নয়াদিল্লি: জাতীয় শোকের আবহে আত্মবিশ্বাস ও ভবিষ্যতের প্রত্যয়ে ভর করে বার্তা দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। বুধবার দিল্লির কারিয়াপ্পা প্যারেড গ্রাউন্ডে বার্ষিক এনসিসি প্রধানমন্ত্রীর র্যালিতে ভাষণ দিতে গিয়ে তিনি মহারাষ্ট্রে ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনায় নিহত উপ-মুখ্যমন্ত্রী অজিত পাওয়ার ও অন্যান্যদের প্রতি গভীর শোক প্রকাশ করেন এবং একই সঙ্গে ‘বিকশিত ভারত’-এর স্বপ্ন বাস্তবায়নে যুবসমাজের ভূমিকাকে সামনে তুলে ধরেন।ভাষণের শুরুতেই প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় গোটা দেশ স্তব্ধ। “অজিত দাদা মহারাষ্ট্র ও দেশের উন্নয়নে, বিশেষ করে গ্রামীণ মানুষের জীবনমান উন্নত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন।
এই শোকের মুহূর্তে আমরা সবাই নিহতদের পরিবারের পাশে রয়েছি,” বলেন তিনি।শোকের পরিবেশের মধ্যেও প্রধানমন্ত্রী দেশ-বিদেশের এনসিসি ক্যাডেটদের এনসিসি দিবসের শুভেচ্ছা জানান। তিনি গার্ল ক্যাডেটদের ক্রমবর্ধমান অংশগ্রহণের প্রশংসা করে বলেন, এটি আত্মবিশ্বাসী ও বদলে যাওয়া ভারতের যুবচিত্রের প্রতিফলন।এনসিসিকে শুধুমাত্র একটি সংগঠন নয়, বরং জাতি গঠনের এক শক্তিশালী আন্দোলন বলে উল্লেখ করে মোদি বলেন, “এনসিসি ভারতের যুবশক্তিকে শৃঙ্খলাবদ্ধ, সংবেদনশীল ও দায়িত্ববান নাগরিকে পরিণত করে।” তিনি জানান, সাম্প্রতিক বছরগুলিতে এনসিসি ক্যাডেটের সংখ্যা বেড়ে প্রায় ২০ লক্ষে পৌঁছেছে এবং সীমান্ত ও উপকূলবর্তী এলাকায় এর বিস্তার ঘটেছে।প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, সাইকেল র্যালি ও জনসংযোগ কর্মসূচির মাধ্যমে এনসিসি ক্যাডেটরা বাজিরাও পেশোয়া, লাচিত বরফুকন ও ভগবান বিরসা মুন্ডার মতো জাতীয় বীরদের ইতিহাস নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিচ্ছে।
ভারতের যুবসমাজের প্রতি বিশ্ববাসীর আস্থা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ভারতীয় তরুণরা গণতন্ত্র, বৈচিত্র্যের প্রতি সম্মান এবং ‘বসুধৈব কুটুম্বকম’-এর মূল্যবোধ বহন করে চলেছে। অর্থনৈতিক সম্ভাবনার প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী ভারত-ইইউ মুক্ত বাণিজ্য চুক্তিকে ‘মাদার অফ অল ডিলস’ আখ্যা দিয়ে বলেন, এটি স্টার্টআপ, এমএসএমই, কৃষক ও সৃজনশীল শিল্পের জন্য নতুন সুযোগ এনে দেবে এবং আত্মনির্ভর ভারত অভিযানে গতি দেবে।জাতীয় নিরাপত্তা প্রসঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেন, আধুনিক যুদ্ধ শুধু সীমান্তে নয়, কোড ও ক্লাউডেও লড়া হচ্ছে। প্রযুক্তিতে পিছিয়ে পড়লে অর্থনীতি ও নিরাপত্তা—দুই ক্ষেত্রেই দুর্বলতা তৈরি হয়।তিনি অপারেশন ‘সিন্দুর’-এ এনসিসি ক্যাডেটদের রক্তদান, প্রাথমিক চিকিৎসা ও লজিস্টিক সহায়তার ভূমিকাও স্মরণ করেন।
নাগরিক দায়িত্বের উপর জোর দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিকশিত ভারতের জন্য আচরণ ও কর্তব্যবোধও সমান গুরুত্বপূর্ণ।পরিবেশ রক্ষার প্রসঙ্গে তিনি জানান, ‘এক পেড মা কে নাম’ অভিযানে এনসিসি ক্যাডেটরা প্রায় আট লক্ষ গাছ লাগিয়েছে। পাশাপাশি “যুবা ফিট তো দেশ হিট” স্লোগান তুলে ধরে তরুণদের সুস্থ জীবনযাপনের আহ্বান জানান এবং খাদ্যে তেলের ব্যবহার ১০ শতাংশ কমানোর অনুরোধ পুনর্ব্যক্ত করেন।মাসব্যাপী এনসিসি প্রজাতন্ত্র দিবস শিবির ২০২৬-এর সমাপ্তি উপলক্ষে এই র্যালিতে ২১টি দেশের ২০৭ জন বিদেশি প্রতিনিধি-সহ মোট ২,৪০৬ জন ক্যাডেট অংশ নেয়, যার মধ্যে ৮৯৮ জন ছিলেন গার্ল ক্যাডেট। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং, স্বাস্থ্যমন্ত্রী মনসুখ মান্ডব্য ও প্রতিমন্ত্রী সঞ্জয় শেঠ।
