বাঁকুড়ার খাতড়া থেকে প্রায় ৪ হাজার ফর্ম ৭ উদ্ধার হওয়ায় রাজ্যের রাজনৈতিক পরিবেশে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে ভোটারদের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার চক্রান্তের অভিযোগ তুলছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মঙ্গলবার এই অভিযোগ নতুন মাত্রা পেল, যখন বাঁকুড়ার সিনেমা মোড় থেকে সন্দেহজনক একটি গাড়ি থামিয়ে তৃণমূল নেতারা দেখা পান, গাড়িতে রাখা রয়েছে প্রচুর ফর্ম ৭—যা ভোটারদের নাম বাদ দেওয়ার আবেদনপত্র হিসেবে ব্যবহার করা হয়।
স্থানীয় পুলিশ খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। গাড়িতে থাকা তিনজনের মধ্যে দুইজনকে আটক করা হয়েছে। ধৃতদের মধ্যে একজন হলেন তালডাংরা বিধানসভার বিবরদা গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রাক্তন মণ্ডল সভানেত্রী ঝুমা ঘোষের স্বামী প্রবীর ঘোষ।
নবান্ন থেকে সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় উদ্ধার হওয়া ফর্মগুলোর ছবি দেখান এবং বলেন, “দেখুন, এটি আমার কাছে এসেছে। এভাবেই ভোটারদের নাম বাদ দেওয়ার চক্রান্ত করা হচ্ছে।” তিনি আরও জানান, এই চক্রান্ত সাধারণ ভোট প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করার পাশাপাশি প্রান্তিক ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের ভোটাধিকারও ক্ষুণ্ণ করার উদ্দেশ্যে করা হচ্ছে।
বাঁকুড়ার তৃণমূলের সাংগঠনিক জেলা সভাপতি তারাশঙ্কর রায় বলেন, “ভোটের আগে পরিকল্পিতভাবে ভোটারদের নাম বাদ দেওয়ার চেষ্টা চলছে। হাজার হাজার ফর্ম ৭ আগে থেকেই পূরণ করে গাড়িতে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। এটি কোনও সাধারণ ঘটনা নয়। নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসনের উচিত অবিলম্বে তদন্ত করা।” রানিবাঁধের তৃণমূল বিধায়ক জোৎস্না মাণ্ডি বলেন, “গণতন্ত্রকে দুর্বল করার এই চক্রান্ত স্পষ্ট। দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া উচিত।”
ফর্ম ৭ সাধারণত ভোটার তালিকায় কোনও নাম অন্তর্ভুক্তি বা বাদ দেওয়ার জন্য ব্যবহার করা হয়। মৃত বা স্থানান্তরিত ব্যক্তির নাম তালিকা থেকে মুছে ফেলার জন্য এই ফর্ম পূরণ করা হয়। তৃণমূলের পক্ষ দাবি করছে, এই ফর্মগুলোর মাধ্যমে বিজেপি একটি সুপরিকল্পিত ভোটার নাম বাদ দেওয়ার কৌশল বাস্তবায়ন করছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভোটের আগে এই ধরনের চক্রান্ত শুধু নির্বাচনের পরিবেশকেই প্রভাবিত করবে না, সাধারণ ভোটারদের মধ্যে আতঙ্ক এবং রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বাড়াবে।
