সব্রীমালা সোনাচুরি মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে বিচার বিভাগীয় হেফাজতে পাঠানোর একদিনের মধ্যেই অসুস্থ হয়ে পড়ায় শনিবার রাজ্য পরিচালিত মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলো সব্রীমালা মন্দিরের তন্ত্রি কান্তারু রাজীবরকে। শুক্রবার গভীর রাতে কেরালা হাইকোর্ট নিযুক্ত বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT) তাঁকে গ্রেপ্তার করার পর কোল্লামের একটি আদালত বিচার বিভাগীয় হেফাজতের নির্দেশ দেয়।
শনিবার সকালে বিশেষ সাব-জেলে প্রাতরাশ গ্রহণের পর তন্ত্রি নিজেকে অসুস্থ অনুভব করছেন বলে জেল কর্তৃপক্ষকে জানান এবং চিকিৎসকের সঙ্গে দেখা করার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। জেল চিকিৎসক প্রাথমিক পরীক্ষা করার পর তাঁকে প্রথমে জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে বিস্তারিত পরীক্ষার পর চিকিৎসকদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাঁকে মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।এসআইটি সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদের পর প্রমাণ খতিয়ে দেখা এবং আইনি পরামর্শ নেওয়ার পরেই তন্ত্রি কান্তারু রাজীবরকে গ্রেপ্তারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
তদন্তকারী দল স্পষ্ট করেছে যে, গ্রেপ্তার কোনও তাড়াহুড়ো করে করা হয়নি এবং সমস্ত আইনি প্রক্রিয়া মেনেই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। আদালতে জমা দেওয়া রিমান্ড রিপোর্টে দেবস্বম ম্যানুয়াল অনুযায়ী ‘তন্ত্রি’-র পদমর্যাদা ও দায়িত্বের উপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ওই ম্যানুয়াল অনুযায়ী, তন্ত্রির পদ দেবস্বম ব্যবস্থায় সহকারী কমিশনার স্তরের সমতুল্য।রিপোর্টে আরও বলা হয়েছে, মন্দিরের আচার-অনুষ্ঠান পরিচালনার পাশাপাশি দেবস্বম সম্পত্তি সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনায় তন্ত্রি অন্যতম শীর্ষ কর্তৃপক্ষ।
এই কারণেই তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগকে গুরুতর বলে উল্লেখ করেছে এসআইটি। তদন্তে ‘পদিতরম’ নামে যে পারিশ্রমিক তন্ত্রি পান, তা নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। আইনি ব্যাখ্যার পর এসআইটি জানিয়েছে, পদিতরম কোনও দান বা দক্ষিণা নয়, বরং দেবস্বম বোর্ড থেকে প্রদত্ত নিয়মিত পারিশ্রমিক। শনিবার রাজ্যের বিজেপির একদল নেতা চেঙ্গান্নুরে তন্ত্রির বাড়িতেও যান। এদিকে আগামী মঙ্গলবার তন্ত্রির জামিন আবেদন শুনানির জন্য তালিকাভুক্ত রয়েছে এবং ততদিন পর্যন্ত তিনি হাসপাতালেই থাকবেন বলে জানা গেছে।
