২০২৬ সালে পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে বিরোধী শিবির ঘুরে দাঁড়াতে পারবে কি না, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। জাতীয় রাজনীতিতে বিজেপির প্রভাব ও আধিপত্যের মধ্যে এই নির্বাচনগুলিকে বিরোধীদের জন্য ‘অগ্নিপরীক্ষা’ বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা।এই বছর যেসব রাজ্যে নির্বাচন হওয়ার কথা, সেখানে শাসকদল ও বিরোধী দলগুলির শক্তি-দুর্বলতা নতুন করে যাচাই হবে। লোকসভা নির্বাচনের পর রাজ্যস্তরে জনমতের দিক কোন দিকে যাচ্ছে, তা বোঝার ক্ষেত্রেও ২০২৬ সালের ভোট গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত দেবে। বিশেষ করে মূল্যবৃদ্ধি, কর্মসংস্থান, সামাজিক সুরক্ষা এবং রাজ্য-স্বার্থের মতো ইস্যুগুলি ভোটের ময়দানে কতটা প্রভাব ফেলতে পারে, সেদিকেই নজর থাকবে।
বিরোধী দলগুলির সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হল সংগঠনকে মজবুত করা এবং রাজ্যভিত্তিক স্পষ্ট রাজনৈতিক বার্তা তুলে ধরা। একাধিক রাজ্যে বিরোধী শিবির এখনও নেতৃত্ব সংকট ও অন্তর্দ্বন্দ্বে ভুগছে বলে অভিযোগ। জোট রাজনীতির ক্ষেত্রেও আসন বণ্টন ও সমন্বয় নিয়ে মতপার্থক্য প্রকাশ্যে আসছে, যা বিরোধীদের জন্য অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।অন্যদিকে, রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, যদি বিরোধীরা রাজ্যভিত্তিক ইস্যুকে গুরুত্ব দিয়ে মাঠে নামে এবং কেন্দ্রীয় রাজনীতির পাশাপাশি স্থানীয় সমস্যাগুলিকে সামনে আনে, তাহলে ভোটের ফলাফলে প্রভাব পড়তে পারে।
বিশেষ করে গ্রামীণ অর্থনীতি, কৃষক সমস্যা এবং যুবসমাজের কর্মসংস্থান প্রশ্নে সরকারবিরোধী মনোভাব তৈরি হলে তার প্রতিফলন দেখা যেতে পারে নির্বাচনী ফলাফলে।সব মিলিয়ে, ২০২৬ সাল বিরোধীদের জন্য শুধুমাত্র নির্বাচনের বছর নয়, বরং নিজেদের রাজনৈতিক দিশা ও বিশ্বাসযোগ্যতা প্রমাণের বড় সুযোগ। এই পাঁচটি নির্বাচনের ফলই ঠিক করে দেবে, আগামী দিনে জাতীয় রাজনীতিতে বিরোধী শিবির আদৌ ঘুরে দাঁড়াতে পারবে কি না।
