শুক্রবার কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বলেন, অতীতে রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে ভারত দীর্ঘমেয়াদি নীতি থেকে বঞ্চিত হয়েছে, যার ফলে দেশের সামগ্রিক অগ্রগতি ব্যাহত হয়েছে। কোচিতে এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি জানান, বহু-দলীয় সংসদীয় গণতন্ত্র সুদৃঢ় অভিপ্রায় নিয়ে গ্রহণ করা হলেও স্বাধীনতার তৃতীয় দশক থেকেই নানা ত্রুটি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে দূষিত করতে শুরু করে।
তিনি অভিযোগ করেন, জাতপাতের রাজনীতি, বংশানুক্রমিক রাজনীতি ও তুষ্টিকরণ দেশের গণতান্ত্রিক ম্যান্ডেটকে ক্ষতবিক্ষত করেছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছিল দুর্নীতি, যা শুধু উন্নয়নকেই আটকে দেয়নি বরং জনগণের ম্যান্ডেটকেও উপহাস করেছে। শাহ বলেন, “অস্থিরতার আবহে দেশ দীর্ঘমেয়াদি নীতি থেকে বঞ্চিত হয়েছিল। ২০১৪ সালে নরেন্দ্র মোদি প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর থেকে পারফরম্যান্সের রাজনীতির নতুন যুগ শুরু হয়েছে। জাতপাত, পরিবারতন্ত্র, তুষ্টিকরণের রাজনীতি সরে গিয়ে দেশ এক নতুন রূপান্তরের সাক্ষী হচ্ছে।” তিনি দাবি করেন, প্রধানমন্ত্রী মোদি নীতি ও কাঠামোগতভাবে দুর্নীতি দূর করতে সফল হয়েছেন। স্থিতিশীলতার কারণে দেশের অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক নিরাপত্তা, অবকাঠামো উন্নয়ন ও সমৃদ্ধি নিশ্চিত হয়েছে। অমিত শাহ বলেন, “একসময় দেশ অর্থনৈতিক অস্থিরতার শিকার ছিল।
প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী অটল বিহারী বাজপেয়ি আমাদের অর্থনীতিকে বিশ্বের ১১তম স্থানে উন্নীত করেছিলেন। মনমোহন সিং অর্থনীতিকে সেই অবস্থানে ধরে রাখার কাজ করেছিলেন। কিন্তু গত ১১ বছরে প্রধানমন্ত্রী মোদি অর্থনীতিকে বিশ্বের শীর্ষ চার অর্থনীতির মধ্যে নিয়ে এসেছেন।” তিনি জানান, অবকাঠামো থেকে শুরু করে নতুন প্রযুক্তি, স্টার্ট-আপ—সব ক্ষেত্রেই দেশ উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি করেছে।
আগামী ২৫ বছরে বৈশ্বিক অর্থনীতিকে প্রভাবিত করবে এমন খাতে ভারত নেতৃত্ব দিচ্ছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দাবি, উত্তর-পূর্ব, মাওবাদী অঞ্চল ও কাশ্মীর সমস্যায়ও বড় পরিবর্তন এসেছে—হিংসাত্মক ঘটনার সংখ্যা ৭০% কমেছে, মৃত্যুর হার ৭০% কমেছে এবং নিরাপত্তা বাহিনীর প্রাণহানিও ৭৪% হ্রাস পেয়েছে। সন্ত্রাস মোকাবিলায় সরকার শক্তিশালী ব্যবস্থা গড়ে তুলেছে এবং তা ইতিবাচক ফল দিচ্ছে। কেরল প্রসঙ্গে শাহ বলেন, রাজ্যের বিশাল সম্ভাবনা থাকলেও এক ধরনের মতাদর্শগত উদাসীনতা সেই সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে দিচ্ছে না। তাঁর অভিযোগ, বাম মতাদর্শ থেকে তৈরি উন্নয়ন মডেল কেরলের অগ্রগতিকে বাধাগ্রস্ত করছে।
