24 C
Kolkata
March 22, 2026
দেশ

জঙ্গি যোগের অভিযোগে জম্মু–কাশ্মীরে ৫ সরকারি কর্মী বরখাস্ত

জম্মু ও কাশ্মীর প্রশাসনের অন্দরে সক্রিয় জঙ্গি নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ হিসেবে মঙ্গলবার উপ-রাজ্যপাল মনোজ সিনহা পাঁচজন সরকারি কর্মচারীর চাকরি বাতিলের নির্দেশ দিয়েছেন। তাঁদের বিরুদ্ধে নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে সক্রিয় যোগাযোগ থাকার অভিযোগ উঠেছে।

সরকারি সূত্রের খবর, যাঁদের চাকরি বাতিল করা হয়েছে, তাঁদের মধ্যে রয়েছেন— সরকারি স্কুল শিক্ষক মহম্মদ ইশফাক, ল্যাবরেটরি টেকনিশিয়ান তারিক আহমদ রাহ, সহকারী লাইনম্যান বশির আহমদ মীর, বন দপ্তরের গ্রুপ-ডি কর্মী ফারুক আহমদ ভাট এবং স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা শিক্ষা দপ্তরের চালক মহম্মদ ইউসুফ। বর্তমানে শ্রীনগরের কেন্দ্রীয় জেলে বন্দি মহম্মদ ইউসুফকে হিজব-উল-মুজাহিদিনের তালিকাভুক্ত ওভার গ্রাউন্ড ওয়ার্কার হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। পাকিস্তান-ভিত্তিক হ্যান্ডলার বশির আহমদ ভাটের সঙ্গে তাঁর নিয়মিত যোগাযোগ ছিল বলেও তদন্তে উঠে এসেছে।

কর্তৃপক্ষের দাবি, সীমান্তপারের নির্দেশে ইউসুফ হিজব-উল-মুজাহিদিনের জন্য অস্ত্র, গোলাবারুদ ও অর্থ সংগ্রহ করতেন। ২০২৪ সালের ২০ জুলাই গান্ডারবাল পুলিশ তাঁকে আটক করে। ওই অভিযানে একটি পিস্তল, গোলাবারুদ, একটি গ্রেনেড এবং নগদ পাঁচ লক্ষ টাকা উদ্ধার হয়। এই ঘটনায় অস্ত্র আইন, বিস্ফোরক আইন এবং ইউএপিএ-র ধারায় এফআইআর নম্বর ১৮৩/২০২৪ দায়ের করা হয়। তদন্তে আরও জানা গিয়েছে, এসকিমস সৌরা এলাকায় তিন লক্ষ টাকার অস্ত্র সংগ্রহের সঙ্গে তাঁর যোগ ছিল এবং অ্যাম্বুল্যান্স চালকের পদকে তিনি জঙ্গি কার্যকলাপের আড়াল হিসেবে ব্যবহার করতেন।

বন দপ্তরের কর্মী ফারুক আহমদ ভাটের বিরুদ্ধেও দীর্ঘদিন ধরে হিজব-উল-মুজাহিদিনের সঙ্গে যোগাযোগ রাখার অভিযোগ রয়েছে। আধিকারিকদের দাবি, ২০০৫ সালে হিজব কমান্ডার মহম্মদ আমিন বাবার পালানোর ঘটনায় তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিলেন। বিজবেহারা থেকে আটারি পর্যন্ত বেআইনি সীমান্ত পারাপারের জন্য সরকারি গাড়ির ব্যবস্থা করা এবং ব্যক্তিগতভাবে ওই জঙ্গি নেতাকে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। গোয়েন্দা সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, পরবর্তী সময়েও তিনি জঙ্গিদের আশ্রয়, যাতায়াত ও নানাভাবে সাহায্য করে গিয়েছেন, যা প্রশাসনের অন্দরে গুরুতর নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করেছে।

বিজবেহারা সাব-ডিভিশনাল হাসপাতালের ল্যাব টেকনিশিয়ান তারিক আহমদ রাহের বিরুদ্ধেও অভিযোগ, তিনি নিজের সরকারি পদকে কাজে লাগিয়ে হিজব-উল-মুজাহিদিনের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতেন। তাঁর কাকা, হিজব কমান্ডার মহম্মদ আমিন বাবার মাধ্যমে এই যোগাযোগ গড়ে ওঠে বলে তদন্তে জানা গিয়েছে। ২০০৫ সালে ওই জঙ্গি নেতার পালাতে সাহায্য করার জন্য আশ্রয় ও লজিস্টিক সহায়তা দেওয়ার পাশাপাশি পরবর্তী সময়ে উগ্রবাদী প্রচার ও সরকারি সুযোগ-সুবিধার অপব্যবহারের অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।

ভাদেরওয়াহ এলাকার সরকারি শিক্ষক মহম্মদ ইশফাকের বিরুদ্ধে লস্কর-ই-তইবা কমান্ডার মহম্মদ আমিন ওরফে খুবাইবের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখার অভিযোগ উঠেছে। আধিকারিকদের দাবি, দোদা জেলায় এক পুলিশ আধিকারিককে হত্যার ষড়যন্ত্রে তিনি যুক্ত ছিলেন এবং অস্ত্র পাচার ও জঙ্গি সমন্বয়ের কাজেও ভূমিকা নিয়েছিলেন। ২০২২ সালের এপ্রিল মাসে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং ইউএপিএ-র ধারায় চার্জশিট দাখিল করা হয়। অভিযোগ, শিক্ষকতার পদকে ব্যবহার করে তিনি যুব সমাজকে উগ্রবাদে প্রভাবিত করতেন এবং জেলে থেকেও আদর্শগত প্রভাব বিস্তার চালিয়ে যাচ্ছিলেন। বর্তমানে তিনি জম্মুর কোট ভলওয়াল জেলে বন্দি।

গুরেজ এলাকার সহকারী লাইনম্যান বশির আহমদ মীরকে লস্কর-ই-তইবার দীর্ঘদিনের ওভার গ্রাউন্ড ওয়ার্কার হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষের দাবি, তিনি সরকারি পদকে কাজে লাগিয়ে বান্দিপোরা–গুরেজ এলাকায় লস্কর জঙ্গিদের আশ্রয়, লজিস্টিক সহায়তা ও চলাচলের পথ দেখানোর কাজ করতেন। ২০২১ সালে তাঁর বাড়িতেই সংঘর্ষে দুই জঙ্গি নিহত হয়। পরবর্তী তদন্ত ও গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, জামিনে মুক্তি পাওয়ার পরও তিনি গোপনে ওই জঙ্গি সংগঠনের আদর্শগত সমর্থন ও সহায়তা দিয়ে যাচ্ছিলেন।

Related posts

Leave a Comment