কর্ণুল:
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বৃহস্পতিবার আত্মবিশ্বাস প্রকাশ করে বলেন, “একবিংশ শতাব্দী হবে ভারতের শতাব্দী। একবিংশ শতাব্দী হবে ১৪০ কোটি ভারতীয়ের শতাব্দী।”আন্ধ্রপ্রদেশের কর্ণুল জেলার নান্নুরু গ্রামে আয়োজিত ‘সুপার জিএসটি সুপার সেভিং’ জনসভায় তিনি এই মন্তব্য করেন। এদিন প্রধানমন্ত্রী প্রায় ₹১৩,৪৩০ কোটি টাকার একাধিক উন্নয়ন প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন ও উদ্বোধন করেন।
মোদি জানান, এই প্রকল্পগুলি রাজ্যের সংযোগ ব্যবস্থা জোরদার করবে, শিল্পক্ষেত্রে গতি আনবে এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা সহজতর করবে।তিনি বলেন, সরকার সংযোগ ব্যবস্থার উন্নতিতে বিশেষ জোর দিচ্ছে এবং “বিকশিত ভারত”-এর লক্ষ্যে বহুমুখী অবকাঠামো গড়ে তোলা হচ্ছে।মোদি বলেন, “আন্ধ্রপ্রদেশ গৌরব ও সমৃদ্ধ সংস্কৃতির ভূমি, পাশাপাশি বিজ্ঞান ও উদ্ভাবনের কেন্দ্র। রাজ্যের তরুণ প্রজন্ম অত্যন্ত প্রতিভাবান এবং সম্ভাবনাময়।”
তিনি আরও বলেন, “আন্ধ্রপ্রদেশের আজ প্রয়োজন সঠিক দৃষ্টিভঙ্গি ও নেতৃত্ব, এবং মুখ্যমন্ত্রী চন্দ্রবাবু নাইডু ও উপমুখ্যমন্ত্রী পাওয়ান কল্যাণের নেতৃত্বে রাজ্য আজ সেই দিকেই এগোচ্ছে। কেন্দ্রীয় সরকারেরও পূর্ণ সমর্থন রয়েছে।”মোদি উল্লেখ করেন, গত ১৬ মাসে আন্ধ্রপ্রদেশ দ্রুত উন্নতির পথে এগিয়েছে। তিনি বলেন, “দ্বৈত ইঞ্জিন সরকার উন্নয়নের গতিতে দৌড়চ্ছে।”তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, ২০৪৭ সালে স্বাধীনতার ১০০ বছর পূর্তিতে ভারত হবে সম্পূর্ণ বিকশিত দেশ।প্রধানমন্ত্রী বলেন, “স্বর্ণআন্ধ্রের স্বপ্নই অনুপ্রেরণা দিচ্ছে বিকশিত ভারতের স্বপ্নকে।”মোদি জানান, সম্প্রতি গুগল আন্ধ্রপ্রদেশে ভারতের প্রথম কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) হাব গঠনের ঘোষণা দিয়েছে। “
এই হাবে থাকবে শক্তিশালী এআই অবকাঠামো, ডেটা সেন্টার, বিদ্যুৎ উৎপাদন ইউনিট এবং বিস্তৃত ফাইবার অপটিক নেটওয়ার্ক। একাধিক আন্তর্জাতিক সাবমেরিন কেবল বিশাখাপত্তনমে যুক্ত হবে, যা গোটা বিশ্বে সংযোগ দেবে,” বলেন মোদি।তিনি আরও বলেন, “এই প্রকল্পের মাধ্যমে বিশাখাপত্তনম ভারতসহ সমগ্র বিশ্বের এআই ও সংযোগের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠবে। এর জন্য আমি আন্ধ্রপ্রদেশের মানুষকে অভিনন্দন জানাই এবং মুখ্যমন্ত্রী নাইডুকে ধন্যবাদ জানাই তাঁর দূরদর্শী নেতৃত্বের জন্য।”
দিনের শুরুতে মোদি শ্রীশৈলম মন্দিরে পুজো দেন, এবং বলেন, “আমি গুজরাতের ভূমি সোমনাথের আশীর্বাদ পেয়েছি, বারাণসীর ভূমি বিশ্বনাথের সেবা করার সুযোগ পেয়েছি, আর আজ শ্রীশৈলমের আশীর্বাদ প্রাপ্ত হলাম।”তিনি শেষে বলেন, “আমি শিবাজি ইনস্পিরেশন সেন্টারে গিয়েছিলাম এবং ছত্রপতি শিবাজি মহারাজকে শ্রদ্ধা জানাই। ভারত আজ উন্নয়নের নতুন অধ্যায় রচনা করছে।”
