পুলিশের মুখপাত্র তাকি জাওয়াদ জানান, বিস্ফোরণের প্রকৃতি সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া এখনও সময়সাপেক্ষ হলেও প্রাথমিকভাবে এটি আত্মঘাতী হামলা বলেই মনে করা হচ্ছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের দাবি, হামলাকারী ফিতনা আল-খাওয়ারিজ গোষ্ঠীর সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারে এবং ইমামবারগার গেটের কাছে আটকানোর পর সে নিজেকে উড়িয়ে দেয়।
বিস্ফোরণের পরপরই গোটা এলাকা ঘিরে ফেলে নিরাপত্তা বাহিনী এবং জেলা প্রশাসন ঘটনাস্থল সম্পূর্ণ সিল করে দেয়। পাকিস্তান সেনা ও রেঞ্জার্স বাহিনী এলাকায় তল্লাশি ও নিরাপত্তা অভিযান শুরু করেছে।
আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে পাকিস্তান ইনস্টিটিউট অব মেডিক্যাল সায়েন্সেস (PIMS)-সহ নিকটবর্তী বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে ইসলামাবাদের পলিক্লিনিক, PIMS এবং CDA হাসপাতালে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে। রোগীর সংখ্যা বাড়তে থাকায় ইসলামাবাদ ও রাওয়ালপিন্ডির অন্যান্য হাসপাতালেও আহতদের পাঠানো হচ্ছে।
পাকিস্তানের রাষ্ট্রপতি আসিফ আলি জারদারি এই হামলাকে ‘মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ’ বলে আখ্যা দিয়ে নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন। তিনি আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করেন এবং সর্বোচ্চ চিকিৎসা পরিষেবা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেন। সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী তারিক ফজল চৌধুরিও হামলার নিন্দা করে একে ‘কাপুরুষোচিত সন্ত্রাসবাদী কাজ’ বলে মন্তব্য করেন এবং শান্তি ও স্থিতিশীলতার স্বার্থে জাতীয় ঐক্যের আহ্বান জানান।
