প্যারিস: শিশু ও কিশোরদের মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষায় বড় সিদ্ধান্ত নিল ফ্রান্স। দেশটির ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলি ১৫ বছরের কম বয়সিদের জন্য সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা আরোপের আইন অনুমোদন করেছে। প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ এই আইনকে তরুণ প্রজন্মকে ক্ষতিকর ও আসক্তিকর অনলাইন প্রভাব থেকে রক্ষা করার গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বলে উল্লেখ করেছেন।
আইনের মূল উদ্দেশ্য কী
নতুন এই আইনের লক্ষ্য হলো শিশুদের ওপর সোশ্যাল মিডিয়ার নেতিবাচক প্রভাব—বিশেষ করে আসক্তি, মানসিক চাপ, আত্মসম্মানবোধের অবনতি এবং ঘুমের সমস্যার মতো বিষয়গুলো নিয়ন্ত্রণ করা। সরকারের মতে, অল্প বয়সে সোশ্যাল মিডিয়ার অতিরিক্ত ব্যবহার শিশুদের মানসিক বিকাশে গুরুতর প্রভাব ফেলছে।
‘আমাদের শিশুদের মস্তিষ্ক বিক্রির জন্য নয়’: ম্যাক্রোঁ
আইন পাশ হওয়ার পর প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ কড়া ভাষায় বলেন, “আমাদের শিশু ও কিশোরদের মস্তিষ্ক বিক্রির জন্য নয়। তাদের আবেগ বিক্রির জন্য নয় বা কারও দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হওয়ার জন্য নয়।”
তিনি আরও জোর দিয়ে বলেন, সোশ্যাল মিডিয়ার কারণে শিশুদের ঘুম, মনোযোগ ও আত্মসম্মান মারাত্মকভাবে প্রভাবিত হচ্ছে, যা ভবিষ্যতের জন্য গভীর উদ্বেগের বিষয়।
সোশ্যাল মিডিয়ার ক্ষতিকর প্রভাব নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ
বিশেষজ্ঞদের মতে, অ্যালগরিদম-নির্ভর কনটেন্ট, অতিরিক্ত স্ক্রিন টাইম এবং অনলাইন তুলনার প্রবণতা শিশুদের মধ্যে উদ্বেগ, হতাশা ও আত্মবিশ্বাসের অভাব তৈরি করছে। ফ্রান্স সরকারের এই পদক্ষেপ ইউরোপজুড়ে ডিজিটাল সুরক্ষা নিয়ে নতুন আলোচনার সূচনা করতে পারে।
ইউরোপে ডিজিটাল নীতিতে নতুন দৃষ্টান্ত
এই আইন কার্যকর হলে ফ্রান্স হবে ইউরোপের অন্যতম প্রথম দেশ, যারা কড়াভাবে বয়সভিত্তিক সোশ্যাল মিডিয়া নিয়ন্ত্রণ চালু করল। পর্যবেক্ষকদের মতে, এই সিদ্ধান্ত ভবিষ্যতে অন্যান্য ইউরোপীয় দেশকেও অনুরূপ আইন প্রণয়নে উৎসাহিত করতে পারে।
পরবর্তী ধাপ
আইন বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে কীভাবে বয়স যাচাই করা হবে এবং সোশ্যাল মিডিয়া সংস্থাগুলোর দায়িত্ব কী হবে—তা নিয়ে আগামী দিনে বিস্তারিত নির্দেশিকা প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছে ফরাসি সরকার।
previous post
