সুভাষ পাল, ২৪ অক্টোবর: অবশেষে ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী হলেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত ঋষি সুনক। সম্প্রতি ব্রিটিশ মহিলা লিজ ট্রাসের পদত্যাগের পর প্রধানমন্ত্রী পদে শূন্যস্থান তৈরি হয়। তাঁর পদত্যাগ নিয়ে রাজনৈতিক মহলে নানান জল্পনা তৈরি হয়। গত নির্বাচনে অবাস্তব প্রতিশ্রুতি দিয়ে ব্রিটিশ নাগরিকদের মন জয় করেছিলেন লিজ ট্রাস।কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বভার গ্রহণের পর তাঁর দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়িত করতে পারেননি লিজ।
দেশের অর্থনৈতিক সঙ্কটের মধ্যে ক্ষমতায় আসার পর তাঁর ভূমিকা নিয়ে প্রবল প্রতিরোধ তৈরি হয়। তীব্র প্রতিবাদ ও সমালোচনার সম্মুখীন হন। তিনি বুঝতে পারেন, মানুষকে স্বপ্ন দেখিয়ে ক্ষমতায় আসা, আর সেই প্রশাসনিক শক্তিকে পরিচালনার মধ্যে বিস্তর ফারাক রয়েছে। কাজটা মোটেই সহজ নয়। অবশেষে ৪৫ দিন পর পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন কনজারভেটিভ পার্টির এই নেত্রী।
গত নির্বাচনের সময় প্রধানমন্ত্রী পদের প্রতিদ্বন্দ্বীতায় ঋষি সুনকও ছিলেন। তাঁকে নিয়ে আশাবাদী ছিলেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ নাগরিকরা। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী পদের দৌড়ে পিছিয়ে পড়েন ৪২ বছর বয়সী এই রাজনীতিবিদ। ইনফোসিস কর্তা এন আর নারায়ণ মূর্তির জামাই ঋষি সুনকের পরিবর্তে সেই পদে আসীন হন লিজ ট্রাস। লিজ পদত্যাগের পর ফের ঋষি সুনকের নাম সামনে চলে আসে।
কিন্তু তাঁর বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বীতা থেকে সরে আসেন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন। কারণ, তাঁর কাছে ন্যূনতম ১০০ আসন ছিল না। যুক্তরাজ্যের সংবাদ সংস্থা সূত্রের খবর, বরিসের কাছে মাত্র ৭৫ সাংসদের সমর্থন ছিল। অন্যদিকে সুনকের সমর্থনে রয়েছে ১৪৯ সাংসদ। সেজন্য তিনি রণে ভঙ্গ দেন। সামান্য কয়েকটি আসন হাতে নিয়ে লড়াইয়ের ময়দানে নামার সাহস দেখাননি পেনি মরডান্টও।
ফলে প্রথম ভারতীয় বংশোদ্ভূত প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নির্বাচিত হন ব্রিটেনের প্রাক্তন অর্থমন্ত্রী ঋষি সুনক। প্রভাবশালী ১৯২২ কমিটির চেয়ারম্যান গ্রাহাম ব্র্যাডি ঘোষণা করেন, ‘তাই কনজারভেটিভ পার্টির নেতা হিসেবে নির্বাচিত হলেন ঋষি সুনক।’
উল্লেখ্য, ইংরেজ একসময় সমগ্র ভারতবর্ষকে দখল করে সাম্রাজ্য বিস্তার করেছিল। তারপর আপামর ভারতীয়কে দমন, নিপীড়ন, শাসন, শোষণ ও নিয়ন্ত্রণ করেছিল। সেই ইংরেজ জাতির উত্তরসূরীদের এই প্রথম শাসন ও নিয়ন্ত্রণ করবে এক ভারতীয় বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ নাগরিক। এখনও পর্যন্ত ঋষি সুনকই ব্রিটেনের সর্বকনিষ্ঠ প্রধানমন্ত্রী। কিন্তু, তাঁর সামনে রয়েছে বেশ কিছু চ্যালেঞ্জ। সুনক সেই সমস্যাগুলির কতটা সমাধান করতে পারেন এখন সেটাই দেখার।