ফিরোজাবাদ—যুক্তি নয়, বিশ্বাসই এখানে পথ দেখায়। শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে লখনউ, দিল্লি, আগ্রা-সহ বিভিন্ন এলাকা থেকে ভক্তদের টেনে এনেছে এমন এক মন্দির, যেখানে বিস্ময়ের শুরু হয় প্রথম দর্শনেই। ফিরোজাবাদের প্রসিদ্ধ ‘পসিনা ওয়ালে হনুমান’ মন্দিরকে কেন্দ্র করে এবার পরিকল্পিত পর্যটন উন্নয়নের পথে হাঁটছে উত্তরপ্রদেশ সরকার।
সারা বছর জুড়েই হনুমানের বিগ্রহ থেকে ঘাম ঝরে—এই অলৌকিক বিশ্বাসকে ঘিরে গড়ে ওঠা মন্দিরটিকে রাজ্যের ধর্মীয় পর্যটন মানচিত্রে আরও দৃঢ়ভাবে তুলে ধরতে ১ কোটি টাকার প্রকল্প অনুমোদন করেছে উত্তরপ্রদেশ পর্যটন দফতর।
যমুনার তীরে ঐতিহাসিক চান্দওয়ার এলাকার কাছে অবস্থিত এই মন্দিরের বয়স প্রায় দুই হাজার বছর বলে বিশ্বাস। ভক্তদের মতে, এখানে হনুমান জীবন্ত রূপে বিরাজমান। প্রচণ্ড গ্রীষ্ম হোক বা কনকনে শীত—সব ঋতুতেই বিগ্রহে ঘামের ফোঁটা দেখা যায় বলে বিশ্বাস, যা প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে তীর্থযাত্রীদের আকর্ষণ করে চলেছে।
পর্যটন ও সংস্কৃতি মন্ত্রী জয়বীর সিং জানান, বিপুল ভক্তসমাগম থাকা সত্ত্বেও এতদিন এই তীর্থস্থানের কাঠামোগত উন্নয়ন হয়নি। নতুন প্রকল্পের মাধ্যমে ফিরোজাবাদকে একটি গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলাই সরকারের লক্ষ্য। তাঁর কথায়, কম পরিচিত হলেও গভীর বিশ্বাসে গাঁথা এমন স্থানগুলিকে মূল পর্যটন প্রবাহে আনার দিকেই এই উদ্যোগ।
প্রকল্পের আওতায় মন্দির চত্বরের সৌন্দর্যায়ন, আধুনিক আলোকসজ্জা, দর্শনার্থীদের জন্য তথ্যকেন্দ্র, পরিচ্ছন্ন শৌচালয়, পানীয় জল ও বিশ্রামস্থল তৈরি করা হবে। আধিকারিকদের মতে, মন্দিরের আধ্যাত্মিক চরিত্র অক্ষুণ্ণ রেখেই ভক্তদের সুবিধা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই মূল উদ্দেশ্য।
ইতিমধ্যেই ফিরোজাবাদে ধর্মীয় পর্যটনের গ্রাফ ঊর্ধ্বমুখী। লখনউ–আগরা রুটে অবস্থানের ফলে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি হয়েছে। ২০২৩ সালে যেখানে পর্যটকের সংখ্যা ছিল ৪ লক্ষ ৪৪ হাজার ৮৫০, ২০২৪ সালে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৬ লক্ষ ৪৮ হাজার ৫০৮-এ। ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে জুনের মধ্যেই জেলায় এসেছেন ৪ লক্ষের বেশি পর্যটক। এর ফলে স্থানীয় অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানের সুযোগও বাড়ছে।
কাচশিল্পের জন্য পরিচিত ফিরোজাবাদ ধীরে ধীরে পর্যটন মানচিত্রে নতুন পরিচয় পাচ্ছে। জৈন মন্দির, বৈষ্ণোদেবী মন্দির, মাতা টিলা, চান্দওয়ার গেট, কোটলা দুর্গ ও ফিরোজ শাহের সমাধির পাশাপাশি রাপদি ও রুরিয়া স্বরূপপুরের মতো প্রাকৃতিক স্থানও পর্যটকদের আকর্ষণ করছে।
‘পসিনা ওয়ালে হনুমান’ মন্দিরের উন্নয়নের মাধ্যমে লখনউ, আগরা ও জাতীয় রাজধানী অঞ্চলকে যুক্ত করা ধর্মীয় পর্যটন সার্কিটে ফিরোজাবাদের গুরুত্ব আরও বাড়বে বলে মনে করছেন আধিকারিকরা। বিশ্বাস, ঐতিহ্য ও আধুনিক পরিকাঠামোর মেলবন্ধনে শতাব্দীপ্রাচীন এই মন্দির নতুন করে প্রাণ পাবে বলেই আশা।
