প্রমিতি রায়, খড়দহ, ১৭ জানুয়ারি: আধুনিক ও আধ্যাত্মিক রহড়ার রূপকার কর্মযোগী সন্ন্যাসী স্বামী পুণ্যানন্দজী মহারাজের ১২৩তম জন্মদিন উপলক্ষে গত ১৫ জানুয়ারি এক বিশেষ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। পুণ্যানন্দ বিষয়ক গীতি-আলেখ্য ও পটচিত্র প্রদর্শনের মধ্য দিয়ে এই অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হয়। আয়োজনের দায়িত্বে ছিল ‘খড়দহ সংস্কৃতি অঙ্গন’, যারা বিগত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে নিয়মিতভাবে পুণ্যানন্দ জয়ন্তী ও পিঠেপুলির উৎসব পালন করে আসছে। এদিনও সকলের জন্য ছিল পিঠেপুলির আয়োজন।
অনুষ্ঠানে স্বামী পুণ্যানন্দজীর স্মৃতিচারণ করেন বারাকপুর রামকৃষ্ণ বিবেকানন্দ মিশনের সহ-সম্পাদক শ্যামল দাস এবং বালকাশ্রম উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষক অমিত কুমার রায়। তাঁরা মহারাজের মানবিকতা, শিক্ষা ও সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ডের কথা তুলে ধরেন।
এদিন সন্ধ্যায় ‘দেশের মাটি কল্যাণ মন্দির’-এর সদস্যরা ভাবগম্ভীর পরিবেশে পরিবেশন করেন গীতি-আলেখ্য ‘পুণ্যশ্লোক পুণ্যানন্দ’। আলেখ্যটি সংকলন ও সম্পাদনা করেছেন খড়দহের ভূমিপুত্র তথা স্বামী পুণ্যানন্দজীর জীবনীকার অধ্যাপক ড. কল্যাণ চক্রবর্তী। সঙ্গীত পরিবেশনায় ছিলেন দেবকুমার কর্মকার, প্রমিতি রায়, রূপালী বর্মন ও সৌগত অধিকারী। বাচিক শিল্পীর ভূমিকায় ছিলেন ড. রুবেল পাল, ড. উৎপল কুমার উত্থাসনী, সুমনা মুখোপাধ্যায় ও ছন্দা হালদার।
সংস্কৃত ভাষায় আলেখ্যের পরিচিতি দিয়ে অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ড. রুবেল পাল। তাঁর শুদ্ধ ও উদাত্ত সংস্কৃত উচ্চারণ দর্শক-শ্রোতাদের গভীরভাবে আকৃষ্ট করে। ‘দেশের মাটি কল্যাণ মন্দির’-এর সম্পাদক মিলন খামারিয়া জানান, স্বামী পুণ্যানন্দজীর সংস্কৃত ভাষার প্রতি বিশেষ অনুরাগের কারণেই আলেখ্যের একটি অংশ সংস্কৃতে পরিবেশিত হয়েছে।
এছাড়া স্বামী পুণ্যানন্দজীর জীবনকথা অবলম্বনে পটচিত্র প্রদর্শিত হয়, যা অনুষ্ঠানে এক ভিন্ন মাত্রা যোগ করে। ‘শ্রুতিজাতক’ সংগঠনের পিউ বিশ্বাস দাস পটচিত্রের গান পরিবেশন করেন।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে মহারাজের পছন্দের গান ও নৃত্য পরিবেশন করা হয়। সঙ্গীত পরিবেশন করেন অরুণ কুমার মিত্র, দেবশী ভদ্র ও তিতিক্ষা দাস এবং নৃত্যে অংশ নেন বিশাল রাজবংশী। সব মিলিয়ে ‘পূর্ণপুণ্য: পূর্ণানন্দে পুণ্যানন্দ’ শীর্ষক এই অনুষ্ঠান দর্শক-শ্রোতাদের কাছে এক গভীর স্মরণীয় অভিজ্ঞতা হয়ে উঠেছে বলে উপস্থিত সকলে মত প্রকাশ করেন।
