উত্তর কলকাতার তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী সুদীপ বন্দোপাধ্যায়ের প্রধান নির্বাচনী কার্যালয়ের একতলায় লাগাতার ধরনায় দলেরই এক কাউন্সিলর৷ কলকাতা পুরসভার ৪৯ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মোনালিসা বন্দ্যোপাধ্য়ায় শুক্রবার রাত সাড়ে ৮টা থেকে এই কার্যালয়ের একতলার একটি ঘরে প্রায় ২০ জন অনুগামীকে সঙ্গে নিয়ে ধরনায় বসেন৷ এবং কিছুটা নাছোড়বান্দা মনোভাব নিয়েই৷ প্রায় ১৪ ঘণ্টা, রাতভর ধরনার পর, অবশেষে শনিবার সকালে ধরনা তুলে নেন কাউন্সিলর মোনালিসা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ তাঁর দাবি, দেবাশিস নামে ৪৯ নম্বর ওয়ার্ড অর্থাৎ ওয়েলিংটন স্কোয়ার এলাকার এক তৃণমূল নেতা তাঁকে বারে বারে কাজে বাধা দিচ্ছেন৷ তাঁর অনুগামীদের নিয়মিত হুমকি দেওয়া হচ্ছে৷ মাস চারেক ধরেই বিষয়টা চলছে৷ একাধিকবার সুদীপ বন্দোপাধ্যায়ের এস এন ব্যানার্জি রোডের বাসস্থানে গিয়ে তাঁর সঙ্গে দেখা করে তিনি বিষয়টি জানিয়ে এসেছেন৷ কিন্ত্ত ফল হয়নি৷ তাই এবার গোটা বিষয়ের একটা হেস্তনেস্ত না হওয়া পর্যন্ত তিনি এই জায়গা থেকে নড়বেন না বলে দাবি করেন মোনালিসা৷ উল্টোদিকে মানিকতলা বাজারে প্রচার সারতে সারতে এই ঘটনা নিয়ে মুখ খুলেছেন উত্তর কলকাতার বিজেপি প্রার্থী তাপস রায়৷ সুদীপ বন্দোপাধ্যায়ের প্রধান নির্বাচনী কার্যালয়ের নীচে মোনালিসার ধরনা নিয়ে তির্যক মন্তব্য তাপস রায়ের৷ শুধু এটা একটা ওয়ার্ড নয়৷ শুধু মোনালিসা নয়৷ প্রতিটি কাউন্সিলর একই ধরনের অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরে করে এসেছেন এবং করে থাকেন৷ তাতে কর্ণপাত করা হয় না৷ তাপস রায়ের দাবি, দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায় বা সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্য়ায়ের কে কতটা অনুগামী, সেটা সুদীপ বন্দোপাধ্যায়ের কনসার্ন নয়৷ জোড়া মোমবাতি নিয়ে কে কতটা আগ্রহী সেটাই তাঁর কনসার্ন৷ একসময় উত্তর কলকাতায় তৃণমূলের গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক দায়িত্ব সামলেছেন তাপস রায়৷ একেবারে ভোটের মুখে এই ঘটনা কি তাঁকে বাড়তি সুবিধা করে দিল? তাপস রায়ের জবাব, এই ধরনের ঘটনায় তাঁর কিছু যায় আসে না৷ উত্তর কলকাতায় তৃণমূল কংগ্রেসে এই ধরনের ঘটনা আকছার ঘটতেই থাকে৷
previous post