অন্তরকলহ ও বিট্রেয়ালের ইতিহাস আমি লেখা থেকে এড়িয়ে চলি, এই সমস্ত বিষয় তো গর্ব করে বলার কিছু না। তবে ১৩১৭ থেকে ১৩৯১ এই সময়কালের দেব বংশের ইতিহাস নিয়ে বলা আজ খুব প্রয়োজন হয়ে পড়েছে। অনেক ইতিহাসবিদ মহেন্দ্র দেবকে ভুল করে দনুজারিদেবের পুত্র বলে ঠাউরেচ্ছেন যেখানে তাঁদের মধ্যে ৬ প্রজন্মের গ্যাপ । অবশ্য এতে তাঁদের দোষ নেই আমরাই ইচ্ছে করে এই সময়কালের চন্দ্রদ্বীপের রাজনৈতিক পট নিয়ে লিখিনি।
যদিও এর অন্যতম কারণ বাঙালি ইতিহাসবিদদের দেব বংশের ইতিহাস লেখা নিয়ে উদাসীনতা। দেব বংশের ইতিহাস বরাবরই কনফিউশন বিভিন্ন ঐতিহাসিকদের পরস্পর বিরোধী কন্ট্রাডিক্টরি লেখা ও কাস্ট সুপ্রিমেসিস্টদের হাতে ইতিহাস লেখার ফলে অসংখ্য কনফারমেশন বায়াসের শিকার। যাতে করে দেব বংশের ইতিহাস বরিশালের স্থানীয় ইতিহাস থেকে বেরিয়ে প্যান বেঙ্গল হতে পারেনি সেন পাল বা বর্মন বংশের মত । তবে কনফিউসনটা দূর করাই ভালো
৩য় দেব বংশের বিষয়ে বলতে গেলে ২ য় দেব বংশের বিষয়ে কিছু জানা দরকার।
প্রথম তিন শাসকের নাম জানা যায় পুরুষোত্তম দেব , মধুমথন/ মধুসূদন দেব, বাসুদেব। পুরুষোত্তম দেব এক ভিলেজ চিফটেন বা গ্রামীণ থেকে নিজের প্রশাসনিক দক্ষতায় বল্লাল সেনের সময়কালে চট্টগ্রাম কুমিল্লা অঞ্চলে এক শক্তিশালী সামন্ত রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন । তাঁর বংশ পরিচয় জানা না গেলেও পূর্ববর্তী পাল শাসনকালীন বৌদ্ধ দেব বংশ বীর দেব বা শান্তিদেবের উত্তর সূরী ছিলেন। তবে পূর্বসূরিদের মত এরা বৌদ্ধ না বৈষ্ণব ছিলেন। ৪র্থ শাসক দামোদরদেবের চট্টগ্রাম তাম্রশাসন যা শকাব্দ ১১৬৫ সালে দেওয়া হয়েছিল।’চট্টগ্রামের ইতিহাস’-এর লেখক ও ত্রিপুরার রাজবংশের একজন সদস্য পূর্ণচন্দ্র দেববর্মা তত্ত্বনিধির মতে, দামোদর দেব চট্টগ্রাম ত্রিপুরা থেকে শ্রীহট্ট মণিপুর পর্যন্ত তাঁর সাম্রাজ্য বিস্তৃত করেছিলেন।
দামোদর দেব
সেন বংশের দুর্বল হতে থাকা ইনফ্লুয়েন্সের সাথে সাথেই দেবদের প্রভাব আরো বাড়তে থাকে এবং তারা বিশ্বরুপ সেনের সময়কালেই একটি ডিফ্যাক্টো ইন্ডিপেন্ডেন্ট স্টেটের মত আচরণ করতে থাকে । রাজা মধুসূদন দেবের পুত্র রাজা দামোদর দেব দেববংশের চতুর্থ নৃপতি ছিলেন। পরমসৌর বঙ্গাধিপ গৌড়েশ্বর বিশ্বরূপ সেনের সামন্ত হিসেবে সমতট ও চট্টগ্রাম শাসন করতেন। ত্রিপুরা-চট্টগ্রাম অঞ্চলে প্রাপ্ত রাজা দশরথের মহিষী কন্দর্পদেবীর প্রদত্ত পাকামোরা তাম্রলিপি থেকে তাঁর সামরিক বিজয় সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়। এই ত্রিপুরা-চট্টগ্রাম অঞ্চলে রাজা দামোদর দেবের মোট তিনটি তাম্রলিপি আবিষ্কৃত হয়েছে। এগুলো থেকে জানা যায় যে, তিনি আনুমানিক ১২৩১ খ্রিস্টাব্দে সিংহাসনে আরোহণ করেন এবং ১২৫৫ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত রাজত্ব করেন।
তিনি “অরিরাজ-চানুর-মাধব-সকল-ভূপতি-চক্রবর্তী” উপাধি ধারণ করেছিলেন। কুমিল্লা শিলালিপি অনুসারে, তাঁর রাজ্য আধুনিক বাংলাদেশের কুমিল্লা-নোয়াখালী-চট্টগ্রাম অঞ্চল পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। তৎকালীন ত্রিপুরার ইতিহাসের দলিল রাজমালায় ত্রিপুরায় সেনদের সৈন্যাভিযানের উল্লেখ পাওয়া যায় যা আমরা দীনেশ চন্দ্র সেনের বৃহৎ বঙ্গেও পাই খুব সম্ভবত এই অভিযানের নেতৃত্ব দামোদরদেবই করেন ।
পাকামোরা তাম্রশাসনের ভাগবত বিষ্ণুচক্রে নিম্নলিখিত বাংলা শিলালিপি রয়েছে – তিনি হলেন ‘সুদর্শনাধারী’ বিষ্ণুপদধন্য দেবানভ্য কুলকমল নৃপতি দামোদর, যিনি গৌড়দেশের সম্মান উদ্ধার করে গৌড়মহোৎসব সম্পন্ন করেছিলেন।.(“খ্যাতো গৌড়মহীমহোৎসবময়ং চক্রে পুনশ্চ শ্রিয়া”)।
দেবরা ক্ষমতায় এ সময়ে সেন বংশকে ছাড়িয়ে গেলেও আনুষ্ঠানিকভাবে সেন বংশের অধীনস্থৈ ছিলেন। বলা ভালো ১৩৪০ র কাছাকাছি সময়ে পূর্ব সেন সাম্রাজ্য সেন কনফেডারেশনে পরিণত হয় কেন্দ্রীয় শক্তির বিকেন্দ্রীকরণের ফলে সূর্যসেনের সময়ে পূর্ব সেন সাম্রাজ্যের বিভিন্ন অঞ্চলে বড় বড় সামন্তরাই দন্ডমূর্তের কর্তা হয়ে যান দক্ষিণ বঙ্গের ভাটিতে প্রভাকর রায় ( দক্ষিণ রায়ের পিতা) , উত্তরে শ্রীহট্টে গৌড় গোবর্ধন ( গৌড় গোবিন্দের কাকা) , দক্ষিণ পূর্বে বরিশাল চট্টগ্রামে দামোদর দেব । এতে যদিও পূর্ব সেন সাম্রাজ্যের লাভই হয়েছিল। যখন সেনরা পশ্চিমে করতোয়া নদী তীরে দিল্লি সালতানাতকে প্রতিরোধ করছিল সে সময় সাভারে সেন বংশের রণধীর সেন গারো পর্বত পর্যন্ত অভিযান পরিচালনা করেন(আমার সাভার সেন বংশের উপর কাঞ্জিকের আর্টিকেল দেখুন), গৌড় গোবিন্দ লাউড় ও জয়ন্তিয়া জয় করে খাসি পর্বত অবধি অভিযান করেন এবং দামোদর দেব পার্বত্য চট্টগ্রাম মণিপুর ত্রিপুরায় আধিপত্য বিস্তার করেন ফলত সেন সাম্রাজ্যের প্রভাব উত্তর পূর্ব ভারতে বিস্তার লাভ করে।
রাজা দামোদর দেব বিক্রমপুরের সেনাবাহিনীর নেতৃত্ব দিয়ে গৌড় পুনরুদ্ধার করেন। এই বিষয়টি পূর্বে উল্লেখিত হয়েছে। এবং এর সপক্ষে তথ্য ত্রিপুরার ইতিহাসে (রাজমালা) পাওয়া যায়। সেখানে বলা হয়েছে যে, আনুমানিক ১২৪০ খ্রিস্টাব্দে সেন রাজবংশ গৌড় প্রদেশ পুনরুদ্ধার করেছিল।
দনুজারি দশরথ দেব
রাজা দামোদরদেবের পুত্র এবং দেব বংশের পঞ্চম বংশধর ছিলেন পরমেশ্বর পরমভট্টারক মহারাধীরাজ অরিরাজদনুজমাধব দশরথ দেব, যিনি দনুজ রায় (রাই-ই-বাঙ্গালা) নামে বেশি বিখ্যাত। কুলচার্য হরিমিশ্রের কুলকরিকা এবং আবুল ফজলো ‘আইন-ই-আকবরী’তেও দনুজ রায়ের বীরত্বের প্রসংশা করেছেন।
গৌড়েশ্বর পরমসৌগত মধুসেনের সামন্ত হিসেবে দনুজ রায় ১২৭২ খ্রিস্টাব্দে গৌড় আক্রমণ করেন এবং দিল্লি সালতানাতের গভর্নর শের খানকে পরাজিত ও হত্যা করে গৌড় জয় করেন। দনুজ রায়ের আদাবাড়ি তাম্রলিপিতে উল্লেখ আছে যে, মহারাজ দশরথদেব ভগবান নারায়ণের কৃপায় গৌড় রাজ্য পুণরাধিকার করতে সক্ষম হয়েছিলেন। ১২৮১ সালে বিক্রমপুরে মহারাজ দশরথ দেবের বিজয়ের পর রাজধানী থেকে এই তাম্রশাসনটি প্রদান করা হয়েছিল। আদাবাড়ি তাম্রলিপিতে শঙ্খ-চক্র-গদা-পদ্ম ধারণ করা চতুর্ভুজ যোগাসনে উপবিষ্ট নারায়ণ মূর্তির বর্ণনা রয়েছে।
(“ইহ-খলু বিক্রমপুর সমাবাসিত শ্রীমৎ বিজয় স্কন্ধাবারাৎ শ্রীমন্নারায়ণ চরণকৃপা-প্রসাদমাসাদিত গৌড় রাজ্য অশ্বপতি গজপতি নরপতি রাজত্রয়াধিপতি দেবান্বয় কমলবিকাশভাস্কর সোমবংশ প্রদীপপ্রতিপন্ন কর্ণসত্যব্রত গাঙ্গেয় শরণাগত বজ্রপন্থর পরমেশ্বর পরমভট্টারক মহারাজাধিরাজ অরিরাজদনুজমাধব শ্রীমদ্দশরথদেব পাদা- বিজয়িন:”)
এই সময়ে পূর্ববঙ্গের রাজনৈতিক পরিস্থিতি অত্যন্ত জটিল হয়ে ওঠে। তিব্বতি লামা তারানাথের বৌদ্ধ বিবরণী থেকে জানা যায় যে, পরমসৌগত মধুসেনের মৃত্যুর পর তাঁর দুই পুত্র লবসেন ও বুদ্ধসেনের মধ্যে সিংহাসন নিয়ে তীব্র ভ্রাতৃবিরোধ শুরু হয়। সাভারের সেনবংশীয় আরেক রাজা ধীমন্তসেনও (কার্তিক) বিক্রমপুরের সিংহাসন দখলের জন্য এগিয়ে আসেন। সেনবংশের এই অন্তর্দ্বন্দ্বের সুযোগে লখনৌয়ের শাসনকর্তা মুঘিসউদ্দিন তুঘরিল সুবর্ণগ্রাম দখল করে নেন।
উত্তর থেকে রণবীর সেন এবং দক্ষিণ থেকে রাজা দনুজ রায়ের আক্রমণে সেন রাজবংশের পতন ঘটে। রণধীর সেন সুলতানের অধীনস্থ সামন্ত রাজা হিসেবে ব্রহ্মপুত্র ব-দ্বীপ এবং সাভার অঞ্চলে শাসনকার্য চালিয়ে যান।
ধীমন্তপুত্রো রণধীরসেনঃ
সংগ্রামজেতা ইব কার্ত্তিকেয়ঃ ।
হিমালয়ব্যাপ্ত দেশান্বিজিত্য
সারপুৰ্য্যামবসৎ প্রবীরঃ ॥
উত্তরের রণধীরসেন এবং দক্ষিণের রাজা দনুজ রায়ের আক্রমণে সেন রাজবংশের পতন ঘটে। পাকামোরা পট্টলিতে যেমন উল্লেখ আছে, পূর্ববর্তী রাজাদের মূর্খতার ফলে শত্রুকে বাংলায় (তখনকার বাংলা বলতে দক্ষিণ-পূর্ব বাংলাকে বোঝাত) আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল।
পূর্বাং কুলমচেতনস্থ নৃপতেদোষাৎ পরৈরধিতৈ-
রাক্রান্তং বিকলান্তদেব সকলা লোকা ওয়াদাকুল’:
প্রমান্য মহীপতিশিরখো দেবো চা-দেবোপমো
যৎপাদ প্রণতাগুয়-প্রযুদিতা ধর্মার্থ-কামোহিতাঃ ।
সেন বংশের পতনে প্রজারা ভীতসন্ত্রস্ত ছিল, কিন্তু রাজা দনুজারিমাধব আবার প্রজাদের নিরাপত্তা প্রদান করেন এবং ধর্ম, অর্থ ও জীবনের ক্ষেত্রে তাদের সমৃদ্ধি দান করেন। প্রাচীন কুলাচার্য হরিমিত্রের দেববংশ কুলগ্রন্থে তাঁর কথায় এটি পাওয়া যায়।
“প্রাদুরভবৎ ধর্মাত্মা সেনবংশাদনন্তবম্ ।
দনৌজামাধব: সর্ব্ব ভূপৈ: সেব্যপদাম্বুজম ।।”
মঙ্গোলদের সাথে যুদ্ধ এবং দশরথ দেব ও আরাকানের সংহতি
সেন বংশের পতনে দেবরা প্রকৃতপক্ষেই সার্বভৌমত্ব লাভ করেন। কিন্তু তার আগেও তিনি আরাকান রাজের মঙ্গলোল সাম্রাজ্যের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সৈন্য সহায়তা করে মিং রাজবংশের সাথে গভীর মৈত্রী স্থাপন করেন।
মার্কোপোলোর বিবরণে বাংলা ও বার্মায় মিং রাজবংশের বিরুদ্ধে মঙ্গোল আক্রমণের উল্লেখ রয়েছে।
১২৭৬ সালের দিকে মঙ্গোল অভিযানের একটি বিবরণ পাওয়া যায়। এই যুদ্ধে ১২,০০০ অশ্বারোহী ২,০০০ বাঙালি এবং মিং রাজবংশের হাতির বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছিল। এখানে বাংলার রাজার নাম উল্লেখ করা হয়নি। তবে এটা অনুমান করা খুব সহজ যে, এই বাংলার রাজা সম্ভবত দনুজ রায় দশরথ দেবই ছিলেন।
যা খুবই সম্ভব, কারণ এই সময়ে আরাকান রাজবংশের সাথে মৈত্রী সম্পর্ক তার শিখরে পৌঁছেছিল।
এই যুদ্ধের ফলাফল অমীমাংসিত রয়ে গেছে কারণ আরও বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায় না। যদিও মার্কো পোলো কুবলাই খানকে বিজয়ী বলেছেন।দশরথ দেবের তাম্রলিপিতে চন্দ্র চিহ্নের কারণও এটি হতে পারে।
সেই যুদ্ধের কথা বার্মিজ ইতিহাসেও উল্লেখ আছে। বার্মিজ ইতিহাসে দশরথ দেব দনুজ রায়কে Nga-pu-kin নগা-পু-কিন (দনুজের অপভ্রংশ) হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এই যুদ্ধে বার্মার শান শাসকরা মঙ্গোলদের পক্ষে অংশ নিয়েছিল।
বাঙ্গাল-দিল্লি চুক্তি (1281 খ্রিস্টাব্দ): দিল্লির সুলতান গিয়াসউদ্দিন বলবন উঠে দাঁড়িয়ে বাংলার সম্রাট দনুজ রায়কে অভিবাদন জানান:-
মুসলিম ঐতিহাসিক জিয়াউদ্দিন বারানী লিখেছেন, তারিখ-ই-ফিরোজশাহী (تاریخ فیروزشاهی) সুলতান-ই-দেলেহ গিয়াসুদ্দিন বলবন এবং বাংলার সম্রাট দেবকুলপ্রদীপ মহারাজ দশরথদেবের মধ্যে ঐতিহাসিক চুক্তির কথা বলে। 1280 খ্রিস্টাব্দে বিহার-লখনৌতির মামলুক গভর্নর মুগিসুদ্দিন তুঘরাল দিল্লির সুলতানের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করেন।
এই বিষয়ে তথ্য কুলকারিকা থেকেও পাওয়া যায়।
তস্মাভূতনয়ঃ প্রচণ্ড বিনয়ঃ শ্রীঃকশবাখ্যঃ স্বয়ং ।
দেশঞ্চাপি বিহায় বঙ্গমগমং ভীতত্ত্বরস্কাং ততঃ।
তন্ত্রাসীং দনুজারিমাধবঃ নৃপঃতং কেশব ভূপতি ।
সৈন্যৈঃ বিপ্রগণৈঃ পিতামহক্বতেন রণৈশ্চ যুক্ত গতঃ৷
তুঘরলকে দুই দিক থেকে ঘিরে ফেলার জন্য গিয়াসউদ্দিন বলবানের বাংলার সম্রাট দনুজ রায়ের সাহায্যের প্রয়োজন ছিল। কাকতালীয়ভাবে, এই বিদ্রোহী তুঘরল, বলবান এবং দনুজ উভয়েরই শত্রু ছিল, তাই বলবান ‘শত্রুর শত্রু মিত্র’ এই নীতিবাক্যটি স্মরণ করে রাজা দনুজ রায়ের সাথে একটি চুক্তি করার সিদ্ধান্ত নেন।
দিল্লির সুলতান গিয়াসউদ্দিন বলবন বাংলায় এসে বিক্রমপুরের সম্রাট দশরথদেব দনুজ রায়ের সাথে সাক্ষাৎ করতে চাইলেন এবং বন্ধুত্বের প্রস্তাব দিলেন। এই সাক্ষাতের সময় দিল্লিতে সুলতান একটি উভয়সংকটে পড়লেন – পরাক্রমশালী বাংলার রাজা দনুজ রায় শর্ত দিলেন যে, তাঁর সাথে সাক্ষাৎ করতে হলে দিল্লির সুলতানকে তাঁর সামনে উঠে দাঁড়িয়ে তাঁকে অভিবাদন জানাতে হবে, এরপরই বাংলার সম্রাট সন্ধিতে অংশ নেবেন। এই শর্তে বলবন বিপাকে পড়েন। দিল্লির সুলতানের পক্ষে বাংলার বিধর্মী রাজাকে এভাবে সম্মান দেখানোটা অগ্রহণযোগ্য ছিল, অথচ বাংলার সম্রাট দনুজ রায়কে সম্মান না দেখালে সন্ধি সম্ভব হতো না।
তুঘরলের বিরুদ্ধে অভিযানের দায়িত্বে থাকা সেনাপতি মালিক ইখতিয়ারউদ্দিন নেক্তার অবশেষে নিরাপদে বঙ্গাধিপের সাথে সাক্ষাতের পথ পরিষ্কার করলেন। তিনি পরামর্শ দিলেন যে, সুলতান যেন আগে থেকেই হাতে একটি বাজপাখি নিয়ে দরবারে বসে থাকেন। এরপর যখন বঙ্গরাজ দনুজমাধব আসবেন, তখন সুলতান উঠে দাঁড়িয়ে বাজপাখিটি উড়িয়ে দেবেন। সবাই ভাববে যে পাখিটি উড়ে যাওয়ার কারণেই সুলতান উঠে দাঁড়িয়েছেন। সুলতান দনুজ রায়কে অভ্যর্থনা জানাবেন। এই উপদেশের জন্য সেই জ্ঞানী ব্যক্তিটি সুলতানের কাছ থেকে পুরস্কার লাভ করলেন।
সুতরাং সুলতান বলবন সেই পথই অনুসরণ করলেন। মৈত্রী চুক্তি সম্পাদনের পথে আর কোনো বাধা রইল না। দিল্লির সুলতানকে একজন হিন্দু রাজার সম্মানে উঠে দাঁড়িয়ে অভিবাদন জানাতে বাধ্য হওয়ার মতো ঘটনার উদাহরণ খুব বেশি নেই। প্রখ্যাত ঐতিহাসিক ডক্টর রমেশচন্দ্র মজুমদার তাঁর ‘দ্য দিল্লি সালতানাত’ গ্রন্থের ষষ্ঠ খণ্ডে উল্লেখ করেছেন—
“সুলতান হাতে একটি বাজপাখি নিয়ে সিংহাসনে বসেছিলেন, এবং রায় দনুজের আগমনে তিনি উঠে দাঁড়ালেন ও বাজপাখিটিকে ছেড়ে দিলেন, যাতে লোকেরা অনুমান করে যে তিনি কেবল পাখিটিকে উড়ানোর জন্যই সিংহাসন ছেড়ে উঠেছেন। এই সরলমনা হিন্দু রাজার সাথে কৌশল করে মুসলিম সম্মান রক্ষা করা হয়েছিল।”
দিয়ার-ই-বাঙ্গালার যুদ্ধ
রাজা দনুজ রায়ের সাথে সুলতান বলবনের চুক্তি সত্ত্বেও, বলবনের নজর ছিল দনুজের সাম্রাজ্যের উপর। এরপর তিনি তার পুত্র ও সেনাপতি নাসিরুদ্দিন বগুড়া খানকে “দিয়ার-ই-বাঙ্গালাহ” ( دیار بنگلا) জয় করার নির্দেশ দেন। কিন্তু রাজা দনুজ রায় খুব সহজেই বগুড়া খানকে পরাজিত করে পালাতে বাধ্য করেন। জিয়াউদ্দিন বরানীর তারিখ-ই-ফিরোজশাহীতে উল্লিখিত হিসাবে, বাংলার রায় (রাজা) দনুজমধবের প্রতিরোধের কারণে বগুড়া খান সুলতানের আদেশ পালন করতে অক্ষম হন।
সুবর্ণগ্রামের বিজয় (১২৯৪ খ্রিস্টাব্দ)
১২৮১ খ্রিস্টাব্দে বিহার-লক্ষণাবতীর শাসক মুঘিসউদ্দিন তুঘরল দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় অভিযানের সময় সেন রাজবংশের অভ্যন্তরীণ কোন্দলের সুযোগ নিয়ে সুবর্ণগ্রাম দখল করেন। পূর্ববঙ্গের সবচেয়ে সমৃদ্ধশালী ও জাঁকজমকপূর্ণ শহর সুবর্ণগ্রামকে পুনরুদ্ধার করার জন্য মহারাজ দনুজমাধব এক পবিত্র অভিযানে ব্রতী হন। তখন বিহার-লক্ষণাবতীতে দিল্লি সালতানাতের গভর্নর হিসেবে শামসুদ্দিন ফিরোজ শাহ শাসন করছিলেন। সেই সময় বিহারের কর্তৃত্ব নিয়ে ফিরোজ শাহ ও রুকুনুদ্দিন কাউসের মধ্যে সংঘাত শুরু হয়, যা ধীরে ধীরে গৃহযুদ্ধের রূপ নেয়।
এই সংঘাতের সুযোগে রাজা দনুজ রায় সোনারগাঁওকে উদ্ধারের পরিকল্পনা করেন। দিল্লি সালতানাতের অধীনতা থেকে সুবর্ণগ্রামকে মুক্ত করার জন্য মহারাজ দনুজমাধব একটি শক্তিশালী সুলতানাত-বিরোধী রাজনৈতিক জোট গঠনের উদ্যোগ নেন। দিল্লির সাথে যুদ্ধের প্রস্তুতি হিসেবে তিনি প্রতিবেশী পূর্বে উল্লেখিত মিত্র রাজ্য আরাকানের সাহায্য চান।অবশেষে, বাংলার রাজা দনুজ রায় তৎকালীন আরাকানের শাসক মিং-হেত্তের (မင်းထက်) সাথে একটি মৈত্রী চুক্তিতে আবদ্ধ হন এবং দিল্লি সালতানাতের বিরুদ্ধে মরণপণ যুদ্ধ ঘোষণা করেন।
১২৯৪ খ্রিস্টাব্দে বাংলা ও আরাকানের সম্মিলিত শক্তিশালী নৌবাহিনী সোনারগাঁওয়ের সুলতানি শিবিরে আক্রমণ করে। গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্র ব-দ্বীপের দক্ষিণ সীমান্তে বাংলা সেনাবাহিনী সুবর্ণগ্রামের উভয় পাশে একটি করে প্রতিরক্ষা দুর্গ নির্মাণ করে। আরাকানের সেনাপতি রাজা-থিন-গ্যান সোনারগাঁওয়ের দিকে অগ্রসর হন। এই ভয়াবহ পরিস্থিতিতে সুলতানি সেনাবাহিনী পরাজয় স্বীকার করে এবং দিল্লি সালতানাতের সীমানা করতোয়া নদীর পশ্চিম তীরে সীমাবদ্ধ হয়ে পড়ে।
দনুজারি দশরথদেবের পরবর্তী সময়কাল
আরাকানের ইতিহাসে দনুজারিদেবকে আরাকানের অধীনস্থ স্থানীয় রাজা বলা হয়েছে। এবং পাকা মোড়া তাম্রলিপি অনুযায়ী দনুজারিদেব নতুন রাজধানী বিক্রমপুরেই স্থাপন করেন। এমনকি নগেন্দ্রনাথ বসু দাবি করেন সমস্ত পূর্ব ও মধ্যবঙ্গ জয় করেন এমন বলা হয়েছে। মধ্যবঙ্গ বলতে সম্ভবত ব্রহ্মপুত্র করতোয়া ও পদ্মার মধ্যবর্তী ভূভাগ বলা হয়েছে। পরবর্তীতে দশরথদেব বরিশাল অঞ্চলে চন্দ্রদ্বীপ নামে একটি সমৃদ্ধশালী নগর প্রতিষ্ঠা করেন, যা পূর্ববঙ্গে চিরকাল একটি স্বাধীন হিন্দু রাজ্য হিসেবে টিকে ছিল। কথিত আছে গুরু চন্দ্রমোহন ভট্টাচার্যের নির্দেশে তিনি সেখানে কর্দমাক্ত নদীর চরে মদনমোহন ও কাত্যায়নী মূর্তি উদ্ধার করেন এবং সেখানেই মেঘনা তীরে একটি নগরী স্থাপন করেন। পুরোনো কাত্যায়নী মন্দিরটি এখন যত্নের অভাবে ধ্বংস হয়ে গেছে। শামসুদ্দিন ফিরোজ শাহ এবং বাহাদুর শাহ তাদের সমস্ত শক্তি ব্যবহার করে ১৩১৭ সালে সোনারগাঁও পুনরুদ্ধার করতে সক্ষম হন বলে লেখেন রজনীকান্ত চক্রবর্তীর। ১৩১৮ খ্রিস্টাব্দে দশরথদেবের ভাই রাজা বিক্রমাদিত্য দেব রাজ্যের রাজধানী দক্ষিণাংশে (কচুয়া-বরিশাল) স্থানান্তর করেন।
৩ য় দেব বংশের ইতিহাস আমরা মহেন্দ্রদেবের সময়কাল থেকে পেলেও আমরা প্রথম পুরুষ হিসেবে দনুজারি দেব থেকে পাই চন্দ্রদ্বীপ রাজবংশের পূর্বসূরি হিসেবে ( সতীশচন্দ্র মিত্রের যশোর খুলনার ইতিহাস দ্রষ্টব্য) যদিও তাঁর বাসস্থান পশ্চিমবঙ্গের কাটোয়া লেখা । একথা সহজেই অনুমেয় দনুজমর্দনদেব ( দনুজারিদেব দনুজমর্দনদেব আলাদা ব্যক্তি) কায়স্থ সমাজে অন্তর্ভুক্তির পরেই কুলজীকাররা এই সংযোজন করেন এবং কল্পিত আদিসূরের সাথে সাথে যোগসূত্র দেখাতেই সুর দেব নামটি নতুন করে সংযোজন করেন কৌলিন্যের প্রমাণ দেখাতে। এ বিষয়ে কোনো সন্দেহই নেই যে দনুজারিদেবের পুত্র হরিদেব ২য় দেব বংশের উত্তরসূরি।
১৩১৭-১৩৭১ র মধ্যবর্তী ইতিহাস সম্পূর্ণ কুয়াশায় ঢাকা যৎসামান্য কুলজী ছাড়া আর কোনো সোর্স নেই । তাই এই সময়ের ইতিহাস রিকনস্ট্রাক্টের চেষ্টা করি ।
দনুজারিদেবের পুত্র হরিদেব পান্ডুয়ায় সেনদের গভর্নর হিসেবে মধুসূদন সেনের সময়কালে শাসন করেন(১২৭৯/৮১ পর্যন্ত) ।গৌড় তুগ্রালের আক্রমণে মুসলিম অধিকারভুক্ত হলে হরিদেব আবার ফেরত আসেন পূর্ব বাঙলায়।
“গৌড়দেশং পরিত্যজ্য জগাম সমুদ্রকূলং
তস্থাপত্র নবোথিতং সমুদ্রকুলসঞ্জাত
স্বপমেকং সুবিস্ত, তং নানাবৃক্ষোপশোভিতম্।”
[বটুভট্টকৃত অপ্রকাশিত “দেব বংশ” পুঁথি ]
১৩২১র ভয়াবহ বন্যা ও সুবর্ণগ্রামের পতন
১৩৯৪ তে দনুজারিদেব ও মিন স মনের আরাকান নৌবহরের সোঁনারগাঁ দখলের ইতিহাস লিখেছি আলাদা করে বলতে হবে না।অনেকে এটিকেই দিয়াঢ়-ই-বাঙলার যুদ্ধ মনে করেন যদিও তার সঠিক প্রমাণ নেই। ১৯৬৪ সালে অধ্যাপক আরু তালিব দরগাপাড়া আবাসিক ফায়ার ব্রিগেডের কর্মচারী খন্দকার আখতার আলীর কাছ থেকে লেখকের নামবিহীন ‘শাহ্ মখদুম জীবনী তোয়ারিখ’ শীর্ষক একটি হাতে লেখা পাণ্ডুলিপি আবিষ্কার করেন। পাণ্ডুলিপিতে উল্লিখিত রচনার তারিখ হলো ১২৪৫ বঙ্গাব্দ/১৮৩৮ খ্রিস্টাব্দ। ১৯৯৫ সালের ১২ রবিউল আউয়াল ১৪১৬/২৫ শ্রাবণ ১৪০২/৯ বঙ্গাব্দ, আগস্ট মাসে হযরত শাহ মখদুম রূপোশ দরগাহ পাবলিক ওয়াকফ এস্টেট কর্তৃক প্রকাশিত ‘ইতিহাস ও ঐতিহ্য’ নামক একটি বইয়ে পাণ্ডুলিপিটি পাঠকদের সামনে উন্মোচন করা হয়।
এই গড়ের অধিপতি ছিলেন অংসুদেও চন্দভাণ্ডী বর্মভোজ এবং অংসুদেও খেজ্জুর চন্দ্রখড়্গ গুজ্জভোজ নামে দুই গুজ্জর সর্দার । দেওয়ের নামানুসারে অঞ্চলটির নাম ছিল মহাকালগড়। উপরোক্ত দুই ভাই মূলত মহাকালগড়ের শাসক ছিলেন।
১২৯৪ র যুদ্ধে শাহ মখদুম রুপোশের বিরুদ্ধে দেব সৈন্যবাহিনীর পক্ষ নেন এই দুই গুজ্জর ভাই ।এরা সুলতানের বাহিনীতে মার্সিনারি হিসেবে এসেছিলেন।দনুজারিদেব এই অঞ্চল অধিকার করলে তাঁরা এখানে তালুকপতি হন। কিন্তু রজনীকান্ত চক্রবর্তীর গৌড়ের ইতিহাস অনুযায়ী ১৩১৮ নাগাদ শ্যামশুদ্দীন ফিরোজ শাহ সর্বশক্তি প্রয়োগ করে ঝাঁপান। এবং ভূতাত্ত্বিক গবেষণা অনুসারে, ১৩২০-১৩২৩ খ্রিস্টাব্দের দিকে (গবেষণায় প্রায়শই আনুমানিক ১৩২০ খ্রিস্টাব্দ হিসেবে উল্লেখ করা হয়) বাংলা অঞ্চলে একটি বড় ধরনের বিধ্বংসী বন্যা হয়েছিল, যা ক্ষুদ্র বরফ যুগের ধারাবাহিক গুরুতর জলবায়ুগত ঘটনাগুলোর একটি অংশ ছিল। পূর্ববঙ্গের নৌ বন্দরগুলো ভয়াবহ ক্ষতিগ্রস্ত হয় সমস্ত দূর্গের দেওয়াল ধসে পড়ে। শক্তিশালী দেব নৌশক্তি ধ্বংস হয়ে যায় এবং শাহ মখদুম দরগা ওয়াকফ এস্টেটের ইতিহাস অনুযায়ীও ১৩২৩ তে দুই গুজ্জর ভাই পরাজিত হন। সময়কালো ও ঘটনাক্রম পুরো মিলে যায়। শ্যামশুদ্দীনের সেনাপতি গাজি মখদুম শাহ তাদের মৃত্যুর পর ৬ রাজপুত্রকে ধর্মান্তরিত করেন।
দনুজারিদেবের নাতি হরি দেবের পুত্র নারায়ণ দেব ১৩২৩ তে সোনারগাঁর পতনের পর চন্দ্রদ্বীপ ও ভুলুয়া অঞ্চলের শাসক হন।
নারায়ণদেবের মৃত্যুর পর তাঁর ২ পুত্র পুরন্দর ও পুরুজিতের মধ্যে সিংহাসন বিবাদে পুরন্দর শাসক হন। পুরুজিতের পুত্র আদিত্য দেব কাকাকে হত্যা করে শাসক হন। আদিত্য দেবের ২ পুত্র ক্ষীতিন্দ্র ও দেবেন্দ্রর মধ্যেও বিবাদ হয় ক্ষীতিন্দ্র বড়ো ভাইকে হত্যা করে সিংহাসন নেন । পরে তাঁকে সিংহাসন থেকে হটিয়ে দেবেন্দ্রর পুত্র মহেন্দ্র দেব সিংহাসন নেন। এই সময়কালে দেব রাজ্যের সীমানা ছোট হয়ে চন্দ্রদ্বীপ পর্যন্ত সীমিত হয়ে গেছিল। এই সমস্ত বিবাদ চলাকালে দিল্লি সুলতানাতের সীমান্ত বিস্তৃত হতে হতে চন্দ্রদ্বীপকে ঘিরে ফেলে। ১৩৪৬ তে গাজি বালখি মাহিশোয়ার সন্দ্বীপের তালুকপতি ( দেব শাসনে সামন্তকে তালুকপতি বলা হত যা তুর্কি আফগান মুঘল শাসনে তালুকদার হয়) বলরামদেবকে হত্যা করে নোয়াখালী সন্দীপ পর্যন্ত সীমান্ত বিস্তার করে।
এসময়ে প্রবল প্রতাপশালী দেব রাজ্য কমতে কমতে চন্দ্রদ্বীপের মত একটি ছোট্ট দ্বীপে সীমাবদ্ধ হয়ে পড়ে । কিন্তু ভাগ্য আবার সদয় হয় ১৩৫৫ তে কদর্যভাবে পরাজিত হন। ২ পক্ষের শিরগাড়ির যুদ্ধে ১ লক্ষ সৈন্য ধ্বংস হয় ইলিয়াস শাহ ৩ বছর পরপর নজরানা দেন। ১৩৫৮ তে সিকন্দর শাহ ভাই মৈজুদ্দীনকে হত্যা করে সুলতান হন। ছোট বড় বিদ্রোহে দুর্বল হতে থাকেন। জামতাড়া, হিজলী ও হাতিয়া গড়ের যুদ্ধে তিনি পরাজিত হলে সিংহাসন দুর্বল হয়ে পড়ে।
১৩৫৫ তে সোনারগাঁর যুদ্ধে সাভার সেন বংশের রাজা মহেন্দ্র বল্লাল সেন (২য় ) ৫০০০সৈন্যের সৈয়দ বায়াদুম্নকে পরাজিত করার পর দক্ষিণ পূর্ব বাংলার রাজনীতির পট দ্রুত পরিবর্তিত হতে থাকে। মহেন্দ্র দেব রাজা হয়ে সমগ্র দক্ষিণ পূর্ব বাংলাকে একত্রিত করেন । অন্যদিকে দক্ষিণ রাঢ়ে হরিদাস ভুঁইয়া ১৩৬৯ তে সিকন্দর শাহের ৪০,০০০ বাহিনীকে পরাজিত করেন, ১৩৬৫তে জামতাড়ার যুদ্ধে মহেন্দ্র সিংহের জামাতা প্রতাপাদিত্য সৈয়দ বর্মনকে, অন্যদিকে বকানন্দ রায় ১৩৭১ তে হাতিয়াগড়ের যুদ্ধে আব্বাস আলী রাজীর ২১০০০ বাহিনীকে পরাজিত করে। এর ফলশ্রুতিতে সপ্তগ্রামের যুদ্ধ হয় শিখরভূম ও দেবরাজ্যের জোটের। এই যুদ্ধের শিখরভুমের সামন্তভূমের যুবরাজ উত্তর হামীর রায় নেতৃত্ব দেন। বাসলী মাহাত্ম্যে এই যুদ্ধের উল্লেখ রয়েছে কিন্তু সাল লেখা নেই অনেকে অনুমান ১৩৭১-৭৩ বা ১৩৯১-১৩৯৯ র মাঝামাঝি কোন সময়ে হতে পারে।
বাকি ইতিহাস Historia-degauda চ্যানেলে রয়েছে ১৪১৪/১৫ তে দনুজমর্দনদেবের পান্ডুয়া বিজয় ।
References:
1.History of Bikrampur , Jogendranath Gupta Volume I – Second Edition pp-321/322
2.শিলালিপি তাম্রশানাদি প্রসঙ্গ – দীনেশচন্দ্র সরকার
3.A CONSTITUTIONALE HISTORY OF TRIPURA by Dr. Jagadis Gan-Chaudhuri 64
4.Tripura-R Sharma 61,64,65
5.REZA, Mohammad Habib & BANDYOPADHYAY, Soumyen &
MOWLA, Azizul
Traces of Buddhist architecture in Gupta and post-Gupta
Bengal: evidence from inscriptions and literature pp-8
- চট্টগ্রামের ইতিহাস-1st part- পূর্ণচন্দ্র দেব বর্মন তত্ত্বনিধি 30-37
- পালসেন যুগের বংশানুচরিত – দীনেশচন্দ্র সরকার 23,24,187
8.Pravasi (Thirty-Seventh Part, Volume II). pp 655
9.বঙ্গের জাতীয় ইতিহাস, রাজন্য কান্ড- নগেন্দ্রনাথ বসু
10.ঢাকার ইতিহাস-যতীন্দ্রমোহন রায় দ্বিতীয় খন্ড 377
- Travels of Marco Polo Henry Yule, Henri Cordier pp 174
- Taokat e Nasiri Minhaj us Siraj 677
- The Delhi Sultanate, History & Culture of the Indian People- RC Majumdar, Volume- 6
14.বাংলায় মুসলিম অধিকারের আদি পর্ব, সুখময় মুখোপাধ্যায় 136,137,138
15.গৌড়ের ইতিহাস- রজনীকান্ত চক্রবর্তী
- পৃথিবীর ইতিহাস – চতুর্থ খণ্ড (দুর্গাদাস লাহিড়ী)- প্রাচীন বঙ্গের গৌরব বৈভব 239
17.History of Bengal বাঙলার ইতিহাস Prabhas Charan Sen.( প্রভাষ চন্দ্র সেন) pp 253-54
18.History of Vikrampur – Volume I – Jogindra nath Gupta pp 323,324,326,329
- Burma Gazetteer: Akyab District Vol A”. p. 23.
20.History and Culture of the Indian People (11 vols).
