টেলিভিশন ও চলচ্চিত্র অভিনেত্রী প্রিয়া মারাঠে, আজ ৩১ আগস্ট ২০২৫ মুম্বইতে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন। তিনি জনপ্রিয় হিন্দি ধারাবাহিক ‘পবিত্র রিশতা’-তে তাঁর চরিত্রের জন্য সবচেয়ে বেশি পরিচিত ছিলেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল মাত্র ৩৮ বছর। গত এক বছর ধরে তিনি ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই করছিলেন এবং মুম্বইয়ের এক হাসপাতালে তিনি প্রয়াত হয়েছেন।
প্রিয়া মারাঠে হিন্দি ও মারাঠি বিনোদন জগতে নিজের আলাদা পরিচয় তৈরি করেছিলেন। ১৯৮৭ সালের ২৩ এপ্রিল মুম্বইয়ে জন্মগ্রহণ করেন প্রিয়া। সেখানেই পড়াশোনা শেষ করেন। ছোটবেলা থেকেই অভিনয়ের প্রতি তাঁর গভীর টান ছিল, যা তাঁকে শেষ পর্যন্ত রুপোলি পর্দা ও টেলিভিশনের জগতে নিয়ে আসে। তিনি মারাঠি টেলিভিশনে ‘ইয়া সুখানোয়া’ ধারাবাহিকের মাধ্যমে অভিনয়ে আত্মপ্রকাশ করেন।
পরে ‘চার দিবস সাসুচে’ তাঁকে ঘরে ঘরে পরিচিত মুখ করে তোলে। হিন্দি টেলিভিশনে তাঁর যাত্রা শুরু হয় বালাজি টেলিফিল্মসের ‘কসম সে’ ধারাবাহিক দিয়ে, যেখানে তিনি বিদ্যা বালি চরিত্রে অভিনয় করেন। পরবর্তীতে ‘কমেডি সার্কাস’-এর প্রথম মৌসুমে অংশ নিয়ে ভিন্নধর্মী প্রতিভা তুলে ধরেন।
তবে সারা দেশে তাঁর সবচেয়ে বেশি পরিচিতি এনে দেয় জি টিভির জনপ্রিয় ধারাবাহিক ‘পবিত্র রিশতা’। এখানে তিনি বর্ষা সতীশ চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন, যা দর্শকের মনে গভীর ছাপ রেখে গেছে। ২০১২ সালে তিনি সনি টিভির ‘বড়ে আচ্ছে লাগে হ্যায়’ ধারাবাহিকে জ্যোতি মালহোত্রার ভূমিকায়ও নজর কাড়েন।
বছরের পর বছর ধরে প্রিয়া একাধিক হিন্দি ও মারাঠি ধারাবাহিকে অভিনয় করেছেন, যার মধ্যে রয়েছে ‘তু তিথে মি’, ‘জয়স্তুতে’, ‘ভাগে রে মান’, এবং ‘ভারত কা বীর পুত্র – মহারানা প্রতাপ’।
২০০৮ সালে তিনি হিন্দি চলচ্চিত্র ‘হুমনে জীনা শেখ লিয়া’-তে অভিনয় করেন। পরবর্তীতে গোবিন্দ নিহালানির প্রশংসিত মারাঠি চলচ্চিত্র ‘তি আনি ইতার’-এ অভিনয় করেন, যেখানে সোনালি কুলকার্নি, সুবোধ ভাভে, অমৃতা সুভাষ ও ভূষণ প্রধানের মতো নামী অভিনেতাদের সঙ্গে স্ক্রিন শেয়ার করেছিলেন।
ব্যক্তিগত জীবনে, প্রিয়া ২০১২ সালে অভিনেতা শান্তনু মোগের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। দম্পতি প্রায়ই তাঁদের জীবনের মুহূর্ত ভক্তদের সঙ্গে ভাগ করে নিতেন।
