21 C
Kolkata
March 21, 2026
দেশ

ছত্তিশগড়ের বিজাপুর ও সুকমায় দুটি পৃথক অভিযানে খতম ১৪ মাওবাদী

সুকমা, ৩ জানুয়ারি– ছত্তিশগড়ের দুটি পৃথক অভিযানে ১৪ জন মাওবাদী খতম হয়েছে। এই দুটি সংঘর্ষের একটি ঘটে সুকমা জেলার কিস্তারাম এলাকায়। এখানে জঙ্গলে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে ১২ জন মাওবাদী খতম হয়েছে। শনিবার সুকমার পুলিশ সুপার কিরণ চহ্বণ জানান, নির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে জেলা রিজার্ভ গার্ড (ডিআরজি)-এর একটি দল ওই এলাকায় অভিযান চালায়। অভিযানের সময় নিরাপত্তা বাহিনী এগিয়ে যেতেই নকশালরা গুলি চালাতে শুরু করে, যার জবাবে ডিআরজি জওয়ানরা পাল্টা গুলি চালায়। সংঘর্ষস্থল থেকে স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানান পুলিশ সুপার। একে ৪৭, ইনসাস রাইফেল, প্রচুর কার্তুজ উদ্ধার করা হয় মাওবাদীদের কাছে থেকে।

একই সঙ্গে ছত্তিশগড়ের বিজাপুর জেলার দক্ষিণাঞ্চলেও পৃথক অভিযানে ডিআরজি জওয়ানদের সঙ্গে সংঘর্ষে আরও দুই মাওবাদীকে নিকেশ করা হয়। জানা গিয়েছে, ওই এলাকায় সশস্ত্র নকশালদের উপস্থিতির খবর পেয়ে তল্লাশি অভিযান শুরু করা হয়েছিল। পুলিশ সূত্রের খবর, শুক্রবার সন্ধ্যায় খবর আসে সুকমার কিস্তারাম এলাকার পামলুর গ্রামে জড়ো হয়েছেন মাওবাদীরা। সেই খবর পাওয়ার পরই ওই এলাকায় নিরাপত্তা বাহিনী অভিযান চালায়।

রাতেই অভিযানে নামে ডিস্ট্রিক্ট রিজার্ভ গার্ড (ডিআরজি)। পালোরি এবং পোটাকপল্লি এলাকায় শুরু হয় তল্লাশি। সেই সময় কিস্তারাম অঞ্চলের পামলুর গ্রামের কাছে মাওবাদীদের সঙ্গে গুলি বিনিময় শুরু হয়। গভীর রাত পর্যন্ত গুলির লড়াই চলে দু’পক্ষের। শনিবার সকালে পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সংঘর্ষে ১২ মাওবাদীর মৃত্যু হয়েছে। মৃতদের মধ্যে রয়েছেন কোন্টা এরিয়া কমিটির সেক্রেটারি সচিন মাংড়ু। বাকিদের শনাক্তকরণের কাজ চলছে। গোটা এলাকা জুড়ে মাওবাদীদের খোঁজে তল্লাশি জারি। বেশ কয়েকটি সূত্রের দাবি, এই সংঘর্ষে মাওবাদীদের এক কমান্ডারও নিহত হয়েছেন। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আকারশ গিরপুঞ্জের হত্যায় অভিযুক্ত ছিলেন তিনি।

বস্তার রেঞ্জের আইজি পি সুন্দররাজ জানান, ভোর প্রায় ৫টা নাগাদ নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে নকশালদের মুখোমুখি সংঘর্ষ শুরু হয় এবং এরপর থেকে কিছুক্ষণ অন্তর অন্তর গুলির লড়াই চলে। তল্লাশি অভিযানের সময় এখনও পর্যন্ত দু’জন মাওবাদীর দেহ উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি। সূত্রের খবর, এদিন কিস্তারামে মাওবাদীদের বেশ কয়েক জন ডিভিশনাল কমিটি মেম্বার (ডিভিসিএম) জড়ো হয়েছিলেন। সন্দেহ করা হচ্ছে, উচ্চপর্যায়ের কোনও বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছিল।

উল্লেখ্য, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ২০২৬ সালের ৩১ মার্চের মধ্যে দেশ থেকে নকশালবাদ নির্মূলের যে সময়সীমা বেঁধে দিয়েছেন, তা সামনে রেখে নিরাপত্তা বাহিনী বামপন্থী চরমপন্থার বিরুদ্ধে অভিযান আরও জোরদার করেছে। গত বছরে বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে ছত্তিশগড়ে ২৮৫ জন মাওবাদী নিহত হয়। গত বছর অর্থাৎ ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত বস্তার ডিভিশনের বিভিন্ন জেলার জঙ্গলে নিরাপত্তা বাহিনীর জোরদার অভিযান চলে। তাতে মোট ২৫৭ জন মাওবাদী নিহত হয়েছে। বাকি ২৭ জনের মৃত্যু হয়েছে গরিয়াবন্দ জেলা এবং রায়পুর ডিভিশনে। এবার ২০২৬ সালের শুরুতেই নিহত হয়েছে আরও ১৪ মাওবাদী।

Related posts

Leave a Comment