37 C
Kolkata
April 5, 2025
রাজ্য

রেশন দুর্নীতির পর প্রকাশ্যে ধান দুর্নীতি, জেনে নিন কিভাবে হত প্রসেস!

সংবাদ কলকাতা: রেশন দুর্নীতিকাণ্ডে ফের ইডি হেফাজত হয়েছে প্রাক্তন খাদ্যমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের। এই রেশন দুর্নীতির পর এবার আরও এক দুর্নীতির মামলার দিকে তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে ইডি। সেটি হল ধান দুর্নীতি। জানা গিয়েছে, ধান কেনার নামে তছরুপ হয়েছে সরকারি টাকা। ভুয়ো চাষিদের নামে অ্যাকাউন্ট তৈরি করে তুলে নেওয়া হয়েছে টাকা। এমনটাই অনুমান ইডির। এরফলে আরও চাপে পড়েছেন মন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক।

প্রসঙ্গত কেঁচো খুঁড়তে কেউটে বেরিয়ে পড়ার মতো রেশন দুর্নীতির তদন্ত করতে গিয়েই সামনে এসেছে ধান কেনায় দুর্নীতির ঘটনা। এমনটাই জানিয়েছে ইডি। জ্যোতিপ্রিয়কে যখন আদালতে তোলা হয়, তখন ইডি তাঁদের রিমান্ড লেটারে সেই তথ্য দিয়েছে। সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে, ধানচাষীদের কাছ থেকে সরকারি দামে ধান কেনে কো-অপারেটিভ সোসাইটিগুলি। ধানের দাম সরাসরি চাষিদের অ্যাকাউন্টে চলে যাওয়ার কথা। কিন্তু ইডি তদন্ত করে দেখেছে, ধান কেনার ক্ষেত্রে সরকার ও কোঅপারেটিভ সোসাইটিগুলির মধ্যে কোনও না কোনও এজেন্ট চলে আসছে। মিল মালিকরা ওইসব এজেন্টদের মাধ্যমে সরকারি রেটের থেকে কম দামে ধান কিনে নিত। ওই ধান কেনার জন্য খাতায় কলমে কারচুপি করা হতো।

তাহলে প্রসেস কিভাবে হত?
ইডির তদন্তে প্রকাশ্যে এসেছে, ওইসব এজেন্টরা প্রথমে কিছু ভুয়ো চাষিদের জোগাড় করে। যারা চাষি নয়, কিন্তু সাধারণ গ্রামবাসী। তাঁদের নামে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট খুলে সমবায় সমিতির খাতায় ওইসব চাষিদের দেখানো হয়। এরপর সমবায় সমিতি মারফত বাইরের ধান কিনে এইসব ভুয়ো চাষিদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে টাকা ঢোকানো হয়। সেই ধান সমবায় সমিতি মারফত মান্ডিতে না গিয়ে এজেন্টদের মারফত সরাসরি মিল মালিকের কাছে চলে যাচ্ছে। এজন্য সরকারি স্তরে বেশ কিছু পদ্ধতিগত কারচুপি করা হয়। পরে সেই টাকা ভুয়ো অ্যাকাউন্ট গ্রাহকদের কাছ থেকে এজেন্টরা তুলে নেয়। বিনিময়ে তাঁদের কিছু কমিশন দেয়। এরফলে দেখা যাচ্ছে, একটি কৃষিপ্রধান গ্রামে ধানের কার্ড নেই, এরকম পরিবার বা গ্রামবাসী খুব কমই আছে। সূত্রের খবর, এভাবে ধান কিনলে মিল মালিকদের প্রতি কুইন্টালে ২০০ টাকা লাভ হয়। ওই লাভের টাকায় মিল মালিক ছাড়াও এজেন্ট ও সরকারি আধিকারিকরা, এমনকি মন্ত্রীরাও লাভবান হয়েছেন বলে অনুমান ইডির।

এনিয়ে রাজ্যের প্রাক্তন খাদ্যমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিককে সম্প্রতি জিজ্ঞাসবাদ করেছে ইডি। জ্যোতিপ্রিয় ইডিকে যা জানিয়েছেন, তা হল তাঁর আমলে বিষয়টি নজরে আসে। তিনি সিআইডি-কে দিয়ে বিষয়টির তদন্তও করিয়েছিলেন। কিন্তু সেই তদন্তের অগ্রগতি কী, তা তিনি বলতে পারেননি। এই তথ্য সামনে আসার পর আরও একটি মামলা করতে চলেছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। অর্থাৎ এবার ধান দুর্নীতি মামলা করতে চলেছে ইডি। আজ ইডির তরফে সেই বিষয়ে রিমান্ড লেটার দেওয়া হয়েছে।

Related posts

Leave a Comment