প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সাম্প্রতিক জিএসটি সংস্কারকে মধ্যবিত্ত ও নবমধ্যবিত্ত শ্রেণির প্রতি কৌশলগত এক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ভারতের প্রবৃদ্ধির কাহিনিতে এই দুই শ্রেণির অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নতুন কাঠামোর লক্ষ্য কর কাঠামো সরল করা, বোঝা কমানো এবং ভোগ বাড়ানো।
সংস্কারের ফলে জিএসটি কাঠামো দুইটি প্রধান স্ল্যাবে নামানো হয়েছে—৫ শতাংশ ও ১৮ শতাংশ। বিলাসী ও সিগারেট, মদ ইত্যাদি “সিন গুডস”-এর জন্য নির্ধারিত হয়েছে ৪০ শতাংশ ডিমেরিট ট্যাক্স। সাম্প্রতিক আয়কর ছাড়ের সঙ্গে মিলিয়ে নাগরিকরা বছরে প্রায় ২.৫ লাখ কোটি টাকা সাশ্রয় করতে পারবেন বলে আশা করা হচ্ছে।অত্যাবশ্যক ও জীবনযাপনের সামগ্রী যেমন মুদি জিনিসপত্র, ওষুধ, টেলিভিশন, ফ্রিজ, হোটেলে থাকা ইত্যাদি আরও সাশ্রয়ী হবে।
নবমধ্যবিত্তের জন্য এটি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ গত এক দশকে প্রায় ২৫ কোটি মানুষ দারিদ্র্য থেকে উঠে এসে এই শ্রেণির অংশ হয়েছে।তাদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নের আকাঙ্ক্ষা বাড়ছে এবং ভোগ বাড়াতে আগ্রহও প্রবল। টেক-সচেতন এই শ্রেণি জিএসটি ও পরিবারের বাজেটে পরিবর্তনের প্রতি অত্যন্ত সংবেদনশীল। তাই এই শ্রেণিকে স্বস্তি দেওয়া অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করতে পারে।তবে চ্যালেঞ্জও রয়ে গেছে। মুদ্রাস্ফীতি মধ্যবিত্ত ও দরিদ্র উভয়কেই চাপে ফেলছে, যা সংস্কারের সুফলকে আংশিকভাবে নষ্ট করতে পারে।
বাড়তে থাকা বেকারত্ব ও অসন্তোষ সরকারকে চিন্তায় ফেলছে। অন্যদিকে, মার্কিন শুল্ক বৃদ্ধি ও এইচ-১বি ভিসা ফি বৃদ্ধির মতো আন্তর্জাতিক প্রভাবও ভারতের অর্থনৈতিক গতি কমিয়ে দিতে পারে।এর পাশাপাশি, মেক ইন ইন্ডিয়ার মতো নীতিগুলো যদি শুধু প্রতীকী বা কpseudo-জাতীয়তাবাদী হিসেবে গণ্য হয়, তবে এর কার্যকারিতা প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে।
সামগ্রিকভাবে, এই জিএসটি সংস্কার মধ্যবিত্ত ও নবমধ্যবিত্তকে একত্রিত করতে প্রধানমন্ত্রীর কৌশলগত পদক্ষেপ হলেও, সামনে সরকারের বড় অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে।
